Home Blog Page 80

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বিসিবি

0

আছেন জাকির-অঙ্কন-বিপ্লব
অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য জাতীয় দলের স্কোয়াড ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আরও একটি দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য ত্রিদেশীয় সিরিজ ও চারদিনের ম্যাচকে সামনে রেখে এবার ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের স্কোয়াড প্রকাশ করেছে বোর্ড।

ঘোষিত দলে জায়গা পেয়েছেন জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার জাকির হাসান, উইকেটকিপার ব্যাটার মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন এবং লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। এছাড়া তরুণদের সঙ্গে অভিজ্ঞতার মিশেলে দল সাজিয়েছে বিসিবি।

আগামী সোমবার (২৮ জুলাই) দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। ত্রিদেশীয় সিরিজে তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল এবং যুক্তরাষ্ট্র ‘এ’ দল।

আগামী ১ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টে যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর ৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র ‘এ’ দলের মুখোমুখি হবে তারা। একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ ৭ আগস্ট। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ৯ আগস্ট আবারও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।

লিগ পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল ১২ আগস্ট ফাইনালে মুখোমুখি হবে।
ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ হওয়ার পর সফরের দ্বিতীয় ধাপে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে দুটি চারদিনের ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচ শুরু হবে ১৬ আগস্ট, আর দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ মাঠে গড়াবে ২৩ আগস্ট। পুরো সফর শেষে ২৭ আগস্ট দেশে ফেরার কথা রয়েছে দলের।

বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের স্কোয়াড:
জাকির হাসান, মাহফিজুল ইসলাম, ইফতেখার হোসেন ইফতি, শাহাদাত হোসেন, সামিউন বাসির রাতুল, মঈন খান, রোহানাত দৌল্লা বর্ষণ, এনামুল হক, ইরফান শুক্কুর, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, ইকবাল হোসেন ইমন, চৌধুরী মো. রিজওয়ান, আবু হাশিম, হাবিবুর রহমান সোহান ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লব।

হামজা চৌধুরীর পর এবার বাংলাদেশের ফুটবলে আসছেন-ফারহান আলী ওয়াহিদ

0

লাল সবুজের প্রবাসী ফুটবলার

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ ফুটবলারদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন ফারহান আলী ওয়াহিদ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ফুলহাম-এর বয়সভিত্তিক দলে খেলা এই তরুণ ইতোমধ্যে পেশাদার ফুটবলে পা রেখেছেন। ২০২৫ সালে ফুলহামের সঙ্গে প্রথম পেশাদার চুক্তি করার পর থেকেই তাঁকে নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়তে থাকে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলার আগ্রহ প্রকাশের খবর প্রকাশিত হওয়ায় সেই আগ্রহ আরও বেড়েছে জল অনেকদুর গড়িয়েছে তাই বলা যায় হামজা চৌধুরীর পর এবার বাংলাদেশের ফুটবলে আসছেন-ফারহান আলী ওয়াহিদ।

ফারহানের বাবা-মা:

ফারহান আলী ওয়াহিদের বাবা-মা দুজনেই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তবে ফারহানের জন্ম ইংল্যান্ডে হয়েছে। তাঁর বাবা হিসেবে আব্দুল ওয়াহিদ। ফারহানের ছোট ভাই রায়ান আলী ওয়াহিদও ফুটবলার এবং ইংল্যান্ডে খেলছেন। তবে তাঁর বাবা-মায়ের জন্মস্থান বাংলাদেশে, পেশা বা পারিবারিক শিকড় বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল।

কোন ক্লাবে খেলেন?

ফারহান বর্তমানে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ফুলহাম এফসির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তিনি ক্লাবটির বয়সভিত্তিক ফুটবল কাঠামোতর ফুলহাম অনূর্ধ্ব-১৮ ও অনূর্ধ্ব-২১ দলে খেলেছেন এবং ২০২৫ সালে ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর প্রথম পেশাদার চুক্তি সম্পন্ন হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ক্যারিয়ারে আরও বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ২০২৬ সালের ২৫ জুলাই নরউইচ সিটির বিপক্ষে ফুলহামের একটি প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে তিনি প্রথম ফুলহাম সিনিয়র দলের হয়ে দ্বিতীয়ার্ধের ৪৬ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন যদিও তার দল ০-২ গোলে হেরেছে তিনি নিজে কোন গোল বা অ্যাসিস্ট করেননি তবে তার একটি বাঁকানো শট সবার দৃষ্টি কেড়েছে যা তাঁর সিনিয়র ফুটবলে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ মনে করা হচ্ছে।

পজিশন ও খেলার ধরন:

ফারহান মূলত উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। বাম উইংয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা ডান পায়ের খেলোয়াড় তিনি। তাঁর খেলার প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে গতি, ড্রিবলিং, বল নিয়ন্ত্রণ ও একের পর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতা বিশেষ করে ওয়ান টু ওয়ানে তার ভয়ডরহীন ফুটবল চমৎকার এছাড়া তার গতির সাথে টেকনিকের দক্ষতার দারুন সমন্বয় তাকে অনেকের থেকে আলাদা করেছে।

