ফোরলানকে বলা হয় উরুগুয়ের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার। বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ঢাকতে তাই তার কাঁধেই তুলে দিলেন ফুটবল ভার সইবার দায়িত্ব। উরুগুয়ের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এইউএফ) গতকাল ডাগআউটের এই নতুন বসের নাম ঘোষনা করেছে।
ফোমূলতঃ উরুগুয়ে জাতীয় দল ও অনূর্ধ্ব-২০ দলের নতুন কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক তারকা ফরোয়ার্ড দিয়েগো ফোরলান। গতকাল বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করে দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। বিশ্বকাপে জয়হীন গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর সরে দাঁড়াতে হয় কোচ মার্সেলো বিয়েলসাকে। তার জায়গায় উরুগুয়ে ফুটবলের বস হয়ে ফিরলেন ৪৭ বছর বয়সী ফোরলান।
ফোরলান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ ও ইন্টার মিলানের হয়ে ফুটবল খেলেছেন। তবে সাবেক স্ট্রাইকার প্রথম দায়িত্ব শুরু করবেন অনূর্ধ্ব-২০ দলের মাধ্যমে।
উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এইউএফ)জানিয়েছে, ‘যেখানে ফোরলান অবিস্মরণীয় ইতিহাস লিখেছেন, আজ সেখানেই ফিরে এলেন তিনি। প্রজন্মের রত্ন ফোরলান তার অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব ও ফুটবলের গভীর জ্ঞান দিয়ে জাতীয় দলকে এগিয়ে নিতে ফিরেছেন জাতীয় দলে।
উরুগুয়ের জার্সিতে ফোরলান ১১২ ম্যাচ খেলে ২০১১ সালে দলকে কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতাতে মূল কাণ্ডারির ভূমিকা পালন করেছিলেন। ২০১৯ সালে খেলা ছাড়ার পর উরুগুয়ান ক্লাব পেনারোল ও আতেনাসের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। কোচ ফোরলানের নতুন যাত্রা শুভ হোক।
ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রকল্প ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে ঐক্য ও আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মরক্কোর রাজধানী রাবাতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে অংশ নেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম এবং ফিফা ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের সদস্যরা।
বৈঠক শেষে ফিফা জানায়, সংস্থার ২১১টি সদস্য দেশের ভোটে নির্বাচিত একমাত্র সভাপতি হিসেবে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন শীর্ষ কর্মকর্তারা। অন্যদিকে মহাসচিব ও ফিফা প্রশাসনের কাজের প্রশংসা করে তাদের প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানান ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ।
বৈঠকে ফিফার অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, যোগাযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে স্বীকার করা হয়, সম্প্রতি প্রত্যাহার করা ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ প্রকল্পের ক্ষেত্রে কিছু ভুল হয়েছিল এবং পুরো প্রক্রিয়া আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা উচিত ছিল।
ফিফা জানায়, এই প্রকল্প নিয়ে সদস্য দেশ ও ফিফা কাউন্সিলকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন মনে হওয়া মোটেই উদ্দেশ্য ছিল না। পাশাপাশি প্রস্তাবটি গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতেও কিছু ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেছে সংস্থাটি।
এ ঘটনায় ফিফা কাউন্সিল ও সদস্য দেশগুলোর কাছে পৃথক চিঠির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে পরবর্তী কাউন্সিল সভায় একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।
এর আগে ইনফান্তিনো ঘোষণা দিয়েছিলেন, সদস্য দেশগুলোর মতামতের ভিত্তিতে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ প্রকল্পটি আর এগিয়ে নেওয়া হবে না। রাবাতের বৈঠকেও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।
