Home Blog Page 64

জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকায় অনিয়ম দমনে শুক্রবার থেকে মোবাইল কোর্ট

ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকায় মাদক, অবৈধ দখল, ছিনতাই এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম রোধে শুক্রবার থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, জাতীয় স্টেডিয়ামকে আবারও নিরাপদ ও ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে ধারাবাহিকভাবে এই অভিযান চলবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিতে স্টেডিয়াম এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। সন্ধ্যার পর মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, মোবাইল কোর্টের পাশাপাশি স্টেডিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে পুলিশ বক্স স্থাপন এবং নিয়মিত পুলিশি টহলের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে দর্শনার্থী ও ক্রীড়াবিদরা নিরাপদ পরিবেশ পান।

স্টেডিয়াম এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নেও একাধিক পদক্ষেপের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় দ্রুত ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং জরাজীর্ণ স্থাপনার উন্নয়ন করা হবে। একই সঙ্গে স্টেডিয়াম এলাকায় থাকা দোকানগুলোর লিজ, ভাড়া ও চুক্তির বিষয়গুলো পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথাও সরকারি রাজস্ব আদায়ে অনিয়ম থাকলে তা সংশোধন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) প্রাপ্য রাজস্ব নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ক্রীড়াবিদদের বকেয়া ভাতা নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, আইবাস (iBAS++)-সংক্রান্ত কারিগরি জটিলতায় আটকে থাকা ২৮ জন ক্রীড়াবিদের মধ্যে ২৬ জনের ভাতা ছাড়ের সমস্যা ইতোমধ্যে সমাধান হয়েছে। বাকি দুইজনের বিষয়েও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো ক্রীড়াবিদের প্রাপ্য অর্থ যেন নষ্ট না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতীয় স্টেডিয়াম ও এর আশপাশের এলাকাকে ধাপে ধাপে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

দুষ্কৃতকারীদের হামলায় নিহত উগান্ডার জাতীয় দলের অধিনায়ক ডেভিড ওওরি

0

উগান্ডার জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক ডেভিড ওওরি দুষ্কৃতকারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন। রাজধানী কাম্পালার মাকিন্দিয়ে এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে হামলাকারীরা তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র লুট করে পালিয়ে যায়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাস্তার পাথর দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই তার মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।

ডেভিড ওওরি উগান্ডার ঘরোয়া ফুটবলের অন্যতম সফল ক্লাব স্পোর্টস ভিলার অধিনায়ক ছিলেন। পাশাপাশি জাতীয় দলের নেতৃত্বও দিচ্ছিলেন তিনি। তার আকস্মিক মৃত্যুতে উগান্ডার ফুটবলাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

স্থানীয় পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

দেশটির ফুটবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ওওরির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তার মৃত্যু উগান্ডার ফুটবলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কঠিন কন্ডিশনে সেঞ্চুরি, সাফল্যের মন্ত্র জানালেন মিরাজ

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ ২৩ বছর পর টেস্ট সিরিজ খেলতে গেছে বাংলাদেশ। মূল সিরিজ শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাট হাতে উজ্জ্বল ছিলেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। কঠিন কন্ডিশনে দলের অন্য ব্যাটাররা যখন বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ, তখন দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি।

প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে বাংলাদেশ ২৬৩ রানে অলআউট হয়। দলের পক্ষে একমাত্র তিন অঙ্ক ছোঁয়া ব্যাটার ছিলেন মিরাজ। সপ্তম নম্বরে নেমে ১৪১ বলে ১০৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৪টি ছক্কা।

দিনের খেলা শেষে নিজের ইনিংসের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন মিরাজ। তিনি জানান, শুরু থেকেই রান তোলার চেয়ে উইকেটে থিতু হওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছিলেন।

মিরাজ বলেন, “বলের মেরিট অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছি। ওদের বোলাররা খুব ভালো জায়গায় বল করছিল। এই কন্ডিশনে প্রথমবার খেলছি, তাই শুরুতে মানিয়ে নেওয়াটাই ছিল মূল লক্ষ্য। পার্টনারশিপ গড়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। পরে সুযোগ পেয়ে রানও এসেছে।”