ফারহানকে নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের শুরুটা হয় চলতি বছরের মে মাসের দিকে বাফুফের সহসভাপতি জনাব ফাহাদ করিমের আগ্রহে। বর্তমানে সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে এখন পাসপোর্ট এর কাজ চলছে বলে জানা গেছে। সব কিছু ঠিক ঠাক চললে আগামী সেপ্টেম্বর ফিফা উইন্ডো অথবা নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ১৫তম সাফ ফুটবল টুর্নামেন্টে সেই টুর্নামেন্টেই আমরা দেখতে পারি ফারহান আলী ওয়াহিদকে বাংলাদেশর জার্সিতে।  

বাংলাদেশের ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরেই আক্রমণভাগে দক্ষ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের ঘাটতি রয়েছে। সেই জায়গায় ইংল্যান্ডের আলো বাতাসে এবং প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল কাঠামোয় বেড়ে ওঠা একজন তরুণ উইঙ্গার ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারেন। বিশেষ করে ফারহান যদি ফুলহামের সিনিয়র দলে তার জায়গাটা পাকাপোক্ত করতে পারেন তাহলে বাংলাদেশের আক্রমনের প্রাণ ভোমরা হয়ে উটতে পারবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।

শেষ কথায় বলা যায়: ফারহান আলী ওয়াহিদের গল্প বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। ২০২৫ সালে পেশাদার চুক্তি এবং ২০২৬ সালে প্রথম দলের প্রাক-মৌসুম ম্যাচে মাঠে নামা—দুটি ঘটনাই তাঁর ক্যারিয়ারের অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মাঠে নামার প্রতিক্ষায় বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা।

রোনালদোকে ঘিরে বিপুল ব্যয়, আর্থিক সংকটে আল-নাসর

0

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে দলে ভেড়ানোর পর থেকেই সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসর বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রে। পর্তুগিজ মহাতারকার পাশাপাশি জোয়াও ফেলিক্স ও কিংসলে কোমানের মতো তারকাদের দলে টানতে ক্লাবটি গত মৌসুমে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছে। রোনালদোর সঙ্গে চুক্তিও ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এসব বিনিয়োগের পর এবার আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে রিয়াদের ক্লাবটি।

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আল-নাসরের দেনা এখন ৮০০ মিলিয়ন সৌদি রিয়ালের বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে অঙ্কটি কয়েক হাজার কোটি টাকার সমান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মৌসুমের আর্থিক সিদ্ধান্তগুলোর প্রভাবেই এই দেনা তৈরি হয়েছে।

আর্থিক চাপের প্রভাব ইতোমধ্যে ক্লাবের দৈনন্দিন কার্যক্রমেও দেখা যাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের দাবি, তারল্য সংকটের কারণে প্রথম দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের জুন মাসের বেতন পুরোপুরি পরিশোধে বিলম্ব হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন খেলোয়াড় দলে ভেড়ানোর কার্যক্রমও থমকে গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে আল-নাসরের মালিক সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড, পিআইএফ সংকট মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ বিবেচনা করছে বলে খবর এসেছে। ক্লাবের নিজস্ব আয় ও স্পনসরশিপ থেকে পর্যাপ্ত অর্থ না আসা পর্যন্ত নতুন খেলোয়াড় বা কোচের সঙ্গে চুক্তি করার ক্ষেত্রে নির্বাহী ব্যবস্থাপনার ওপর কড়াকড়ি আরোপের কথাও বলা হয়েছে।

তবে আল-নাসরের আর্থিক সংকটকে সরাসরি শুধু রোনালদোর কারণে তৈরি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। বরং রোনালদোকে কেন্দ্র করে উচ্চাভিলাষী দল গঠন, বড় অঙ্কের খেলোয়াড় চুক্তি এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার সম্মিলিত প্রভাবই বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে বলে প্রতিবেদনগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যায়।

মজার বিষয়, মাঠের পারফরম্যান্সে অবশ্য আল-নাসরের সাফল্য এসেছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে রোনালদোর জোড়া গোলে দামাককে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে সৌদি প্রো লিগের শিরোপা নিশ্চিত করে ক্লাবটি। ২০১৯ সালের পর এটি তাদের প্রথম লিগ শিরোপা। ফলে মাঠে সাফল্য এলেও মাঠের বাইরের আর্থিক সংকট এখন আল-নাসরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সব মিলিয়ে, রোনালদো-যুগে আল-নাসর বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা ও সাফল্য পেলেও এখন ক্লাবটির সামনে বড় প্রশ্ন, তারকাখচিত দল ধরে রেখে কীভাবে আর্থিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা যায়। আগামী দিনে স্পনসরশিপ, নিজস্ব আয় ও মালিকপক্ষের আর্থিক পরিকল্পনাই এই সংকট কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এতিমখানা থেকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে স্বপ্নযাত্রা কিকি রামোসের

