Home Blog Page 78

জাতীয় দলে ফিরতে চান কোর্তোয়া, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নতুন কোচের সঙ্গে আলোচনার পর

0

২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন থিবো কোর্তোয়া। তবে বেলজিয়ামের হয়ে তার পথচলা চালিয়ে যাওয়া এখন শুধু ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে না। নতুন প্রধান কোচ মার্ক ফন বোমেলের পরিকল্পনার সঙ্গেও সেটির সামঞ্জস্য থাকতে হবে। তাই আপাতত আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ করে বেলজিয়াম। সেই ম্যাচের পর দায়িত্ব ছাড়েন প্রধান কোচ হুডি গাহসিয়া। এরপর বেশি সময় না নিয়েই নতুন কোচ হিসেবে নেদারল্যান্ডসের সাবেক অধিনায়ক মার্ক ফন বোমেলকে নিয়োগ দেয় বেলজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। ২০২৮ ইউরো পর্যন্ত দলের দায়িত্বে থাকবেন ৪৯ বছর বয়সী এই কোচ।

বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ ও এসি মিলানের সাবেক এই মিডফিল্ডার সর্বশেষ ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রয়্যাল অ্যান্টওয়ার্পের কোচ ছিলেন। সেখানে তার সাফল্যের কারণেই জাতীয় দলের দায়িত্ব পাওয়া খুব একটা বিস্ময়কর নয় বলে মনে করছেন কোর্তোয়া।
একটি স্পন্সরশিপ অনুষ্ঠানে রিয়াল মাদ্রিদের এই গোলরক্ষক বলেন, ‘এটা খুব বড় কোনো চমক নয়। বেশ কিছুদিন ধরেই তার নাম শোনা যাচ্ছিল। অ্যান্টওয়ার্পে তিনি নিজেকে একজন শীর্ষমানের কোচ হিসেবে প্রমাণ করেছেন। অনেক ফুটবলারই তার সম্পর্কে ইতিবাচক কথা বলেছেন। আমিও তার সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছি।’

এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কোর্তোয়ার আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ। ৩৪ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক জানিয়েছেন, তিনি এখনই জাতীয় দলকে বিদায় বলতে চান না। তবে বিশ্বকাপের পর কিছুটা বিরতি নিতে চান এবং আসন্ন উয়েফা নেশন্স লিগে খেলার পরিকল্পনাও নেই।
কোর্তোয়ার ভাষায়, ‘আমি অবশ্যই জাতীয় দলের হয়ে খেলতে চাই। তবে সেটা অনেকটাই নতুন কোচের সঙ্গে আলোচনার ওপর নির্ভর করবে।’

ফলে বেলজিয়ামের জার্সিতে কোর্তোয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে নতুন কোচ মার্ক ফন বোমেলের সঙ্গে বৈঠকের পরই। দুই পক্ষের পরিকল্পনা এক হলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আরও কিছুদিন দেখা যেতে পারে অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষককে।

এলপিএলের মাঝেই সুখবর, এবার নেপাল প্রিমিয়ার লিগে খেলবেন সাকিব

0

জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ব্যস্ত সময় পার করছেন সাকিব আল হাসান। বর্তমানে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) জাফনা কিংসের হয়ে খেলছেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার। এরই মধ্যে তার জন্য এসেছে নতুন সুখবর। প্রথমবারের মতো নেপাল প্রিমিয়ার লিগে (এনপিএল) খেলতে যাচ্ছেন তিনি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাকিবকে দলে ভেড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে পোখারা অ্যাভেঞ্জার্স। এক পোস্টে দলটি লিখেছে, ‘বিশ্বমঞ্চ থেকে এবার পোখরার চূড়ায়! ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার এখন নেপাল প্রিমিয়ার লিগের তৃতীয় আসরে পোখারা অ্যাভেঞ্জার্সের সদস্য। পরিবারে স্বাগতম, সাকিব আল হাসান!’

ঘোষণাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছে পোখারা। প্রচারণার ছবিতে পাহাড়চূড়ায় একটি সিংহাসনে বসানো হয়েছে সাকিবকে। তার পাশে দেখা যায় বাংলাদেশের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে। পুরো ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে নজর কেড়েছে ক্রিকেটভক্তদের।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিশ্বের প্রায় সব বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেই খেলেছেন সাকিব। তবে নেপাল প্রিমিয়ার লিগে এবারই প্রথম দেখা যাবে তাকে।

২০২৪ সালে যাত্রা শুরু হয় নেপাল প্রিমিয়ার লিগের। উদ্বোধনী আসরে শিরোপা জিতেছিল জনকপুর বোল্টস। আর সর্বশেষ আসরের চ্যাম্পিয়ন লুম্বিনি লায়নস।

এর আগে এলপিএলে জাফনা কিংসের হয়ে চার ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। বল হাতে ছন্দে থাকলেও ব্যাট হাতে এখনো নিজের সেরাটা দেখাতে পারেননি বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।

ইংল্যান্ড পুরুষ ক্রিকেট দলের ২০২৭ সালের ঘরের মাঠের আন্তর্জাতিক সূচি

0

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ অক্টোবর–নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে তবে তার আগ দিয়ে বেশ ব্যাস্ত সময় কাটাতে হবে ইংল্যান্ড দলকে ঘরের মাঠে যার শুরু মে মাস থেকে। শুরুটা হবে মে মাসে প্রথম পাকিস্তানকে ওয়ানডে সিরিজে আতিথেয়তা দেয়ার মাধ্যমে। তার পর বাংলাদেশের সাথে মে মাসের শেষের দিকে একমাত্র টেস্টটি খেলবে লর্ডসে। জুনে আবার দ্য ওভালে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। তার পরেই থাকছে অস্ট্রেলিয়ার সাথে ৫ টেস্টর অ্যাশেস সিরিজ। অ্যাশেসের পর পরই আবার ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিপক্ষে সেপ্টেম্বরে ৩টি-২০ ও ৫টি ওয়ানডে ম্যাচ নিয়ে ইংল্যান্ড পুরুষ ক্রিকেট দলের ২০২৭ সালের ঘরের মাঠের আন্তর্জাতিক সূচি প্রকাশ করেছে।  

পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজঃ

১৫ মে — ১ম ওয়ানডে, ভেন্যু: সাউদাম্পটন

১৯ মে — ২য় ওয়ানেডে, ভেন্যু: ম্যানচেস্টার

২১ মে — ৩য় ওয়ানডে, ভেন্যু: লিডস

২৩ মে — ৪র্থ ওয়ানডে, ভেন্যু: চেস্টার-লে-স্ট্রিট

২৬ মে — ৫ম ওয়ানডে, ভেন্যু: কার্ডিফ

বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টঃ

২৮ মে–১ জুন — একমাত্র টেস্ট, ভেন্যু: লর্ডস  

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালঃ ২০২৫-২৭

৯–১৩ জু, ভেন্যু: দ্য ওভাল, লন্ডন

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজঃ (৫ টেস্ট)

১৮–২২ জুন — ১ম টেস্ট, ভেন্যু: ট্রেন্ট ব্রিজ

৩০ জুন–৪ জুলাই — ২য় টেস্ট, ভেন্যু: লর্ডস

৮–১২ জুলাই — ৩য় টেস্ট, ভেন্যু: এজবাস্টন

২১–২৫ জুলাই — ৪র্থ টেস্ট, ভেন্যু: ইউটিলিটা বোল

২৯ জুলাই–২ আগস্ট — ৫ম টেস্ট, ভেন্যু: দ্য ওভাল

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-২০ ও ওয়ানডে সিরিজঃ

৩ ম্যাচের টি-২০ সিরিজ:

৭ সেপ্টেম্বর — ১ম টি-২০, ভেন্যু: চেস্টার-লে-স্ট্রিট

৯ সেপ্টেম্বর — ২য় টি-২০, ভেন্যু: ম্যানচেস্টার

১১ সেপ্টেম্বর — ৩য় টি-২০, ভেন্যু: কার্ডিফ

৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ:

