Home Blog Page 67

ইকবালের ৫ উইকেট-ইফতেখারের ফিফটিতে ইমার্জিং দলের প্রথম জয়

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের শুরুটা হয়েছিল হতাশায়। প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে বড় হার। তবে সেই ধাক্কা কাটিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেই জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। ইকবাল হোসেনের দুর্দান্ত বোলিং ও ইফতেখার হোসেনের দায়িত্বশীল ফিফটিতে ইউনিভার্সিটি স্পোর্ট সাউথ আফ্রিকাকে (ইউএসএসএ) ২৬ রানে হারিয়েছে সফরকারীরা।

প্রিটোরিয়ায় অনুষ্ঠিত তিন দলের ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচটি বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতার কারণে শেষ পর্যন্ত ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি হয়। ৩৬ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৮৬ রান। এরপর আলোকস্বল্পতায় আর খেলা না হওয়ায় ডিএলএস অনুযায়ী ২৬ রানের জয় পায় জাকির হাসানের দল।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দুর্দান্ত শুরু করেছিল ইউএসএসএ। উদ্বোধনী জুটিতে ১৩৫ বলে ১৪৮ রান যোগ করেন লুডউইচ শুল্ড ও জেসন মুয়ারহেড। তবে এই জুটি ভাঙার পর দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় স্বাগতিকরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ৪৭ ওভারে ২৪৮ রানে অলআউট হয় তারা।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন ১৯ বছর বয়সী পেসার ইকবাল হোসেন। ১০ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। এছাড়া উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন রোহানাত উদ দৌলা বর্ষণ।

ইউএসএসএর হয়ে শুল্ড ৭১ বলে ৭২ এবং মুয়ারহেড ৭৩ বলে ৭৯ রান করলেও এরপর আর কোনো ব্যাটার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি।

২৪৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক জাকির হাসান ১২ রান করে এলবিডব্লিউ হন। তিন নম্বরে নামা শাহাদাত হোসেন করেন ১৮ রান। এরপর ওপেনার মাহফিজুল ইসলামও ৩৪ রান করে ফিরলে ৮০ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা।

সেখান থেকেই দলের হাল ধরেন ইফতেখার হোসেন ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। চতুর্থ উইকেটে দুজন গড়েন অবিচ্ছিন্ন ১০৬ রানের জুটি। ইফতেখার ৮৬ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ৭১ রান করেন। অন্য প্রান্তে মাহিদুল ৬৮ বলে অপরাজিত থাকেন ৩৮ রানে।

প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে মাত্র ৮৯ রানে গুটিয়ে গিয়ে ৭ উইকেটের হার দেখেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচের এই জয় সেই হতাশা কাটিয়ে সিরিজে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বড় উপলক্ষ হয়ে থাকল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইউনিভার্সিটি স্পোর্ট সাউথ আফ্রিকা: ৪৭ ওভারে ২৪৮/১০
বাংলাদেশ ইমার্জিং দল: ৩৬ ওভারে ১৮০/৩
ফল: ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ইমার্জিং ২৬ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: ইকবাল হোসেন ইমন

২৮ আগস্ট শুরু হচ্ছে নারী এশিয়া কাপ!

আগামী ২৮ আগস্ট থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হচ্ছে নারী এশিয়া কাপের নতুন আসর। ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে আট দলের এই টুর্নামেন্ট। যদিও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) এখনো আনুষ্ঠানিক সূচি প্রকাশ করেনি, তবে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে অনানুষ্ঠানিকভাবে সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসিসি ইতোমধ্যে অংশগ্রহণকারী আটটি বোর্ডকে ই-মেইলের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য সূচি ও প্রস্তুতি সংক্রান্ত তথ্য পাঠিয়েছে। এবারের আসরে খেলবে ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, নেপাল ও স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এসিসি জানিয়েছে, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনুমোদন পেলেই আনুষ্ঠানিক সূচি প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে সংস্থাটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সভাপতি মহসিন নাকভি।

অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে পাঠানো ই-মেইলে ২৭ আগস্টের মধ্যে দলগুলোকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৩ সেপ্টেম্বর।