আসন্ন টেস্ট সিরিজের আগে এই ইনিংস আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলেও মনে করেন বাংলাদেশ অলরাউন্ডার। তাঁর ভাষায়, “সামনে টেস্ট ম্যাচ রয়েছে। এই ইনিংস অবশ্যই আত্মবিশ্বাস দেবে। একই মানসিকতা ধরে রেখে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে সেটা আমার এবং দলের জন্য ভালো হবে।”

শুরুর কঠিন পরিস্থিতি সামলে কীভাবে বড় ইনিংস গড়েছেন, সেটিও ব্যাখ্যা করেন মিরাজ। তিনি বলেন, “কন্ডিশন শুরু থেকেই কঠিন ছিল। তাই স্ট্রাইক রোটেট করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আর যখনই সুযোগ এসেছে, সেটাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি।”

বাংলাদেশের হয়ে অন্য ব্যাটারদের মধ্যে মুমিনুল হক ৫৩ বলে ৩৭ এবং সাদমান ইসলাম অনিক ৪৭ বলে ৩১ রান করেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে দিনের খেলা শেষে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ ২ উইকেট হারিয়ে ৫১ রান সংগ্রহ করে। বাংলাদেশের হয়ে দুটি উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ।

বিশেষ ক্রীড়াবিদদের জন্য জাতীয় টুর্নামেন্টের ঘোষণা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেছেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে আনতে দ্রুত সময়ের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের একটি প্যারা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমাজের বোঝা নয়, বরং দেশের জন্য সম্ভাবনাময় সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে এশিয়ান প্যারা গেমস ট্রেনিং ক্যাম্প-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের নিয়ে একটি জাতীয় পর্যায়ের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতা আয়োজনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং সুযোগ হলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সেই প্রতিযোগিতার উদ্বোধনে উপস্থিত থাকবেন। তিনি বলেন, ‘যে সন্তানকে অনেক পরিবার লজ্জার কারণে আড়ালে রাখে, সেই সন্তানই একদিন অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস বা প্যারা গেমসে বাংলাদেশের জন্য পদক এনে দিতে পারে। তাই তাদের নিয়ে লজ্জা নয়, গর্ব করার সময় এসেছে।’

তিনি জানান, বর্তমানে ৩০০ জন ক্রীড়াবিদ নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন। আরও ২০০ জনকে এই কর্মসূচির আওতায় এনে মোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এশিয়ান প্যারা গেমসসহ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক বা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনকারী নতুন ক্রীড়াবিদদেরও পর্যায়ক্রমে ক্রীড়া ভাতার অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আমিনুল হক বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের শুধু প্রতিযোগিতার আগে নয়, সারা বছর নিয়মিত প্রশিক্ষণের আওতায় রাখা হবে। তাদের আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, সুযোগ-সুবিধা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, মিরপুর স্টেডিয়াম এলাকাকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, রাজধানীকেন্দ্রিক কার্যক্রমের বাইরে দেশের ৬৪ জেলায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের খুঁজে বের করে তাদের নিয়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। এ লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি প্যারা স্পোর্টস’ নামে জাতীয় পর্যায়ের একটি প্রতিভা অন্বেষণমূলক প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সানজিদা মাতলেন ফুটসালে, পিয়াসের গোলে জেননকে হারালো টেকভিল।