১৪ সেপ্টেম্বর — ১ম ওয়ানডে, ভেন্যু: এজবাস্টন

১৬ সেপ্টেম্বর — ২য় ওয়ানডে, ভেন্যু: লর্ডস

১৯ সেপ্টেম্বর — ৩য় ওয়ানডে, ভেন্যু: ব্রিস্টল

২২ সেপ্টেম্বর — ৪র্থ ওয়ানডে, ভেন্যু: ট্রেন্ট ব্রিজ

২৫ সেপ্টেম্বর — ৫ম ওয়ানডে, ভেন্যু: লিডস

ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের এই সূচি বিশ্বকাপের আগ দিয়ে শেষ হবে তার পর তারা যাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলতে তার মানে খেলার মধ্য থেকেই ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে খেলতে যাবে বিশেষ করে ‍নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে তাদের ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ মনে হয় অনেক প্ল্যান করেই করে হয়েছে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে।  

চীনের বিশ্বকাপ দরকার নেই – তাদের আছে ‘ভিলেজ সুপার লিগ’

0

লাল জার্সি পরা ফুটবলাররা আনন্দে লাফাচ্ছেন। সতীর্থদের গায়ে ছিটিয়ে দিচ্ছেন শ্যাম্পেন। চারপাশে উড়ছে কনফেটি ও রঙিন ফিতা, আর উল্লাসের সেই মুহূর্ত মোবাইল ফোনে ধারণ করছেন দর্শকেরা।

এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে রোববার স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের দৃশ্য নয়। বরং প্রায় ৬ হাজার মাইল দূরে চীনের উত্তরাঞ্চলের হেবেই প্রদেশের পাহাড়ি ও গ্রামীণ এলাকা ফুপিং কাউন্টিতে এক দিন আগে উদযাপিত একটি জয়। কমিউনিস্ট পার্টির বিভিন্ন স্লোগানে সাজানো একটি স্টেডিয়ামে এই উৎসবের আয়োজন।

চীনের বিভিন্ন প্রান্তে এমন অসংখ্য ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দলগুলো লড়ছে জাতীয় পর্যায়ের ‘ভিলেজ সুপার লিগ’ বা গ্রাম্য সুপার লিগের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিতে। অপেশাদার এই টুর্নামেন্ট ইতোমধ্যে চীনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। লাখো দর্শক এই প্রতিযোগিতা উপভোগ করছেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চীনের পুরুষ জাতীয় দল বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে না পারলেও, ‘ভিলেজ সুপার লিগ’ হয়ে উঠেছে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশ্বকাপের এক বর্ণিল বিকল্প।

বাওডিং শহর থেকে ফুপিং কাউন্টির ম্যাচ খেলতে আসা দন্তচিকিৎসক ও ফুটবলার টং জেহাও বলেন, ‘এভাবে সবার নজরের কেন্দ্রে থাকা—এটা এমন কিছু, যা সাধারণত আমার ভাগ্যে জোটে না। ভিলেজ সুপার লিগের আগে স্থানীয় পর্যায়ে এতটা মনোযোগ পাওয়া কোনো টুর্নামেন্ট ছিল না।’

একটি দরিদ্র গ্রামীণ কাউন্টির স্থানীয় লিগ থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন চীনের বিভিন্ন গ্রামীণ শহর ও ছোট নগরীতে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় ৬০টি লিগ এবং শত শত দল এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।

এর ধারণাটি বেশ সহজ। বিভিন্ন পেশায় থাকা সাধারণ মানুষ নিজেদের দল গঠন করেন। এরপর স্থানীয় লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার সুযোগ পাওয়ার জন্য লড়াই করেন। পুরো মৌসুমজুড়েই এসব ম্যাচকে ঘিরে বসে উৎসবের আমেজ। মাঠে ভিড় করেন হাজারো ফুটবলপ্রেমী।

এই প্রতিযোগিতার বিস্তারে স্থানীয় সরকারেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দুর্বল ভোগব্যয়ের কারণে চাপের মুখে থাকা দেশের অর্থনীতিতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যকে চাঙ্গা করতেই কর্মকর্তারা এই আয়োজনকে উৎসাহিত করছেন।