আনুষ্ঠানিক সূচি প্রকাশের আগেই নারী এশিয়া কাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। এদিকে নারী এশিয়া কাপ শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হবে ২০২৬ এশিয়ান গেমসের মেয়েদের ক্রিকেট। জাপানের নাগোয়ায় ১৭ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এই প্রতিযোগিতা।

পাকিস্তানের নতুন ব্যাটিং কোচ মাইকেল স্মিথ

ব্যাটিং বিভাগের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে কোচিং স্টাফে পরিবর্তন এনেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটার ও অভিজ্ঞ কোচ মাইকেল স্মিথকে দুই বছরের জন্য পাকিস্তান পুরুষ ক্রিকেট দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৯ আগস্ট ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ থেকেই দায়িত্ব পালন শুরু করবেন তিনি।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে স্মিথের নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পিসিবি। ৪৬ বছর বয়সী এই কোচ জাতীয় দলের সব সংস্করণের ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বেশ কিছুদিন ধরেই পদটি শূন্য ছিল। সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে পাকিস্তানের ব্যাটিং ব্যর্থতা এবং তারৌবা টেস্টে ধসের পর একজন বিশেষজ্ঞ ব্যাটিং কোচ নিয়োগের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।

বর্তমানে পাকিস্তান টেস্ট দলের বোলিং কোচের দায়িত্বে রয়েছেন সাবেক পেসার উমর গুল। ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব এত দিন স্থায়ীভাবে কাউকে দেওয়া হয়নি। জাতীয় নির্বাচক আসাদ শফিক অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ব্যাটারদের নিয়ে কাজ করলেও এখন থেকে সেই দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করবেন স্মিথ।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলার সুযোগ না পেলেও কোচ হিসেবে মাইকেল স্মিথের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ। লেভেল-৪ সনদপ্রাপ্ত এই কোচ বিভিন্ন ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি দলে কাজ করেছেন। পাকিস্তান ক্রিকেটের সঙ্গেও তার পরিচয় নতুন নয়। এর আগে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, করাচি কিংস ও মুলতান সুলতান্সের ব্যাটিং বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার হোবার্ট হারিকেন্স ও ক্রিকেট তাসমানিয়ার ব্যাটিং কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন স্মিথ। দক্ষিণ আফ্রিকার কেজেডএন ইনল্যান্ড ও ইস্টার্ন প্রভিন্স দলের পরামর্শক হিসেবেও রয়েছে তার অভিজ্ঞতা।

খেলোয়াড়ি জীবনেও ছিলেন ধারাবাহিক পারফরমার। ২০০৩ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ৮৯টি প্রথম-শ্রেণির, ৭২টি লিস্ট ‘এ’ এবং ১৬টি টি–টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। সব মিলিয়ে ৭ হাজার ২৯ রান করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ৯টি সেঞ্চুরি ও ৪০টি অর্ধশতক।

পিসিবির আশা, স্মিথের অভিজ্ঞতা পাকিস্তানের ব্যাটিং বিভাগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে সাম্প্রতিক ব্যর্থতার ধারা কাটিয়ে ওঠাই এখন দলের বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৩–২৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরের পর থেকে টানা আটটি অ্যাওয়ে টেস্টে হেরেছে পাকিস্তান। সেই হতাশাজনক অধ্যায় থেকে বেরিয়ে আসার প্রথম সুযোগ মিলবে ইংল্যান্ড সফরে।

ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে পাকিস্তানের ব্যাটাররা কতটা সফল হতে পারেন, সেটিই হবে মাইকেল স্মিথের অধীনে দলের প্রথম বড় পরীক্ষা।

অবসর নাকি নতুন চুক্তি, যে বার্তা দিলেন নেইমার

সান্তোসে নিজের চুক্তি শেষ হওয়া এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে আবারও খোলাসা করলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়র। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সান্তোসে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ২০২৭ সালে মাঠে থাকবেন নাকি ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানাবেন- তা নিয়ে এখনও কিছু চূড়ান্ত করেননি এই ফরোয়ার্ড।