তবে একই সঙ্গে ফিফা কঠোর বার্তা দিয়েছে যে, প্রকল্পটি প্রত্যাহারের পর সংস্থার সুনাম, স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের ভিত্তিহীন আক্রমণ সহ্য করা হবে না। ফিফার ভাবমূর্তি ও অখণ্ডতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
ফিফা আরও উল্লেখ করেছে, পুরো প্রক্রিয়ায় কিছু ভুল থাকলেও সংস্থার সব কার্যক্রম বিদ্যমান নিয়ম ও বিধিমালার আওতাতেই পরিচালিত হয়েছে। ভবিষ্যতে সদস্য দেশ, মহাদেশীয় কনফেডারেশন ও আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করে ফিফা ফরোয়ার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়ন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের হেড অব টার্ফ ম্যানেজমেন্ট টনি হেমিং অভিযোগ করেছেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্রধান কিউরেটর বদিউল আলম খোকনের বিরুদ্ধে। তবে টনি ও খোকনের বিবাদকে মনোমালিন্য বলেছেন গ্রাউন্ডস বিভাগের সদস্য সচিব মাজহার উদ্দিন। বলেন, ‘কিউরেটর ও মাঠকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া আছে টনিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার। একসঙ্গে কাজ করতে গেলে কখনও কখনও মনোমালিন্য থেকে অনুযোগ করা অস্বাভাবিক কিছু না।’
বিসিবির একটি সূত্র জানায়, টনির অভিযোগ হলো–তাঁকে না জানিয়ে মিরপুরে সেন্টার উইকেটে ক্রিকেটারদের অনুশীলন করতে দেওয়া হয় আবার তাঁর সামনে মাঠকর্মীদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলেন খোকন! টনি আশা করেন তার সামনে যেন ইংলিশেই বুঝিয়ে দেওয়া হয় মাঠকর্মীদের। শেরেবাংলার প্রতিটি দেখভাল করতে হয় তাঁকেই। অভিজ্ঞ কিউরেটর হওয়ার পরও নিজেকে আপগ্রেড করতে চান না খোকন।
টনি হেমিংয়ের দায়িত্বঃ
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সব ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টিং উইকেট গড়ে তোলা, বিসিবির বিদ্যমান কিউরেটরদের প্রশিক্ষিত করা এবং নতুন কিউরেটর তৈরি করার জন্য টনিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে টার্ফ ম্যানেজমেন্ট প্রধান হিসেবে। তিনি সে কাজ ভালোভাবে করছেন বলে মনে করে গ্রাউন্ডস বিভাগ।
উইকেট নিয়ে অভিযোগঃ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সিরিজ ও ঘরোয়া লিগের উইকেট নিয়ে এখন আগের মতো আর অভিযোগ নেই তারকা ক্রিকেটারদের। টনি দায়িত্ব নেওয়ার পর এই বছর মিরপুর, সিলেট ও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত প্রতিটি আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলা হয়েছে স্পোর্টিং উইকেটে। তাঁর নির্দেশনা অনুসরণ করেই উইকেট গুলো প্রস্তুত করেছিলেন কিউরেটররা। তাই খোকনের বিরুদ্ধে হঠাৎ অসহযোগিতার অভিযোগ নিয়ে জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের।
অভিযোগ সম্পর্কে গ্রাউন্ডস কমিটির সদস্য সচিবঃ
টনির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে গ্রাউন্ডস কমিটির সদস্য সচিব বলেন, টনির নির্দেশ মেনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া আছে সবাইকে। আমরা কোথাও সমস্যা দেখতে পেলে ঠিক করে ফেলি। খোকন ভাই আর টনির মধ্যে দূরত্বও থাকবে না, আশা করি।
খোকনের অভিযোগঃ অভিযোগ সম্পর্কে কিউরেটর খোকনের কাছে জানতে চাওয়া হলে বলেন, ‘মিরপুরের প্রধান কিউরেটর আমি। টনি হেড অব টার্ফ ম্যানেজমেন্ট, পুরো দেশের দায়িত্বে। প্রধান কিউরেটর হিসেবে আমার তো কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া ও নির্দেশনা দেওয়ার এখতিয়ার থাকে। আন্তর্জাতিক ম্যাচের উইকেট বানাই আমি। শেষ সময়ে এসে পরখ করে দেখেন তিনি। টনি মাঠেই আসেন বেলা ১১টায়, চলে যান বিকেল ৪টায়। আমি সকাল ৭টায় আসি, সন্ধ্যা ৬টায় বের হই। সরকারি ছুটির দিনেও আসেন না তিনি। বৃহস্পতিবার ২টায় চলে যান। আমি তো ঘড়ি ধরে ৮ ঘণ্টা কাজ করি না।