তবে অর্থনৈতিক দিকের পাশাপাশি ‘ভিলেজ সুপার লিগ’ চীনের পেশাদার ফুটবলের দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় হতাশ সমর্থকদের কাছেও নতুন আশার জায়গা হয়ে উঠেছে। অনেকের মতে, এসব সমস্যাই ১৪০ কোটির বেশি মানুষের দেশ চীনকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম একটি শক্তিশালী পুরুষ ফুটবল দল গড়ে তোলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২১ বছর বয়সী কলেজছাত্রী লিউ জিয়াপিং বলেন, ‘আমাদের দেশ যেহেতু বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি, তাই ফুপিং কাউন্টিতে স্থানীয় ফুটবল দেখাই বেশি উপভোগ্য।’

বিশ্বকাপ তারকা ও ফরাসি ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পের ভক্ত এই তরুণী আরও বলেন, ‘এখানে এসে আমরা নিজেদের দেশের ফুটবলের অভিজ্ঞতা নিতে পারছি। ঘরে বসে মোবাইল ফোন দেখার চেয়ে এটা অনেক ভালো।’

এভাবেই চীনের ‘ভিলেজ সুপার লিগ’ শুধু একটি অপেশাদার ফুটবল প্রতিযোগিতা নয়, বরং সাধারণ মানুষের ফুটবলপ্রেম, স্থানীয় সংস্কৃতি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে এক সুতোয় গাঁথা এক নতুন সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।

‘ধ্যান করুন, প্রার্থনা করুন অথবা ফুটবল দেখুন’ – সমালোচকদের ইনফান্তিনো

ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তার নেতৃত্ব, ফিফা এবং বিশ্বকাপ নিয়ে সমালোচনা করা ব্যক্তিদের ‘ঘৃণা ও মিথ্যা গুজব ছড়ানোর’ পরিবর্তে ধ্যান করা, প্রার্থনা করা কিংবা ফুটবল ম্যাচ দেখার পরামর্শ দিয়েছেন।

নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ১৫টি স্লাইডের একটি পোস্টে সমালোচকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন ইনফান্তিনো। পরে পোস্টটি ফিফার প্রায় ৮০ লাখ অনুসারীর অ্যাকাউন্টেও শেয়ার করা হয়। সেখানে তিনি ‘কলম-কাগজের আড়ালে কিংবা পর্দার ওপাশে থাকা’ সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, তারা যখন ঘৃণার বীজ বপনে ব্যস্ত, তখন ফিফা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজন উপহার দিচ্ছে।

ইনফান্তিনোর দাবি, বিশ্বকাপ মানবতার সেরা দিকটিই তুলে ধরে। ২০২৬ বিশ্বকাপকে তিনি ‘১০০ শতাংশ নিরাপদ ও সুরক্ষিত’ আয়োজন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই টুর্নামেন্টে ছিল কেবল আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও সুখ।

বিশ্বকাপ ঘিরে বেশ কিছু বিতর্কও অবশ্য তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ইরানের অংশগ্রহণকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন ইনফান্তিনো। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেও ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ায় তিনি দাবি করেন, ফিফা ‘যুদ্ধে থাকা দুটি দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে নিরলসভাবে কাজ করেছে’। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান কোনো ঘটনা বা সংঘাত ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল।

তবে ইনফান্তিনোর বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন ইরানের কোচ আমির ঘালেনোয়ি। তিনি বিশ্বকাপে নিজেদের দলকে ‘সবচেয়ে নিপীড়িত’ দল হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ভিসা জটিলতা, কোচিং স্টাফের কয়েকজন সদস্যের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা এবং সমর্থকদের টিকিট বাতিলসহ নানা সমস্যার মুখে পড়েছিল ইরান।

বিশ্বকাপে নিরাপত্তা নিয়েও ইনফান্তিনো বলেন, টুর্নামেন্টে ছিল ‘শূন্য ঘটনা, শূন্য সহিংসতা’। তবে তার এই দাবির বিপরীতে আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালের পর দুই দলের খেলোয়াড় ও স্টাফদের মধ্যে উত্তেজনা, একাধিক ম্যাচে সমর্থকদের গ্রেপ্তার এবং স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে শেষ ষোলোতে খেলার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। উয়েফা এই সিদ্ধান্তকে ‘নজিরবিহীন, বোধগম্য নয় এবং অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছে। তবে ইনফান্তিনো দাবি করেছেন, বড় বড় লিগে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়মিতই হয়ে থাকে।