সোমবার নিজের দাতব্য সংস্থা ইনস্টিটিউট নেইমার জুনিয়রের ষষ্ঠ বার্ষিক নিলাম অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নেইমার জানান, এখনই তিনি অবসর নিচ্ছেন না, তবে ডিসেম্বরে চুক্তি শেষ হওয়ার পর নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে গভীরভাবে ভাববেন।

তিনি বলেন, ‘আমি জানি না কতদিন খেলা চালিয়ে যাব। এখনই থামার কথা ভাবছি না, তবে কতদিন পারবো সেটাও নিশ্চিত নয়। সান্তোসের সঙ্গে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত আমার চুক্তি রয়েছে এবং তা পুরোপুরি সম্মান জানিয়েই পূরণ করতে চাই। এরপর ভেবে দেখব, সান্তোসে থাকব, নাকি ছেড়ে অন্য কোথাও যাব, কিংবা খেলা ছেড়ে দেব কি না। সত্যি বলতে এখনও জানি না কী করব, ডিসেম্বর আসতে অনেক দেরি।’

কোপা দো ব্রাজিলের দ্বিতীয় লেগে বুধবার রেমোর মুখোমুখি হবে সান্তোস। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে সান্তোসের মূল দল সোমবারই বিলেমে রওনা হলেও নিজের দাতব্য অনুষ্ঠানের কারণে দলের সঙ্গে যেতে পারেননি নেইমার। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, মঙ্গলবার নিজের ব্যক্তিগত জেটে চেপে উত্তরাঞ্চলে উড়াল দেবেন এবং কোচের জন্য শতভাগ প্রস্তুত থাকবেন।

শারীরিক ফিটনেস নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে নেইমার বলেন, ‘শারীরিকভাবে আমি বেশ ভালো অনুভব করছি, দিন দিন মাঠে নিজের সেরাটা ফিরিয়ে আনছি। আগামীকালের ম্যাচটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ফুটবল মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি নিজের সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন মনে করেন ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা। প্রতিষ্ঠানটির প্রশংসা করে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমি যা ভালোবাসি, তা অন্তর থেকে করি। আর এই ইনস্টিটিউট গড়ে তোলাটাই আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় গোল।’

চাপে ইনফান্তিনো, নড়বড়ে ফিফার মসনদ!

ফিফার নতুন উদ্যোগে (এফএফই) বিতর্ক

উয়েফা জোট গঠন করেছে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে পদ থেকে সরাতে ফুটবলের প্রভাবশালী কয়েকটি কনফেডারেশনকে নিয়ে। যদি ইনফান্তিনো স্বেচ্ছায় পদ না ছাড়েন তাহলে তাঁকে অচল করে দিতে ফিফার কার্যক্রম বর্জন করবে এবং বিকল্প আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে নানা পদক্ষেপ ও নিবে তারা। যার কারণে বলা যায় ফিফা সভাপতির গদি এখন অনেকটাই নড়বড়ে।

যার শুরুটা হয়েছেল বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা থেকে। তবে তীব্র সমালোচনায় সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হলেও গতি হারানোর সঙ্কা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না, পদত্যাগের চাপ বেড়েছে তার ওপর। যদি তিনি পুরোনো মিত্রদের সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তবে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে ইনফান্তিনোর জন্য।

Union of European Football Associations

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম: ‘দ্য টাইমস’ এর মতে উয়েফা, কনক্যাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন ইনফান্তিনোকে সরাতে একমত হয়েছে। আগামী মার্চে তিনি যদি ৪র্থ মেয়াদের জন্য আবারও নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তাঁকে ঠেকাতে বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করবে যা ইতি মধ্যে শুরু হয়ে গেছে উয়েফা।

 ইনফান্তিনোকে সরানোর পরিকল্পনার পদক্ষেপ: প্রশাসনিকভাবে বর্জন যেমন ফিফা কাউন্সিল ও বিভিন্ন কমিটির বৈঠকে অংশ না নেওয়া, ফিফার সিদ্ধান্ত অনুমোদনে অস্বীকৃতি প্রয়োজন হলে তারা বিকল্প আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করতেও প্রস্তুত আছেন। ২০১৭ সালে উয়েফা একটি বৈশ্বিক নেশনস লিগ আয়োজনের পরিকল্পনা তৈরি করেছিল যা তারা এখন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে এসব কারণে।