সারকথাঃ টনি এবং খোকনের মনোমালিন্য কোন ভাবেই কাম্য নয়। তবে একসাথে কাজ করতে গেলে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে সেটা যেন এর বেশী না হয় ঠিকঠাকভাবে মিটমাট করা হয়। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে আমরা আন্তর্জাতিক ম্যাচ গুলোতে স্পোর্টিং উইকেট এমনকি মিরপুর যেখানে দেখতাম স্পিনিং উইকেট সেখানেও পেসারদের উইকেট নিতে দেখেছি তাই টনি-খোকন রসায়ন দেশের ক্রিকেটের জন্য খুবই প্রয়োজন।
একটি তারিখ কখনো কখনো ক্যালেন্ডারের পাতায় আটকে থাকে না। হয়ে ওঠে স্মৃতি, আবেগের ঠিকানা, কখনো বা পুরোনো ক্ষতের ওপর হাত রেখে দেওয়া এক প্রতীকী স্পর্শ। আর্জেন্টিনার জন্য ১৫ জুলাই এখন তেমনই একটি দিন। বিশ্বকাপ জয়ের দিন নয়, শিরোপা হাতে তুলে নেওয়ার দিনও নয়-তারপরও এই তারিখটিই এবার পেল বিশেষ মর্যাদা। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) ১৫ জুলাইকে ঘোষণা করেছে জাতীয় ফুটবল দল দিবস হিসেবে।
সিদ্ধান্তটি প্রথম শুনলে বিস্ময় জাগতেই পারে। তিনবার বিশ্বকাপ জিতেছে আর্জেন্টিনা। ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২-তিনটি বিশ্বজয়েরই রয়েছে নিজস্ব মহিমা, নিজস্ব ইতিহাস। অথচ সেই তিনটি দিনের কোনোটিই জাতীয় ফুটবল দল দিবস হিসেবে বেছে নেয়নি এএফএ। কেন?
উত্তরটি খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় ইংল্যান্ডের দিকে। ফিরে যেতে হয় ফুটবল, যুদ্ধ, রাজনীতি আর জাতীয়তাবোধের এক জটিল ইতিহাসের দিকে। ১৫ জুলাইয়ের সঙ্গে আর্জেন্টিনার ফুটবল স্মৃতির গভীর যোগ তৈরি হয়েছে ইংল্যান্ডকে ঘিরেই। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে দুর্দান্ত জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছিল লিওনেল মেসির দল। সেই জয় শুধু একটি ম্যাচের জয় ছিল না; আর্জেন্টাইন ফুটবলপ্রেমীদের কাছে সেটি হয়ে উঠেছিল পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে আরেকটি প্রতীকী বিজয়।
এই সেই ব্যানার, যা নিয়ে বিশ্বকাপে উত্তাপ ছড়ায়
তাই বিশ্বজয়ের তিনটি দিনকে পাশে রেখে ১৫ জুলাইকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে আবেগের পাশাপাশি বার্তাও স্পষ্ট। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাওয়া সেই জয়কে প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্মরণ করিয়ে দিতে চায় আর্জেন্টিনা। তবে গল্পটা শুধু ফুটবলের নয়। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের বিরোধ এই আবেগকে আরও তীব্র করেছে। ফুটবলের মাঠে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা সেই রাজনৈতিক ইতিহাসও মাঠে টেনে এনেছিলেন। ম্যাচ শেষে একটি ব্যানার প্রদর্শন করা হয়েছিল, যেখানে লেখা ছিল-‘ফকল্যান্ড আমাদেরই।’
ফকল্যান্ড নিয়ে ১৯৮২ সালের যুদ্ধ দুই দেশের ইতিহাসে গভীর ক্ষত তৈরি করে গেছে। সেই ক্ষত পুরোপুরি শুকায়নি। ফুটবল তাই দুই দেশের দ্বৈরথে বহু সময় শুধু ৯০ মিনিটের খেলা হয়ে থাকেনি; হয়ে উঠেছে জাতীয় আবেগেরও বাহক। আর এই দ্বন্দ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে উজ্জ্বল ফুটবলীয় অধ্যায়গুলোর একটি লেখা হয়েছিল ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে।
মেক্সিকোর মাটিতে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচেই দিয়াগো ম্যারাডোনা ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত দুটি গোল করেছিলেন। প্রথমটি ‘হ্যান্ড অব গড’- হাত দিয়ে করা গোল, যা নিয়ে আজও বিতর্কের শেষ নেই। আর মাত্র কয়েক মিনিট পরেই একক নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডের একের পর এক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে করা সেই গোল, যেটি পরবর্তীতে পরিচিতি পায় ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে।