সমালোচকদের উদ্দেশে ইনফান্তিনো আরও বলেন, তাদের উচিত ঘৃণার পরিবর্তে ভালোবাসা ও সম্মান দেখানো। তিনি বলেন, যারা বিশ্বকাপের আবেগ, উদযাপন, হাসি-কান্না ও আনন্দ উপভোগ করতে পারেননি, তারা হয়তো অতিরিক্ত ঘৃণা ও সমালোচনায় ব্যস্ত ছিলেন।

সবশেষে তিনি বলেন, ‘যারা আমাদের ঘৃণা করতে সময় ও শক্তি ব্যয় করছেন, তারা একটু থামুন, ভাবুন, ধ্যান করুন, প্রার্থনা করুন অথবা একটি ফুটবল ম্যাচ দেখুন।’ তার মতে, পৃথিবীর মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও ঐক্য তৈরি করার ক্ষমতা রয়েছে ফুটবলের, আর ফিফা সভাপতি হিসেবে এই আয়োজনের অংশ হতে পেরে তিনি গর্বিত।

পারিবারিক কারণে ইতালির প্রস্তাব ফেরালেন পেপ গার্দিওলা

পারিবারিক নিরাপত্তাবোধ ও ব্যক্তিগত কারণকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইতালি জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হওয়ার আকর্ষণীয় প্রস্তাবটি বিনয়ের সঙ্গেই ফিরিয়ে দিয়েছেন পেপ গার্দিওলা। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা এই কোচের অনীহার কারণে আজ্জুরিদের (ইতালি) নতুন কোচ হওয়ার দৌড় থেকে আপাতত বাদ পড়েছে সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি গভর্নরের নাম।

ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (FIGC) এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে যে গুঞ্জন ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল, গার্দিওলার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আপাততঃ তার সমাপ্তি ঘটল।

আলোচনায় ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন

ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ইচ্ছা ছিল গার্দিওলাকে এনে দলের চেহারা পুরোপুরি বদলে দেওয়ার। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফেডারেশনের সভাপতি জিওভান্নি মালাগো আনুষ্ঠানিকভাবে জানান যে, ইতালির ডাগআউটে দাঁড়ানোর বিষয়ে গার্দিওলার সঙ্গে তাদের আলোচনা ও কথাবার্তা হয়েছিল।

তবে আলোচনা ইতিবাচক আবহ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলের মতো গুরুদায়িত্ব নিতে রাজি হননি স্প্যানিশ এই মাস্টারমাইন্ড। সভাপতি মালাগো নিশ্চিত করেন, কোনো ফুটবলীয় বা আর্থিক অসন্তোষ নয়—পুরোপুরি পারিবারিক কারণেই গার্দিওলা এই দায়িত্ব গ্রহণ করা থেকে বিরত থেকেছেন।

ম্যানচেস্টার সিটিতে ১০ বছরের গৌরবময় অধ্যায়

ইতালির কোচ হওয়ার প্রস্তাব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসার বড় কারণ ছিল ম্যানচেস্টার সিটিতে গার্দিওলার দীর্ঘ ও অবিশ্বাস্য যাত্রার ইতি টানা। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমেই ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে তার দীর্ঘ ১০ বছরের বর্ণিল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।

গার্দিওলার অধীনে সিটির সাফল্য ছিল বিশ্ব ফুটবলের জন্য এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত:

  • প্রিমিয়ার লিগ: ৬ বার শিরোপা জয়।
  • চ্যাম্পিয়ন্স লিগ: সিটিকে প্রথমবারের মতো ইউরোপসেরা করার ঐতিহাসিক গৌরব।
  • অন্যান্য ট্রফি: এফএ কাপ, লিগ কাপসহ অসংখ্য ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ট্রফি।

সিটির ইতিহাসের সফলতম কোচ হিসেবে ক্লাব ছাড়ার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, বিশ্বসেরা এই কোচের পরবর্তী গন্তব্য কোথায়? সেই কৌতূহল থেকেই ইতালি জাতীয় দলের নাম জোরালোভাবে সামনে এসেছিল।