ফিফার সদস্য দেশ: ২১১ সদস্যদেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৫টি দেশ ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তবে বিশ্বকাপের স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনার খবর প্রকাশের পর তাঁর পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। বিষয়টির সাথে সংশ্লিষ্ট ‘সবাই একমত যে তাঁর সরে যাওয়া উচিত। আর যদি তিনি না যান, তাহলে তাঁকে সরাতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যেমন-প্রয়োজনে ফিফা কাউন্সিলের জরুরি সভা ডাকার উদ্যোগও নেওয়া হতে পারে। যদি কাউন্সিলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য এতে সম্মত হন তাহেলে ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে তোলা হবে।

ইউরোপের ফুটবল সংস্থা: ইনফান্তিনোর প্রতি আগের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে এর মধ্যে রয়েছে দ্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ), ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব ওয়েলস, সার্বিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং সুইডিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এছাড়া ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন গত জুনের শেষ দিকে ইনফান্তিনোর পক্ষে সমর্থনপত্র পাঠালেও এখন তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত শনিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, বিশ্ব ফুটবল যেন স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়, সে জন্য ফিফার নেতৃত্ব ও সুশাসন নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও কঠোর পর্যালোচনা প্রয়োজন।

উয়েফা সভাপতি সেফেরিন

ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন: ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের জন্য ফিফা সভাপতি পদে ইনফান্তিনোর প্রার্থিতার প্রতি তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তারা বলছে, সুশাসন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নেতৃত্ব, মূল্যবোধ, অংশীজনদের সঙ্গে সম্পর্ক, যোগাযোগ ও বিচক্ষণতার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ব্যর্থতার কারণে ইনফান্তিনোর প্রতি আমাদের আস্থা আর নেই। ফুটবলের সর্বোচ্চ স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে ব্যর্থ হওয়া এমন একটি বিষয়, যা আমরা মেনে নিতে পারি না।’

 আইনি নোটিশ: ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ইনফান্তিনোকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইনজীবীদের মাধ্যমে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজেস (এফএফই)’ পরিকল্পনা নিয়ে আইনি ব্যবস্থা, সালিসি কিংবা নিয়ন্ত্রক সংস্থায় অভিযোগ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

সারকথা: এত সব কনফেডারেশন যাদের নিয়ে ফিফার পথ চলা সেইসব ফেডারেশন যদি না চায় তাহলে আমার মনে হয় না ইতালীর এই নাগরিক জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আর থাকতে পারবেন। এখন শুধু সময়ের ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছে বিশেষ করে আগামী মেয়াদে তার জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

বাংলাদেশ সিরিজের আগে চোটের ধাক্কা, অনিশ্চিত ইংলিস

বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে প্রস্তুতিতে নেমেই চোটের ধাক্কা খেল অস্ট্রেলিয়া। দলের উইকেটকিপার-ব্যাটার জশ ইংলিস পিঠের চোটে পড়ায় প্রথম টেস্টে তাঁর খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ব্রিসবেনে এক সপ্তাহের প্রস্তুতি ক্যাম্পের প্রথম দিন নিজেদের মধ্যে অনুশীলন ম্যাচ খেলছিল অস্ট্রেলিয়া। ব্যাটিংয়ের সময় একটি শট খেলার পরই পিঠে অস্বস্তি অনুভব করেন ইংলিস। পরে পিঠের পেশিতে খিঁচুনি নিয়ে মাঠ ছেড়ে যেতে হয় তাঁকে।

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম কোডস্পোর্টস জানিয়েছে, ইংলিসের চোট গুরুতর নয়। তবে অতীতে তাঁর পিঠের সমস্যার ইতিহাস থাকায় চিকিৎসক ও টিম ম্যানেজমেন্ট কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। সে কারণে আগামী সপ্তাহে ডারউইনে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে তাঁর খেলার সম্ভাবনা কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১২ মাসে অস্ট্রেলিয়ার সামনে সম্ভাব্য ২১টি টেস্ট ম্যাচ রয়েছে। তাই একজন খেলোয়াড়কে দ্রুত ফিরিয়ে আনার বদলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দল। এ কারণে ইংলিসকে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য প্রস্তুত করার চিন্তাই আপাতত বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে আইপিএলে ফিল্ডিং করতে গিয়ে হাতের আঙুলে চোট পেয়েছিলেন ইংলিস। মে মাসে সুস্থ হয়ে আবার মাঠে ফেরেন। পরে মিচেল মার্শের অনুপস্থিতিতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সফরে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্বও দেন।