ম্যারাডোনার সেই দুই গোল যেন দুই বিপরীত গল্পের এক ফ্রেম। একদিকে বিতর্ক, অন্যদিকে শিল্প। কিন্তু ফলাফল ছিল একই-আর্জেন্টিনা জিতেছিল ২-১ গোলে। পরে সেই বিশ্বকাপও জিতেছিল তারা। ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই জয় আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে আলাদা একটি অধ্যায় হয়ে আছে।
দুবাইয়ে বসছে নারী ক্রিকেটের এশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) জানিয়েছে, আগামী ২৮ আগস্ট শুরু হবে নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ। আট দলের এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল ১৩ সেপ্টেম্বর। পুরো আসরের ম্যাচগুলো হবে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে, সবগুলোই দিবারাত্রির আবহে।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে হংকং চায়না ও থাইল্যান্ড। তবে আসরের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত লড়াইয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ওই দিন গ্রুপ ‘এ’-এর ম্যাচে মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। দুই দলের লড়াই ঘিরে বরাবরের মতোই বাড়তি উত্তেজনা থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে।
গ্রুপ ‘এ’-তে ভারত, পাকিস্তান, হংকং চায়না ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে লড়াই করবে দলগুলো। অন্যদিকে গ্রুপ ‘বি’-তে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ৬ সেপ্টেম্বর, প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা।
গ্রুপপর্বে প্রতিটি দল নিজেদের গ্রুপের অন্য তিন দলের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল জায়গা করে নেবে সেমিফাইনালে। ১০ সেপ্টেম্বর হবে প্রথম সেমিফাইনাল-গ্রুপ ‘এ’-র চ্যাম্পিয়ন মুখোমুখি হবে গ্রুপ ‘বি’-র রানার্সআপের। পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে খেলবে গ্রুপ ‘এ’-র রানার্সআপ ও গ্রুপ ‘বি’-র চ্যাম্পিয়ন।
এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর মাঠে গড়াবে শিরোপা নির্ধারণী লড়াই। প্রতিটি ম্যাচ শুরু হবে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। ফলে দুবাইয়ের রাতের আলোয় হবে পুরো টুর্নামেন্টের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই।
নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ
টি-টোয়েন্টি সংস্করণে এটি নারী এশিয়া কাপের ষষ্ঠ আসর। এই সংস্করণে সবচেয়ে সফল দল ভারত। ২০১২, ২০১৬ ও ২০২২ সালে-তিনবার শিরোপা জিতেছে তারা। বাংলাদেশেরও রয়েছে এই টুর্নামেন্টে স্মরণীয় সাফল্য। ২০১৮ সালে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নারী এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা। গত আসরে শিরোপা জিতে ইতিহাসে নিজেদের নাম লিখিয়েছে তারা। এবার সেই শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামবে লঙ্কানরা। অন্যদিকে ভারত চাইবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রতিষ্ঠা করতে, আর বাংলাদেশ চাইবে ২০১৮ সালের সাফল্যের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে আবারও এশিয়ার সেরা হতে।
আট দল, এক ট্রফি। ২৮ আগস্ট থেকে দুবাইয়ে শুরু হবে সেই লড়াই। আর ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ থাকবে বিশেষ করে ৫ সেপ্টেম্বরের দিকে-যেদিন এশিয়া কাপের মঞ্চে আবারও মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান।
কোন গ্রুপে কারা-
গ্রুপ ‘এ’ : ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, হংকং
গ্রুপ ‘বি’: শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া
বাংলাদেশের ম্যাচ কবে-
৩১ আগস্ট, বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া, রাত ৯–৩০ মি. ৬ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা, রাত রাত ৯-৩০ মি. ৮ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশ-সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাত রাত ৯-৩০ মি.