ফুটসাল লিগ বাংলাদেশ ২০২৫-২৬

মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ফুটসালে মেয়েদের ২য় ম্যাচ টা ছিল সানজিদাময়, টেকভিল এফসি বনাম জেনন এফসি‘র লড়াই। টেভিলের হয়ে সানজিদার সাথে খেলায় আরো আলো ছড়িয়েছেন অনামিকা ত্রিপুরা ও অ-২০ দলের ফুটবলার সোহাগী কিসকু। মূলতঃ এই তিন ত্রয়ীর প্রয়াসে প্রথমার্ধে আক্রমনের পর আক্রমন করে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল জেনন এফসির খেলোয়াড়দের তবে অধিনায়ক অন্তরা রক্ষণভাগের অতন্ত্র প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন জেননের হয়ে তা না হরে গোল সংখ্যা এক এর জায়গা আরো ২ বা ৩ হতে পারতো। তবে দুর্ভাগ্য টেকভিলের যে তারা খেলায় প্রাধান্য বিস্তার করে খেলেও মাত্র একটি গোলের দেখা পেয়েছে প্রথম অর্ধে। টেকভিলের অনামিকা বাম প্রান্ত দিয়ে বারবার দুর পাল্লার শট নিয়েছে কিন্তু বেশিরভাগ শট অফ টার্গেট হয়েছে আর জাতীয় দলের খেলোয়াড় সানজিদা আখতার ডান প্রান্ত ধরে খেলে পেনাল্টি এরিয়ার মধ্যে ঢুকে গোল করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েও ম্যাচে প্লে-মেকারের ভূমিকা পালন করে পুরো মাঠ খেলে ফুটসালে মেতেছিলেন আর পিয়াসের গোলে জেনন এফসিকে হারিয়েছে টেকভিল।

জেনন এফসি

২য় অর্ধের শুরুটা হয়েছে টেকভিলের আক্রমন দিয়ে এবং শুরুতেই ২য় গোল পেয়ে যায় অনামিকা ত্রিপুরা। এরপর ১০ মিনিটে এসে সানজিদার অ্যাসিস্ট থেকে রনজনা দলের ৩য় গোল করে ৩-০ গোলের ব্যবধান গড়ে। সানজিদা ম্যাচে ছোট ছোট বিরতি নিয়ে খেলে গেম মেকারের ভূমিকা পালন করেন। খেলার শেষের দিকে এসে সানজিদার ২য় অ্যাসিস্ট থেকে অনামিকা নিজের হ্যাট্টিক পূর্ণ করলে জেনন এফসির জয়ের সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। টেকভিলের ৪-০ গোলের জয়ের দিনে হ্যাট্টিককারি অনামিকা প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন।

বাংলাদেশ নারী জাতীয় দলর খেলোয়াড় সানজিদা তার ৭ নম্বর জার্সি নিয়ে খেলেছেন

পুরুষদের ফুটসাল ম্যাচেও ছিল টেকভিল এফসির দাপট, প্রথম অর্ধ দু-দল বেশ আক্রমণাত্মক ফুটসাল খেললেও গোল শুন্যতে শেষ হয়। তবে টেকভিল জেনন এফসির বিপক্ষে আক্রমনে কিছুটা এগিয়ে ছিল। দারুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে উভয় দলের মধ্যে। টেকভিলের মশিউর, অধিনায়ক মিলন, ইফতি আর পিয়াসের আক্রমনে ঠেকাতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে জেনন এফসির খেলোয়াড়রা তবে জেনন এফসির হৃদয় সমতা সুচক গোল করলে ম্যাচের উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং আক্রমন ও প্রতি আক্রমনে খেলা চলতে থাকলে টেকভিল ২য় গোল পেলে গোলের জন্য মরিয়ে হয়ে ‍খেলতে থাকে বিশেষ করে জেননের শান্ত, রাকিবুল, হৃদয় আর সাইফরা ২য় অর্ধে এসে জেননের আক্রভাগে সাইফ যোগ হওয়াতে ২য় গোলটাও পেয়ে যায় জেনন সাইফের পা থেকে। আর তাতে সমতা ফেরার পর সমান তালে উভয় দল আক্রমন করতে থাকে।

 ২-২ গোলের সমতা নিয়ে খেলা চলতে থাকলে যেকোন দল খেলায় জয় লাভ করবে এমন পরিস্থিতিতে শেষের দিকে জেননের প্রথম গোল দাতা হৃদয় লাল কার্ড দেখে মাঠ ত্যাগ করলে বেশী খেলোয়াড়ের উপস্থিতির সুবিধা নিয়ে ৩ নম্বর গোলটি করেন টেকভিলের পিয়াস তারপর জেনন পিছিয়ে পড়লে চেষ্টা করেও ম্যাচে ফেরা হয়নি সময়ের অভাবে ফলে ৩-২ গোলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই আর টেকভিলের জয়ের মাধ্যমে শেষ হয় দিনের ৪র্থ ম্যাচ।