স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে স্বচ্ছন্দ ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত ইংলিস। তাই বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে তাঁর অনুপস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

ইংলিস খেলতে না পারলে উইকেটকিপারের দায়িত্বে থাকবেন অ্যালেক্স ক্যারি। ব্যাটিং বিভাগে স্টিভ স্মিথ, ট্রাভিস হেড, মার্নাস লাবুশেন ও জ্যাক ওয়েদারাল্ডের পাশাপাশি অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ও বিউ ওয়েবস্টারও থাকছেন অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাব্য একাদশে।

বিশ্বকাপের বিতর্ক এবার ক্লাব ফুটবলে, নতুন জার্সিতে মালভিনাস দাবি

0

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনা ফুটবলারদের হাতে দেখা গিয়েছিল একটি ব্যানার-তাতে লেখা ছিল, ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’ (মালভিনাস আর্জেন্টিনার)। সেই ব্যানারকে ঘিরে যে বিতর্কের জন্ম হয়েছিল, তা এখনও থামেনি। এরই মধ্যে একই বার্তা নিজেদের নতুন জার্সিতে স্থান দিয়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব আলমিরান্তে ব্রাউন।

রবিবার রেসিং দে কর্দোবার বিপক্ষে লিগ ম্যাচে প্রথমবারের মতো বিশেষ এই জার্সি পরে মাঠে নামে ক্লাবটি। জার্সির সামনের অংশে বড় অক্ষরে লেখা ছিল ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের আকাশি-সাদা রঙে তৈরি করা হয়েছে পুরো জার্সির নকশা, যা দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবেই উপস্থাপন করেছে ক্লাবটি।

ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন জার্সির ছবি প্রকাশ করে আলমিরান্তে ব্রাউন লিখেছে, ‘চিরকাল আর্জেন্টিনার। মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই বিশেষ জার্সি তৈরি করা হয়েছে।’ ম্যাচের দিন শুরুর একাদশের ছবির সঙ্গেও তারা লিখেছে, ‘ওগুলো আর্জেন্টিনারই।’

জার্সিটির আরেকটি আকর্ষণীয় দিক হলো পেছনের অংশ। খেলোয়াড়দের নম্বরের নিচে রাখা হয়েছে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির বিখ্যাত গোল উদযাপনের ছায়াচিত্র-দুই হাতের তর্জনী আকাশের দিকে তোলা সেই পরিচিত ভঙ্গি।

মালভিনাস-যা আন্তর্জাতিকভাবে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নামে পরিচিত-নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের বিরোধ বহু পুরোনো। ১৯৮২ সালের যুদ্ধের স্মৃতি এখনও দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর্জেন্টিনা দ্বীপপুঞ্জটিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে এবং ‘ইসলাস মালভিনাস’ নামে উল্লেখ করে।

এই জার্সি প্রকাশের সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর একই স্লোগান লেখা ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা।

বিশ্বকাপের সময় এই ব্যানার প্রদর্শন করায় বিতর্ক শুরু হয়েছে

ফিফার অভিযোগ, ওই ব্যানার প্রদর্শনের মাধ্যমে খেলার মঞ্চকে অ-ক্রীড়াসংক্রান্ত রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, যা সংস্থার আচরণবিধির পরিপন্থী হতে পারে।

তবে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ফুটবলারদের সেই পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ব্যানারটি ‘সম্পূর্ণ বৈধ’, কারণ এটি আর্জেন্টিনার জনগণের অনুভূতিরই প্রতিফলন। যদিও একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, এ ঘটনার জন্য ফিফা জরিমানা করতে পারে।