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব ও মুনাফার অংশীদারত্ব বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে এসে ভুল স্বীকার করেছে ফিফা। কিন্তু তাতেও কাটছে না সংকট। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ক্ষমা চাওয়ার পরও তাঁর নেতৃত্বে আস্থা ফিরিয়ে নেয়নি ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। বরং বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকি বহাল রেখেছে তারা।
মরক্কোর রাবাতে বুধবার ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর সংস্থাটি স্বীকার করে, বিশ্বকাপের মুনাফা একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ‘ভুল’ হয়েছিল। একই সঙ্গে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্ব ইনফান্তিনোর সভাপতিত্বের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। ফিফা আশা প্রকাশ করে, এই বৈঠক ও ভুল স্বীকারের মাধ্যমে সাম্প্রতিক অস্থিরতার পর সংগঠনটির প্রতি আস্থা পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে। কিন্তু ফিফার সেই অবস্থানকে প্রত্যাখ্যান করেছে উয়েফা।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে উয়েফা জানায়, ফিফার প্রতিযোগিতায় অংশ না নেওয়ার বিষয়ে ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলোর অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত। সংস্থাটির দাবি, বয়কট প্রত্যাহারের জন্য দুটি শর্ত ছিল-প্রথমত, ফিফার বড় প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব বা মালিকানা বিক্রির প্রস্তাব পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে; দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে ফুটবলের কাঠামোকে এভাবে পরিবর্তন করার কোনো উদ্যোগ আর নেওয়া হবে না-এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে।
উয়েফার ভাষ্য, দুটি শর্তের কোনোটিই যথাযথভাবে পূরণ হয়নি। এর সঙ্গে আরও বড় একটি রাজনৈতিক ও নেতৃত্বসংক্রান্ত সংকটের কথাও সামনে এনেছে ইউরোপীয় সংস্থাটি। উয়েফা বলেছে, তারা ইতিমধ্যে ইনফান্তিনোর সভাপতিত্বের ওপর আস্থা হারানোর কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল এবং সেই অবস্থান এখনো বহাল রয়েছে।
ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থনের ঘোষণাকেও গুরুত্ব দিতে নারাজ উয়েফা। তাদের বক্তব্য, ফিফা সভাপতির অধীনে কর্মরত কর্মকর্তারা তাঁর প্রতি সমর্থন জানানোয় পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এই মন্তব্যে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে চলমান দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে।
একদিকে সমর্থন, অন্যদিকে অনাস্থা
ফিফার বৈঠকের পর ইনফান্তিনোকে ঘিরে সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তারা ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ছবি তুলে ধরলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর সমর্থন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ব ফুটবলারদের সংগঠন ফিফপ্রো ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার গভীর অপব্যবহারের’ অভিযোগ তুলেছে। একই সময়ে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও তাঁর পুনর্নির্বাচনে সমর্থন প্রত্যাহার করেছে।
মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও চলমান সংকটকে ফুটবল প্রশাসনে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ফলে একদিকে ফিফার অভ্যন্তরে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থনের ঘোষণা, অন্যদিকে ইউরোপীয় ফুটবল প্রশাসন, খেলোয়াড়দের সংগঠন ও ইংল্যান্ডের ফুটবল কর্তৃপক্ষের বিরোধিতা-সব মিলিয়ে তাঁর নেতৃত্ব এখন বড় পরীক্ষার মুখে।
আফ্রিকার সমর্থন ইনফান্তিনোর পাশে
ইউরোপে যখন ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনাস্থা বাড়ছে, তখন তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে আফ্রিকা মহাদেশ।বৃহস্পতিবার আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) জানায়, তাদের নির্বাহী কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে ফিফা সভাপতির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। আফ্রিকান ফুটবলের উন্নয়নে ইনফান্তিনোর ভূমিকার জন্য তাঁকে ধন্যবাদও জানিয়েছে সংস্থাটি।
ফিফা ও উয়েফা লোগো