দর্শকদের একাংশ

এদিকে ফুটসাল লিগে দর্শক খরা চলছেই বলা যায় মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে প্রতিদিন ৪টি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ছেলেদের দুটি এবং মেয়েদের দুটি তবে দর্শকদের উপস্থিতি তেমন নেই বললেই চলে আবার টুর্নামেন্টের প্রচারনাও তেমন দেখা যায় না। ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দেশের ফুটসাল লিগ হচ্ছে ১১ নারী ও পুরুষ ক্লাব দল নিয়ে যা বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই। বাফুফে চাইলে এর প্রচারনা বাড়াতে পারতো ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড করে। বাংলাদেশ জাতীয় নারী দলের অনেক ফুটবলাররা এখানে খেলছে যেমন-সাবিনা, কৃষ্ণা রানি, কিসকু, মাসুরা, সানজিদা সহ অনেকেই । টি-স্পোর্টস খেলাটি তাদের ডিজিটাল প্লাটফর্মে সরাসরি দেখাচ্ছে প্রচারনা বলতে এই পর্যন্তই। ফুটসাল লিগ বাংলাদেশ নামে একটি ফেসবুক পেইজ খোলা হলেও সেখানে পরিপূর্ণ আপডেট তথ্য পাওয়া যায়না।

মিরাজের সেঞ্চুরিতে প্রস্তুতি ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ২৬৩ রান বাংলাদেশের

টেস্টে লড়াইয়ের আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দিয়েছেন মিরাজ। ২৬৩ রানে অলআউট হয়েছে সফরকারীরা।

বৃহস্পতিবার ডারউইনে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। বাংলাদেশের পক্ষে ইনিংস উদ্বোধন করতে নামেন তানজিদ হাসান তামিম ও সাদমান ইসলাম অনিক। তবে শুরুটা একদমই ভালো হয়নি বাংলাদেশের। রানের খাতা খুলতেই পারেননি তামিম।

৮টি বল মোকাবেলা করেও শূন্য রানে বিদায় নেন হ্যানো জ্যাকবসের বলে স্যাম কন্সটাসের তালুবন্দী হয়ে। ৭ রানেই ভেঙে যায় বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি। আরেক ওপেনার সাদমানকেও শিকার করেন কোরি রকিচোলি। ৪৭ বলে ৩১ রান করে সাজঘরে ফিরে যান সাদমান। তার ব্যাট থেকে আসে চারটি চার। ৩৮ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।

মুমিনুল হক অনেক সময় কাটান ক্রিজে, তবে মাত্র ১৬ রান করেই আউট হন। তাকেও শিকার করেন রকিচোলি। ৫৮টি বল খেলেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। মুমিনুলের ব্যাট থেকে আসে তিনটি চার। তারপর মুশফিকুর রহিমও রানের খাতা খুলতে পারেননি। চারটি বল মোকাবেলা করে শূন্য রানে আউট হন তিনিও। 

লাঞ্চ বিরতি থেকে ফিরে দ্রুতই আউট হয়ে যান শান্ত। ৫৩ বলে ৩৭ রান করেন তিনি। অমিত হাসান ৬১ বলে ১৫ রান করে বিদায় নেন। তারপর দলের হাল ধরেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও সৌম্য সরকার। সৌম্য ৩৬ বলে ১৬ রান করে ফিরে যান। এরমধ্যে হাফ-সেঞ্চুরি করেন মিরাজ। তারপর তাইজুল, খালেদ ও হাসানকে নিয়ে সেঞ্চুরি হাঁকান মিরাজ।

বাংলাদেশ অলআউট হয়ে গেছে ২৬৩ রানে। মিরাজ অপরাজিত ছিলেন ১৩৬ বলে ১০৭ রান করে। তার ব্যাট থেকে এসেছে ১১টি চার ও চারটি ছক্কা। এছাড়া তাইজুল ১০ রান, হাসান মাহমুদ ৪ রান ও খালেদ ১৫ রান করেছেন।

বাংলাদেশ সিরিজ নিয়ে রোমাঞ্চিত হ্যাজলউড

বাংলাদেশের বিপক্ষে খুব বেশি খেলার অভিজ্ঞতা নেই জশ হ্যাজলউডের। বিশ্বের প্রায় সব শীর্ষ ব্যাটারের বিপক্ষে বল করলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন হাতে গোনা কয়েকটি। সেই কারণেই আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে একটু ভিন্ন চোখেই দেখছেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ এই পেসার।

আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ২২ বছর পর ডারউইনে টেস্ট খেলবে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াও। ফলে প্রতিপক্ষের পাশাপাশি ভেন্যুটিও দুই দলের জন্যই অনেকটা নতুন।

১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাত্র ৯টি ম্যাচ খেলেছেন ৩৪ বছর বয়সী হ্যাজলউড। এর মধ্যে টেস্ট খেলেছেন মাত্র একটি, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সফরে। গত জুনে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও ছিলেন না তিনি। তাই এবারের সিরিজ নিয়ে বাড়তি আগ্রহের কথা জানিয়েছেন এই ডানহাতি পেসার।

‘আনপ্লেয়েবল পডকাস্ট’-এ হ্যাজলউড বলেন, ‘অনেক অচেনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। মাঠ অজানা, বিশেষ করে উইকেট অজানা, আর এই কন্ডিশনে প্রতিপক্ষও আমাদের কাছে কিছুটা অচেনা। তবে আমার মনে হয়, বিষয়টি রোমাঞ্চকর।’

নতুন চ্যালেঞ্জের মধ্যেই বাড়তি অনুপ্রেরণা খুঁজে পাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার। তাঁর ভাষায়, ‘এই ব্যাটারদের বিপক্ষে কিছু ভিডিও আছে, কিছু প্রবণতাও খুঁজে বের করা সম্ভব। তবে মাঠে পরিস্থিতি বুঝে তখনই পরিকল্পনা তৈরি করতে হতে পারে। আর এটাই সব সময় সতেজ অনুভূতি দেয়।’

টেস্ট ক্রিকেটে সাফল্যের মূলমন্ত্রও ব্যাখ্যা করেছেন হ্যাজলউড। তাঁর মতে, পরিকল্পনা জটিল নয়, বরং সেটি দীর্ঘ সময় ধরে নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে পরিকল্পনাটা বেশ সহজ। আসল বিষয় হলো সেটি দীর্ঘ সময় ধরে নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করা। ম্যাচ যত এগোয়, পরিস্থিতি অনুযায়ী কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। মাঠেই মানিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সময় থাকে।’

একই অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার কেইন রিচার্ডসনও ডারউইনের উইকেট নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন। তাঁর ধারণা, এই উইকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রচলিত পেস ও বাউন্সনির্ভর উইকেটের মতো নাও হতে পারে।

রিচার্ডসন বলেন, ‘আমি মনে করি না, এটি এমন কোনো আদর্শ অস্ট্রেলিয়ান টেস্ট উইকেট হবে, যেখানে পেসাররা সিম মুভমেন্ট, সুইং ও বাউন্স থেকে দারুণ সুবিধা পাবে। বরং নিচু বাউন্সের কারণে কন্ডিশনটা বাংলাদেশের মতো হতে পারে।’

তাঁর মতে, এমন কন্ডিশন হলে পেসারদের পাশাপাশি স্পিনাররাও ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ফলে ডারউইনের উইকেটেই দুই দলের লড়াইয়ে ভিন্ন মাত্রা যোগ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা।

সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার আশা শেষ আয়ারল্যান্ডের

বাংলাদেশের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়েছে। আয়ারল্যান্ডের সেই আশা অবশ্য শেষ হয়ে গেছে প্রথম ম্যাচই মাঠে না গড়ানোর কারণে।

বুধবার উত্তর আয়ারল্যান্ডের ব্রেডিতে টানা বৃষ্টিতে ভেসে গেছে আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানের পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ। টসও অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। এই পরিত্যক্ত ম্যাচের ফলেই ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাওয়ার সমীকরণ থেকে ছিটকে গেছে আইরিশরা।

বর্তমানে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে ১২তম স্থানে থাকা আয়ারল্যান্ডের সামনে সরাসরি বিশ্বকাপে ওঠার ক্ষীণ সম্ভাবনা ছিল। সে জন্য আফগানিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৫-০ ব্যবধানে জিততে হতো তাদের। পাশাপাশি ভারতের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুই ম্যাচ হারতে হতো। কিন্তু প্রথম ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় আফগানিস্তানকে আর ৫-০ ব্যবধানে হারানো সম্ভব নয়। ফলে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার পথ বন্ধ হয়ে গেছে আইরিশদের।