এর আগে ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শনের কারণে এএফএকে প্রায় ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল ফিফা। ফলে বিশ্বকাপের বিতর্ক এখন যেন ক্লাব ফুটবলেও ছড়িয়ে পড়েছে। আলমিরান্তে ব্রাউনের নতুন জার্সি আবারও প্রমাণ করল, আর্জেন্টিনায় মালভিনাস শুধু একটি ভূখণ্ডের নাম নয়-এটি জাতীয় পরিচয়, আবেগ এবং রাজনৈতিক অবস্থানেরও প্রতীক। আর সেই আবেগ যখন ফুটবলের জার্সিতে জায়গা পায়, তখন তা মাঠের বাইরেও নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।

বাবর-শফিকের ব্যাটে ম্যাচ ফিরলো পাকিস্তান

0

টেস্ট সিরিজজুড়ে যে পাকিস্তানি ব্যাটিং সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল, পোর্ট অব স্পেনে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে সেই ব্যাটিংই যেন নতুন রূপে ধরা দিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৪৪ রানের জবাবে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে সফরকারী পাকিস্তান। দিনের খেলা শেষে ২ উইকেটে ২৬৬ রান তুলে প্রথম ইনিংসে ক্যারিবীয়দের থেকে মাত্র ৭৮ রান পিছিয়ে রয়েছে পাকিস্তান।

এই দাপুটে অবস্থানের মূল নায়ক আবদুল্লাহ শফিক ও বাবর আজম। তৃতীয় উইকেটে তাদের অবিচ্ছিন্ন ১৬৮ রানের জুটি পাকিস্তানকে শুধু বিপদমুক্তই করেনি, ম্যাচেও ফিরিয়ে এনেছে জোরালোভাবে। দিনের শেষ বিকেলে নিজের ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শফিক। ২০২৪ সালের পর এটিই তার প্রথম শতক। অন্যদিকে ৮৬ রানে অপরাজিত থাকা বাবর আজম চার বছর পর টেস্ট শতকের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে ৩৪৪ রান তুলে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও পাকিস্তানের ইনিংস শুরু থেকেই ছিল ইতিবাচক। অধিনায়ক শান মাসুদের অনুপস্থিতিতে ওপেনিংয়ে নামা আজান আওয়াইস শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। কেমার রোচকে এক ওভারে টানা তিনটি চার মেরে স্বাগতিকদের চাপে ফেলে দেন তিনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম সাফল্য আসে অষ্টম ওভারে। গতি বাড়িয়ে ইমাম-উল-হককে আউট করেন শামার জোসেফ। কিন্তু সেই ধাক্কায় ভেঙে না পড়ে পাল্টা লড়াই শুরু করেন আওয়াইস ও আবদুল্লাহ শফিক। বিশেষ করে শামার জোসেফের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার গতির বলও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলেছেন আওয়াইস। একই সময়ে স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানকে ছয় ও সুইপে চাপে রাখেন শফিক।

৫৭ রানের দারুণ ইনিংস খেলেও এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরতে হয় আওয়াইসকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ রিভিউ নিয়ে উইকেটটি আদায় করে নেয়। কিন্তু এরপরই ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেন বাবর আজম ও শফিক।

দুজনই শুরুতে ধৈর্যের পরিচয় দেন। পরে ধীরে ধীরে বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে থাকেন। রোচের বিপক্ষে একের পর এক দৃষ্টিনন্দন কভার ড্রাইভে ফিফটি পূর্ণ করেন শফিক। ওয়ারিকানের স্পিনও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামলান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৯৯ রানে পৌঁছে কিছুটা অপেক্ষা করতে হলেও মিডউইকেট দিয়ে চার মেরে শতক পূর্ণ করেন এই ডানহাতি ব্যাটার।

উইকেট শিকারের পর পাকিস্তানের বোলার মোহাম্মদ আলী

অন্য প্রান্তে বাবর আজমের ইনিংস ছিল আরও পরিণত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আত্মবিশ্বাসের অভাবে যে বাবরকে অনেক সময় রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করতে দেখা গেছে, এবার তার কোনো ছাপ ছিল না। জেইডেন সিলসের বিপক্ষে শুরুতেই তিনটি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি হাঁকিয়ে নিজের ছন্দের জানান দেন তিনি। এরপর পুরো ইনিংসজুড়ে ঝুঁকিমুক্ত ক্রিকেট খেলেই ধীরে ধীরে ইনিংস বড় করেন। দিনের শেষ ঘণ্টায় স্ট্রাইক ঘুরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কোনো সুযোগই দেননি পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক।