সিএএফ সভাপতি প্যাট্রিস মোটসেপে বলেন, ফিফার বুধবারের বিবৃতিকে সংস্থাটি সর্বসম্মতিক্রমে সমর্থন করেছে।
অর্থাৎ ইনফান্তিনোকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ফুটবলের অবস্থান এখন স্পষ্টতই দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে-একদিকে উয়েফা-র নেতৃত্বে ইউরোপের অনাস্থা, অন্যদিকে সিএএফ-এর প্রকাশ্য সমর্থন।
উত্তর আমেরিকা ও এশিয়াও ছিল বিরোধিতায়
বিশ্বকাপের মুনাফা বিক্রির ফিফার বিতর্কিত পরিকল্পনা শুরু থেকেই সর্বসম্মত সমর্থন পায়নি। উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)ও প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছিল।
পরবর্তীতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ফিফা পরিকল্পনাটি বাতিল করে দেয়। ফিফার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যেও এই উদ্যোগ নিয়ে দূরত্ব তৈরি হয়। আর্সেন ওয়েঙ্গারসহ সংস্থাটির কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিও পরিকল্পনা থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেন।
ফিফার মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রমও বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানানো শীর্ষ নেতৃত্বের দলে ছিলেন।
এখন প্রশ্ন, পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
বিশ্বকাপ বেসরকারিকরণের পরিকল্পনা বাতিল হলেও এর রাজনৈতিক অভিঘাত এখনো শেষ হয়নি। উয়েফা-র সদস্য দেশগুলো যদি সত্যিই ফিফার প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করে, তাহলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা বিশ্বকাপও বড় সংকটে পড়তে পারে।
কারণ ইউরোপের দেশগুলো শুধু ফিফার প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান অংশগ্রহণকারীই নয়, বিশ্ব ফুটবলের আর্থিক ও বাণিজ্যিক কাঠামোরও বড় অংশীদার।
ইনফান্তিনো তাই আপাতত দুটি বিপরীত বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সিএএফ-এর সমর্থন, অন্যদিকে উয়েফা-র প্রকাশ্য অনাস্থা, ইংল্যান্ডের সমর্থন প্রত্যাহার এবং ফিফপ্রো-র কঠোর সমালোচনা।
মাত্র ২৫ বছর বয়সেই পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ইংল্যান্ডের তরুণ ফাস্ট বোলার জন টার্নার। দীর্ঘদিন ধরে পিঠের চোটে ভোগার পর শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট ক্যারিয়ার থামানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে জন্ম নেওয়া টার্নার ২০২৪ সালের শেষ দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ইংল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক করেন। জাতীয় দলের জার্সিতে দুটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে তিনটি উইকেট শিকার করেন তিনি।
গত বছরের জুনের পর থেকে চোটের কারণে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন এই ডানহাতি পেসার। হ্যাম্পশায়ারের সঙ্গে আরও দুই বছরের চুক্তি থাকলেও বারবার একই চোট ফিরে আসায় পেশাদার ক্রিকেট চালিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অবসরের ঘোষণা দিয়ে টার্নার বলেন, ‘পেশাদার ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা ছিল আমার ছোটবেলার স্বপ্ন। হ্যাম্পশায়ার এবং ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে পারা সেই স্বপ্ন পূরণের মতোই ছিল। কিন্তু স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের কারণে এক বছরেরও বেশি সময় মাঠের বাইরে থাকা এবং আগের চোটের ইতিহাস আমাকে ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।’
টার্নারের বিদায়ে হতাশ হ্যাম্পশায়ারও। ক্লাবটির ক্রিকেট পরিচালক জাইলস হোয়াইট বলেন, ‘জন একজন অসাধারণ প্রতিভা ছিল। পেশাদার ক্রিকেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত আমাদের সবার জন্যই খুব কষ্টের। হ্যাম্পশায়ার পরিবারের সবাই তার ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছে।’
ক্যারিয়ারের শুরুতেই সম্ভাবনার ঝলক দেখানো এই পেসারের জন্য চোটই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াল। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই তাই থেমে গেল তার পেশাদার ক্রিকেট যাত্রা।
নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)। বৃহস্পতিবার ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান একই গ্রুপে পড়েছে। বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ টুর্নামেন্টে নিজেদের অভিযান শুরু করবে ৩১ আগস্ট। প্রথম ম্যাচে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল মুখোমুখি হবে ইন্দোনেশিয়ার।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ। ২৮ আগস্ট উদ্বোধনী ম্যাচে থাইল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হংকং। একদিন পর ২৯ আগস্ট মাঠে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা, তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত।
৩০ আগস্ট টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ভারত। সেদিন তাদের প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড। এরপর ৩১ আগস্ট বাংলাদেশের পাশাপাশি মাঠে নামবে ইন্দোনেশিয়াও।
১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান খেলবে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে। ২ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। ৩ সেপ্টেম্বর ভারত মুখোমুখি হবে হংকংয়ের। ৪ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়া খেলবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে। ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াই, যেখানে মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ খেলবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান লড়বে হংকংয়ের সঙ্গে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ৯ সেপ্টেম্বর, প্রতিপক্ষ স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল জায়গা করে নেবে সেমিফাইনালে। দুই সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর। আর শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল মাঠে গড়াবে ১৩ সেপ্টেম্বর।
টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচ বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হবে।এবারের আসরে ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও হংকং। ‘বি’ গ্রুপে জায়গা পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়া।
এশিয়া কাপ স্কেট ট্র্যাক সিরিজ ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে সাফল্যের প্রত্যাশা নিয়ে চীন যাচ্ছে বাংলাদেশ স্কেটিং দল। ১০ থেকে ১২ আগস্ট চীনের লিশুই শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের হয়ে অংশ নেবেন ২২ জন স্কেটার।
দলের বহরে রয়েছেন ৯ জন নারী ও ১৩ জন পুরুষ স্কেটার। তাদের সঙ্গে পাঁচজন কর্মকর্তা থাকায় মোট ২৭ সদস্যের প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার রাতে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আজ রাতে ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ দল।
এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে স্বাগতিক চীন ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, রাশিয়া ও তাইওয়ানের মতো শক্তিশালী দেশ। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা অপেক্ষা করলেও আগের সাফল্য থেকেই আত্মবিশ্বাস খুঁজছে বাংলাদেশের স্কেটাররা।
গত বছর আন্তর্জাতিক এক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দুটি স্বর্ণ ও দুটি ব্রোঞ্জ পদক জিতে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছিল। সেই আসরে নাবীয়ুন ইসলাম ৫০০ মিটার স্পিড রেস এবং ১,০০০ মিটার স্প্রিন্ট ইভেন্টে দুটি স্বর্ণপদক জিতে আলোচনায় আসেন। এবারও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার আশা করছেন দলের সদস্যরা।
চীনে যাত্রার আগে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয়। এ সময় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী ফুল দিয়ে খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্কেটিং ফেডারেশনের সভাপতি ড. কামরুজ্জামান কায়সার, সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন এবং বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুমিন সাদ্দাম উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ স্কেটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান বলেন, গতবারের অর্জন দলকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। এবারও স্বর্ণপদক জয়ের লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছে। তাঁর আশা, খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে দেশের জন্য আরও একটি সফল অধ্যায়ের সূচনা হবে।