এখন ২০২৭ বিশ্বকাপে জায়গা পেতে আয়ারল্যান্ডকে খেলতে হবে ১০ দলের বাছাইপর্বে। সেখানকার চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে জায়গা করে নেবে। আর দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ হওয়া দল খেলবে বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড বা সুপার সিরিজে। সেখান থেকে সেরা একটি দল গ্রুপ পর্বে ওঠার সুযোগ পাবে।

২০২৭ বিশ্বকাপের আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে স্বাগতিক হওয়ায় র‌্যাঙ্কিং যাই হোক, সরাসরি মূল পর্বে খেলবে। তবে আইসিসির পূর্ণ সদস্য না হওয়ায় নামিবিয়াকে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে হবে বাছাইপর্বের বাধা পেরিয়ে।

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর আইসিসির নির্ধারিত কাট-অফ তারিখে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট পূর্ণ সদস্য দল সরাসরি ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। আয়ারল্যান্ডের বিদায়ে সেই লড়াইয়ে বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।

মায়ামিতে জোড়া গোলে মেসির নতুন ইতিহাস

0

ফুটবল কখনো কখনো মানুষের হৃদয় ভেঙে দেয়, আবার সেই হৃদয় জোড়াও লাগায়। বিশ্বকাপের ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়ে কিছুদিন নীরব ছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু বড় খেলোয়াড়দের গল্প কখনো দীর্ঘদিন থেমে থাকে না। সবুজ ঘাসে ফিরে এসে যেন আবারও মনে করিয়ে দিলেন, তাঁর পায়ে বল থাকলে হতাশাও একসময় আশায় রূপ নেয়।

বিশ্বকাপ শেষে প্রথমবারের মতো শুরু থেকেই মাঠে নেমে ইন্টার মায়ামিকে জোড়া গোল উপহার দিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তাঁর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে লিগস কাপের প্রথম ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও মেক্সিকোর আতলেতিকো দে সান লুইসকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি।

চতুর্থ মিনিটেই স্তদ্ধ মায়ামি গ্যালারি

মায়ামির মাঠে ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল অতিথিদের। মাত্র চতুর্থ মিনিটেই ডেভিড রদ্রিগেজের হেডে এগিয়ে যায় সান লুইস। মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারি। কিন্তু মেসি মাঠে থাকলে নীরবতা খুব বেশি সময় স্থায়ী হয় না।

কয়েক মিনিট পরই নোয়া অ্যালেনের বাম দিক থেকে ভেসে আসা নিখুঁত ক্রসে অসাধারণ এক ভলিতে বল জালে জড়িয়ে দেন মেসি। যেন বিশ্বকাপের আক্ষেপ ধুয়ে ফেললেন এক স্পর্শেই।

এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় ইন্টার মায়ামির হাতে। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে আবারও নোয়া অ্যালেনের তৈরি সুযোগ থেকে গোল করেন তেলাস্কো সেগোভিয়া। সেই গোলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মেসি, নিজের নামের পাশে যোগ করেন একটি অ্যাসিস্ট।

কিন্তু রাতটি ছিল মূলত মেসির। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই অ্যালেনের আরেকটি নিখুঁত পাস থেকে দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে কাছ থেকে দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। সেই গোলের মধ্য দিয়ে লিগস কাপের ইতিহাসেও নতুন এক অধ্যায়ের জন্ম দেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

লিওনেল মেসি

২০২৩ সালে সম্প্রসারিত আকারে শুরু হওয়া লিগস কাপে এটি ছিল মেসির ১৪তম গোল। ফলে প্রতিযোগিতাটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে গেলেন তিনি। পেছনে পড়ে গেলেন লস অ্যাঞ্জেলেসের ডেনিস বুয়াঙ্গা। একই সঙ্গে মাত্র ১২ ম্যাচে এটি ছিল মেসির পঞ্চম জোড়া গোলের কীর্তি।