এর আগে সকালে অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা লড়াই চালিয়ে যান। আগের দিনের অপরাজিত দুই ব্যাটার জাস্টিন গ্রিভস ও অধিনায়ক রস্টন চেজ আরও ১০৫ রান যোগ করে দলের সংগ্রহ সমৃদ্ধ করেন। দুজনই অর্ধশতক পূর্ণ করেন।

তবে নতুন বল হাতে পাকিস্তানের বোলাররা দ্রুত ম্যাচে ফেরে। বাঁহাতি স্পিনার আলি উসমান প্রথম বলেই গ্রিভসকে ফিরিয়ে দেন। এরপর উবায়েদ শাহ তার প্রথম বলেই রস্টন চেজকে বোল্ড করে বড় ধাক্কা দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। শেষদিকে সাজিদ খান শামার জোসেফকে আউট করলে ৩৪৪ রানেই থামে স্বাগতিকদের ইনিংস।

দিনের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিছুটা এগিয়ে থাকলেও শেষ বিকেলে দৃশ্যপট পুরো বদলে যায়। দীর্ঘদিন পর পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে দেখা গেছে আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রণের দুর্লভ সমন্বয়। আবদুল্লাহ শফিকের শতক আর বাবর আজমের অপরাজিত ইনিংস পাকিস্তানকে শুধু ম্যাচেই ফিরিয়ে আনেনি, সিরিজজুড়ে সমালোচিত ব্যাটিং ইউনিটের আত্মবিশ্বাসও যেন নতুন করে ফিরিয়ে দিয়েছে।

ট্রফি হারালেও স্ক্যালোনির দলই আর্জেন্টিনা সেরা: তাপিয়া

0

ফুটবলে সব গল্প ট্রফি জয়ে বা হারিয়ে শেষ হয় না। কিছু গল্প শেষ বাঁশির পরও বেঁচে থাকে মানুষের স্মৃতিতে, পরিসংখ্যানে, আবেগে। কিছু দল আছে, যারা একদিনের পরাজয়ে নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা কীর্তিতে নিজেদের পরিচয় লিখে যায়। লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা ঠিক তেমনই এক দল।

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে শিরোপা হারিয়ে আকাশছোঁয়া স্বপ্ন ভেঙেছে ঠিকই, কিন্তু সেই হার তাদের অর্জনের আলোকে ম্লান করতে পারেনি। বরং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন-এটাই আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সেরা জাতীয় দল।

এএফএর স্পনসর ডে অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে তাপিয়া শুধু একটি দলের প্রশংসা করেননি; তিনি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন একটি যুগকে। এমন এক দলকে, যারা কয়েক বছরের ব্যবধানে আর্জেন্টিনার ফুটবলকে হতাশার অতল গহ্বর থেকে টেনে এনে গৌরবের সর্বোচ্চ চূড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

তাঁর কণ্ঠে ছিল গর্বের দৃঢ়তা। তিনি বলেছেন, ‘পাঁচটি ফাইনাল খেলেছে এই দল, জিতেছে চারটিতে। আমার বিশ্বাস, এটাই আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সেরা দল। ফলাফলই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারলেও তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে আমরা গর্বিত। এই ছেলেরা আমাদের পতাকাকে বিশ্বের সর্বোচ্চ উচ্চতায় তুলে ধরেছে।’

বিশ্বকাপের সময় খেলোয়াড়দের অনুশীলনে ক্লদিও তাপিয়া

এই কথাগুলো শুধু পরিসংখ্যানের মূল্যায়ন নয়, বরং একটি স্বর্ণযুগের স্বীকৃতি। স্কালোনির হাত ধরে আর্জেন্টিনা জিতেছে ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালের ফিনালিসিমা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা। টানা পাঁচটি বড় ফাইনালে খেলে চারটি শিরোপা জেতা-আর্জেন্টাইন ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসে এমন ধারাবাহিক সাফল্যের নজির আর নেই।