        [ পেপ গার্দিওলার কোচিং ক্যারিয়ারের নতুন মোড় ]
                         │
        ┌────────────────┴────────────────┐
        ▼                                 ▼
ম্যানচেস্টার সিটিতে ১০ বছর             ইতালির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান
(৬x প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ)          (কারণ: পারিবারিক সময়)

ইতালির নতুন কোচের খোঁজ ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

গার্দিওলার “না” বলে দেওয়ার পর ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনকে এখন নতুন পরিকল্পনায় হাঁটতে হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে দলকে পুনর্গঠন করতে বিকল্প কোচের সন্ধানে নামতে বাধ্য হচ্ছে ইতালি।

অন্যদিকে, ফুটবলের কৌশলবিদ হিসেবে পরিচিত গার্দিওলা ঠিক কবে বা কোন দলের হয়ে পুনরায় ডাগআউটে ফিরবেন, তা নিয়েও এখন ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কমতি নেই। তবে কোনো ক্লাব বা জাতীয় দলের চাপ না নিয়ে আপাতত সম্পূর্ণ সময় পরিবারকে দেওয়ার সিদ্ধান্তই বেছে নিয়েছেন এই স্প্যানিশ কোচ।

এইচপি দল নিয়ে যে ভাবনা সালাউদ্দিনের

জাতীয় দলের পর এবার বাংলাদেশ ক্রিকেটের হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের প্রধান কোচ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছেন সিনিয়র কোচ সালাউদ্দিন। তবে জাতীয় দলের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অটুট থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৭ জুলাই) দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্য দেশ ছাড়ার আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন সালাউদ্দিন। এ সময় তিনি জানান, এইচপির দায়িত্বে থাকলেও জাতীয় দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।

এছাড়া সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমার জাতীয় দলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে। এমন না যে আমি একেবারেই ওদিক থেকে আলাদা। কারণ এই ছেলেগুলোর সঙ্গে আমাদের একটা সংযোগ থাকবে। ভালো একটা যোগাযোগ থাকবে।

আমি কখনো মনে করি না যে আমি জাতীয় দলের বাইরে আছি।’তবে এইচপি দলের দায়িত্বকে ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবেই দেখছেন অভিজ্ঞ এই কোচ। তার মতে, এই সফরগুলো তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক মান সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেবে।

এছাড়া সালাউদ্দিন বলেন, ‘এটা এইচপি টিম, তাদের নিয়ে আমাদের ভবিষ্যতে অনেক বড় পরিকল্পনা আছে। যেহেতু আমাদের দুটা এইচপি টিম এবার বাইরে যাচ্ছে। একটা অস্ট্রেলিয়াতে যাচ্ছে, একটা দক্ষিণ আফ্রিকাতে যাচ্ছে। এটা ছেলেদের জন্য একটা বড় সুযোগ। তারা বুঝতে পারবে তারা আসলে কোথায় আছে; বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কোন অবস্থানে আছে।’

নাহিদের আক্ষেপে পুড়ছেন বাসার

শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে দেশ সেরা পেসার নাহিদ রানা না থাকায় আক্ষেপে পুড়ছেন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাসার। জিম্বাবুয়েতে নাহিদ রানাকে কেন খেলাতেই হলো-এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে নাহিদ চোটের শিকার। জিম্বাবুয়েতে পাওয়া এই চোটের কারণে খেলা হবে না আলোচিত দুই টেস্টের কোনোটিই। 

প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের দাবি, নাহিদের চোটে টিম ম্যানেজমেন্টের কোনো দায় নেই। যদিও জিম্বাবুয়েতে কেন তাকে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে রাখা হলো-এই অভিযোগ অনেকের। প্রধান নির্বাচক দাবি করেছেন, নাহিদকে জিম্বাবুয়েতে খেলাতেই হতো। ওয়ানডে সিরিজে ওয়ানডে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাইয়ের হিসেবনিকেশের কারণে, আর টি-টোয়েন্টিতে ‘ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টে রেড জোন’ এড়াতে।