নেপথ্যের নায়ক নোয়া অ্যালেন

মেসির পাশাপাশি উজ্জ্বল ছিলেন নোয়া অ্যালেন। নিজের ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো এক ম্যাচে তিনটি গোলের পাস দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন দলের নেপথ্যের নায়ক। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে কর্নার থেকে মিকায়েলের হেডে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-১। তখনই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধে প্রবল বৃষ্টির কারণে কিছু সময় খেলা বন্ধ থাকে। বিরতির আগে সার্জিও একটি দৃষ্টিনন্দন গোল করে ব্যবধান কিছুটা কমালেও আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি সান লুইস। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইন্টার মায়ামি।

তবে জয়ের রাতে একটি দুঃসংবাদও পেয়েছে স্বাগতিকরা। বদলি হিসেবে নামা মাতেও সিলভেত্তি ম্যাচের শেষ দিকে বাঁ হাতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।

বিশ্বকাপে স্পেনের কাছে ফাইনালে হারের পর ক্লাবে ফিরে প্রথম পূর্ণ ম্যাচেই মেসি বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর ক্ষুধা এখনো কমেনি। গোল, অ্যাসিস্ট, ইতিহাস-সব মিলিয়ে আবারও ফুটবলকে নিজের ভাষায় লিখলেন তিনি।

এখন মায়ামির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। আগামী শনিবার তাদের প্রতিপক্ষ মনতেরে।

তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের

0

তিন বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল পাকিস্তান। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আট উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে সফরকারীরা। একই সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে বাবর আজমের নতুন অধ্যায়ও শুরু হলো জয় দিয়ে।

চতুর্থ দিনের সকালে ম্যাচে নাটকীয়তার কোনো সুযোগই দেয়নি পাকিস্তান। আগের দিনের শেষ বিকেলে ক্যারিবীয়দের ওপর চাপ তৈরি করার পর সকালে বাকি কাজটুকু সহজেই শেষ করেন পাকিস্তানের বোলাররা। বিশেষ করে আলি উসমানের দারুণ বোলিংয়ে দ্রুত গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের লেজের সারি।

দিনের শুরুতেই কেমার রোচকে বোল্ড করে পাকিস্তানকে প্রথম সাফল্য এনে দেন উসমান। এরপর জাস্টিন গ্রিভস মোহাম্মদ আলির বলে নিজের স্টাম্পে বল লাগিয়ে বিদায় নেন। ইনজুরির কারণে ব্র্যান্ডন কিং ব্যাট করতে না পারায় শেষ জুটির ওপরই ভরসা ছিল স্বাগতিকদের। শামার জোসেফ কয়েকটি আকর্ষণীয় বাউন্ডারি হাঁকালেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। আলি উসমানের বলেই আউট হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের উইকেট শিকারের পর পাকিস্তানের বোলার ও ফিল্ডারদের উল্লাস

জয়ের জন্য ৭৫ রানের সহজ লক্ষ্য পেলেও শুরুতে কিছুটা সতর্ক ছিল পাকিস্তান। ইমাম-উল-হক দ্রুত ফিরে গেলে সাময়িক চাপ তৈরি হয়। পরে আজান আওয়াইসও উইকেট হারান। তবে প্রথম ইনিংসের দুই নায়ক বাবর আজম ও আবদুল্লাহ শফিক আর কোনো বিপদ হতে দেননি।

দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে জয়ের দিকে এগিয়ে যায় পাকিস্তান। মধ্যাহ্ন বিরতির পর বাবর আজম স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানের টানা দুই বলে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

এই জয়ের মাধ্যমে বিদেশের মাটিতে টানা আট টেস্টে পরাজয়ের দুঃসহ অধ্যায়ের ইতি টানল পাকিস্তান। একই সঙ্গে ইংল্যান্ড সফরের আগে আত্মবিশ্বাসও ফিরে পেল দলটি।

অন্যদিকে, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার টানা তৃতীয় টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হলো। দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সমতা বজায় থাকলেও শেষ হাসিটা ছিল পাকিস্তানেরই। বিদেশের মাটিতে দীর্ঘদিন পর পাওয়া এই জয় দলটির জন্য মানসিকভাবে বড় প্রাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।