২০২৬ বিশ্বকাপও সহজ ছিল না। দল বেড়েছে, ম্যাচ বেড়েছে, ভ্রমণ বেড়েছে, সময়ের পার্থক্য ও ভিন্ন আবহাওয়ার মতো নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ যুক্ত হয়েছে। তবু স্কালোনির দল শেষ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে ফাইনালে। শিরোপা না এলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে গেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মর্যাদা নিয়ে।

তাপিয়ার ভাষায়, এটাই এই দলের সবচেয়ে বড় পরিচয়। তিনি বলেন, এবারের বিশ্বকাপ ছিল আগের যেকোনো আসরের চেয়ে কঠিন। কিন্তু সেই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও আর্জেন্টিনা তাদের মান, শৃঙ্খলা এবং প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে।

আসলে এই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল শুধু প্রতিভা নয়, একটি বিশ্বাস। সেই বিশ্বাসের নাম লিওনেল স্কালোনি। তাঁর নেতৃত্বে তারকাদের সমাহার কখনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে ওঠেনি; বরং প্রতিটি ফুটবলার নিজেদের একটি বৃহত্তর স্বপ্নের অংশ হিসেবে দেখেছে। বিশ্বকাপ ফাইনালে গার হয়েছে, কিন্তু সেই হার তাদের কীর্তির পাশে কেবল একটি কমা হয়ে থাকবে, পূর্ণচ্ছেদ নয়।

এএফএর স্পনসর ডে-তেও ছিল সেই সাফল্যের প্রতিধ্বনি। বিশ্বকাপজুড়ে জাতীয় দলকে সমর্থন দেওয়া শতাধিক ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে। সেখানে স্কালোনির সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা ও কোচিং স্টাফের সদস্যরা অংশ নেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি গোলরক্ষক সের্হিও গোয়কোচেয়া। আর মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাপিয়া পুরো জাতির অনুভূতিকেই সম্মান জানালেন।

ফুটবলে ট্রফি জয় ইতিহাস লেখে, কিন্তু চরিত্র, ধারাবাহিকতা আর আত্মত্যাগ কিংবদন্তি তৈরি করে।

হয়তো ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ট্রফি আর্জেন্টিনার হাতে ওঠেনি। কিন্তু স্কালোনির এই দল এমন এক উত্তরাধিকার রেখে গেছে, যা কোনো এক ফাইনালের ফল দিয়ে মাপা যায় না। বহু বছর পরও যখন আর্জেন্টিনার ফুটবলের স্বর্ণযুগের কথা উঠবে, তখন শুধু চারটি ট্রফির কথা নয়, বলা হবে একটি দলের কথা-যারা জিতেছিল মানুষের বিশ্বাস, একটি দেশের ভালোবাসা এবং ইতিহাসের সর্বোচ্চ সম্মান।

সম্ভবত সে কারণেই ক্লদিও তাপিয়ার কণ্ঠে এত দৃঢ়তা-শিরোপা হারানো যায়, কিন্তু শ্রেষ্ঠত্ব নয়।

টিভিতে আজকের খেলা: ০৪ আগস্ট ২০২৬

পোর্ট অব স্পেনে চলছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-পাকিস্তান দ্বিতীয় টেস্ট। চলছে ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ লিগের দ্বিতীয় স্তর ও দ্য হানড্রেড।

এশিয়ান লিজেন্ডস লিগ
পাকিস্তান-আফগানিস্তান
বেলা ১-৩০ মি., ফ্যানকোড

শ্রীলঙ্কা-এশিয়ান স্টারস
বিকেল ৫-৩০ মি., ফ্যানকোড

পোর্ট অব স্পেন টেস্ট-৩য় দিন
ওয়েস্ট ইন্ডিজ-পাকিস্তান
রাত ৮টা, পিটিভি স্পোর্টস

দ্য হানড্রেড
লিডস-লন্ডন স্পিরিট (নারী)
রাত ৮টা, স্টার স্পোর্টস ২

লিডস-লন্ডন স্পিরিট (পুরুষ)
রাত ১১-৩০ মি., স্টার স্পোর্টস ২