কারণ নির্দিষ্ট পরিমাণ বল না করলে নাকি ফিট থাকা হতো না এই পেসারের। প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘আমরা যেকোনো খেলোয়াড় যখন বেছে নিই, এসেসমেন্ট চাই মেডিকেল ডিপার্টমেন্টের। বা ওয়ার্কলোড ম্যানেজ করে যারা ওদের মতামত নিই। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট এখন মুখে হয় না, ট্র্যাক করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার সাথেও (ঘরের মাঠে সীমিত ওভারের সিরিজে) নাহিদ সব ম্যাচ খেলেনি। ব্রেক দিয়ে খেলিয়েছি। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট অনুযায়ী হারারে টেস্টে সে ফিট ছিল। এরপরও অস্ট্রেলিয়া সিরিজের কথা ভেবে হারারে টেস্ট খেলাইনি।’

তবে শুধু নাহিদই নন, তাসকিন-শরিফুলেরও নাকি হারারে টেস্ট খেলার অনুমতি ছিল। এ বিষয়ে বাশার জানান, ‘চোট হওয়ার ভয়েই ওদের হারারে টেস্ট খেলাইনি। ওয়ানডেতে নাহিদ তিন ম্যাচের দুটি খেলেছে। ওয়ানডে সিরিজ র‍্যাংকিংয়ের বিষয় ছিল। টি-টোয়েন্টিতে ব্রেক দিতে পারতাম। তবে ওয়ার্কলোড যারা ম্যানেজ করেন তারা বলে থাকেন দুটো ব্যাপার আছে- ফাস্ট বোলারের রেড, গ্রিন, ইয়েলো জোন বলে থাকি, বেশি বোলিংয়ের লোড হলে রেডে চলে যায়, আবার কম বল করলেও রেডে চলে যায়।’

অস্ট্রেলিয়া খেলতে যাওয়ার আগে নাহিদকে যতটুকু বল করতেই হতো, তা পূরণ করার জন্যই নাকি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলানো হয় জিম্বাবুয়েতে; যেখানে তিনি চোটের শিকার হয়ে মাঠের বাইরে ছিটকে যান।

সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘তাকে যথেষ্ট ওভার বল করে গ্রিন জোনে থেকে টেস্ট খেলতে হতো। ফাস্ট বোলার না খেলিয়ে বসিয়ে রাখলে সেটাও ভালো নয়। যেকোনো ম্যাচ খেলার আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ বল করে প্রস্তুত হতে হবে। বেশি বল করলেও ঝুঁকি, আবার কম বল করলেও রেড জোনে চলে যায়। না খেললে কিছু হতো না, তবে তাকে কিছু একটা খেলতেই হতো।’

নাহিদের এই চোট অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েও হতে পারত জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এই চোট অস্ট্রেলিয়া গিয়েও হতে পারত। একজন ফাস্ট বোলারকে যতই চেষ্টা করুন, ইঞ্জুরিমুক্ত রাখা কঠিন। কমানো যেতে পারে, তবে ইঞ্জুরি হবে না এটা আসলে কঠিন, যতই চেষ্টা করুন। তবে আমরা অনেক মেইনটেইন করছি। তার প্রতিটা মুহূর্ত অনেক কেয়ার করা হচ্ছে।’

অস্ট্রেলিয়ার মতো কন্ডিশনে নাহিদের না থাকায় আক্ষেপ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নাহিদ স্পেশাল বোলার। সে সেনসেশনাল স্পেশাল বোলার। তাকে না পাওয়ার আক্ষেপ তো থাকবেই। তবে দেখুন, সর্বশেষ অ্যাশেজে প্যাট কামিন্স খেলেনি। তারা তো বলেনি মেইন বোলার নেই। মূল বোলার না থাকলে আক্ষেপ করে এগোতে তো পারবেন না। যারা আছেন… তাসকিন ফ্যান্টাস্টিক, ফিট থাকে যদি। হাসানকেও দেখেছেন। খালেদ-ইবাদতও অতীতে ভালো করেছে। এই কয়জনকে নিয়েই এগোতে হবে। আক্ষেপ তো থাকবেই, তবে এখানে পড়ে না থেকে সামনে এগোতে চাই।’

লাহোর কালান্দার্সের হয়ে জিএসএল খেলবেন শামীম

পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)র দল লাহোর কালান্দার্স অংশ নিচ্ছে গ্লোবাল সুপার লিগে (জিএসএল)। গায়ানায় চলমান এই টুর্নামেন্টে লাহোরের হয়ে খেলছেন পারভেজ হোসেন ইমন। বাংলাদেশের এই ওপেনারের সাথে যোগ দিচ্ছেন শামীম হোসেন পাটোয়ারিও। 

লাহোর কালান্দার্স আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে শামীমকে দলে নেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে। কার বদলি হিসেবে তাকে দলভুক্ত করা হয়েছে তাও নিশ্চিত করেছে দলটি। পিএসএলের জানিয়েছে, শামীমকে নেওয়া হয়েছে পাকিস্তানি ব্যাটার আব্দুল্লাহ শফিকের বদলি হিসেবে। জাতীয় দলে ডাক পাওয়ায় শফিক মাঝপথে জিএসএল ছেড়ে যাচ্ছেন।

এছাড়া বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘আবদুল্লাহর পরিবর্তে টুর্নামেন্টের বাকি অংশের জন্য বাংলাদেশি অলরাউন্ডার শামীম হোসেনকে দলে নিয়েছে লাহোর কালান্দার্স। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ায় আবদুল্লাহ শফিককে অভিনন্দন জানিয়েছে লাহোর কালান্দার্স এবং পাকিস্তানের জার্সিতে তার সাফল্য কামনা করেছে। একই সঙ্গে কালান্দার্স পরিবারে শামীম হোসেনকে আন্তরিক স্বাগতও জানিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।’

আসরে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচ শেষে দুই জয় ও এক হার নিয়ে চার পয়েন্টের অধিকারী লাহোর। আসরের প্রথম ম্যাচে পার্থ স্কর্চার্স একাদশকে ১৬ রানে হারিয়ে শুভসূচনা করে, পরের ম্যাচে ডেজার্ট ভাইপার্সকে হারায় ৩৮ রানে। যদিও তৃতীয় ম্যাচে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের কাছে হেরে যান ইমনরা।

দুই তারকা ছাড়াই অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে বাংলাদেশ

ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে আগেই শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। এবার দল ঘোষণা করল বাংলাদেশ। তবে প্রথম টেস্টের দলে যথারীতি নেই নাহিদ রানা, লিটন দাসরা। দুই তারকার অনুপস্থিতিতে ফিরেছেন জাকের আলি অনিক, সৌম্য সরকার। চমক হিসেবে আছেন পেসার মুশফিক হাসান।

এই টেস্ট দিয়ে ওপেনিংয়ে দীর্ঘদিন পর  ফিরলেন সৌম্য। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ টেস্ট খেলেছিলেন তিনি। বাজে ফর্মে থাকায় জায়গা হারিয়েছেন মাহমুদুল হাসান জয়। এছাড়া দীর্ঘদিন পর ফেরানো হয়েছে জাকেরকে। শেষ টেস্ট ম্যাচ তিনি খেলেছিলেন গত বছর জুনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে।

জাকেরের সঙ্গে উইকেটরক্ষক ব্যাটার হিসেবে স্কোয়াডে আছেন অমিত হাসান। জিম্বাবুয়ে সফরে অভিষেক হওয়া এই ডানহাতি ব্যাটার তার জায়গা ধরে রাখতে পেরেছেন। লম্বা ডানহাতি পেসার মুশফিক বিভিন্ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে জাতীয় দলের কাছাকাছি ছিলেন। ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবার টেস্ট দলে জায়গা পান। কিন্তু অভিষেক হয়নি তার।

স্পিনার হিসেবে সহ-অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম। সাথে আছেন পাঁচ পেসার তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেন চৌধুরী, সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও মুশফিক।

আগামী ৩১ জুলাই অস্ট্রেলিয়ায় উড়াল দেবে স্কোয়াড। ৬ থেকে ৮ আগস্ট ডারউইনে ডিএক্সসি এরেনায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিনদিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা। ১৩ আগস্ট ডারউইনেই হবে প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় ম্যাচ ২১ আগস্ট ম্যাককের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনায়।

বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট স্কোয়াড: নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, জাকের আলি, মেহেদী হাসান, তাইজুল ইসলাম, খালেদ আহমেদ, হাসান মাহমুদ, তানজিদ হাসান তামিম, অমিত হাসান, এবাদত হোসেন, মুশফিক হাসান, তাসকিন আহমেদ।