0

জীবনের শুরুটা ছিল একটি এতিমখানায়। চারপাশে ছিল অনিশ্চয়তা, ছিল না আপন বলে কেউ। কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয় এমন এক যাত্রা, যা আজ তাকে পৌঁছে দিয়েছে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের স্বপ্নের দোরগোড়ায়। হাইতিতে জন্ম নেওয়া স্টিফেন ‘কিকি’ রামোস এখন আর্জেন্টিনার ফুটবলের অন্যতম সম্ভাবনাময় তরুণ প্রতিভা।

হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের একটি এতিমখানায় বেড়ে উঠা রামোসের। শৈশবের কঠিন সময় কাটানোর পর আর্জেন্টিনার একটি পরিবার তাকে দত্তক নেয়। নতুন দেশ, নতুন ভাষা এবং নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা সেই শিশুই আজ আকাশি-সাদা জার্সি গায়ে চাপানোর স্বপ্ন দেখছেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তিনি ভেলেজ সার্সফিল্ডের যুব দল থেকে উঠে এসে জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলে।

বর্তমানে ভেলেজ সার্সফিল্ডের বয়সভিত্তিক দলে নিয়মিত খেলছেন রামোস। স্বাভাবিকভাবে তিনি লেফট উইংয়ে খেললেও প্রয়োজন হলে ডান প্রান্তেও সমান দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বাঁ পায়ের দারুণ নিয়ন্ত্রণ, দ্রুতগতির ড্রিবলিং, প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা এবং বল হারানোর পরপরই প্রেসিং করার মানসিকতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

চলতি মৌসুমে ভেলেজের যুব দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন এই তরুণ। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই করেছেন ১২টি গোল। এর মধ্যে অ্যাথলেটিকো দে রাফায়েলার বিপক্ষে এক ম্যাচে চার গোল করে আলোচনায় চলে আসেন তিনি। ধারাবাহিক এই পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে কোচ দিয়েগো প্লাসেন্তের অধীনে প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলে ডাক পান রামোস।

জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রামোস বলেন, আর্জেন্টিনাই তার বেড়ে ওঠার দেশ। এখানেই তিনি স্প্যানিশ ভাষা শিখেছেন এবং এখানেই তার জীবন গড়ে উঠেছে। ভেলেজের মূল দলে অভিষেক করা এবং একদিন আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ খেলা-এই দুটি স্বপ্নই তাকে প্রতিদিন আরও কঠোর পরিশ্রম করতে অনুপ্রাণিত করে।

দীর্ঘদিন ধরেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দল স্বাভাবিক লেফট উইংয়ে ভবিষ্যতের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় খুঁজছে। অনেক ফুটবল বিশ্লেষকের বিশ্বাস, উন্নতির ধারা ধরে রাখতে পারলে ২০৩০ বিশ্বকাপে, যখন তার বয়স হবে মাত্র ২১ বছর, তখন জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠতে পারেন কিকি রামোস।

রামোসের গল্পের আরেকটি বিশেষ দিক হলো তার শিকড়। আর্জেন্টিনার ফুটবলে কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়ের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বিরল। হাইতিতে জন্ম নেওয়া এবং পরে আর্জেন্টিনায় দত্তক নেওয়া এই তরুণ ভবিষ্যতে জাতীয় দলে নিয়মিত খেলতে পারলে হাইতিয়ান বংশোদ্ভূত ফুটবলার হিসেবে নতুন ইতিহাসের অংশ হবেন। তাই কিকি রামোসের গল্প শুধু একজন প্রতিভাবান ফুটবলারের উত্থানের নয়, বরং প্রতিকূলতাকে জয় করে স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখার এক অনুপ্রেরণাময় অধ্যায়ের নাম।

রদ্রিকে ছাড়তে ৮০ মিলিয়ন ইউরো চায় সিটি,৬০ মিলিয়নের বেশি দেবে না রিয়াল

0

কদিন আগেই বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জিতেছেন। বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি এবার দলবদলের বাজারে আলোচনায়, ম্যানচেস্টার সিটি থেকে পাড়ি জমাতে পারেন রিয়াল মাদ্রিদে।

স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি হার্নান্দেজকে দলে ভেড়ানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে তাঁকে ছেড়ে দিতে অন্তত ৮০ মিলিয়ন ইউরো দাবি করছে ম্যানচেস্টার সিটি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এস রেডিও-এর সাংবাদিক সার্জিও ভ্যালেন্তিনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদ রদ্রির জন্য সর্বোচ্চ ৬০ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত খরচ করতে রাজি। ফলে এই দুই অঙ্কের ব্যবধান কমাতে আগামী কয়েক সপ্তাহে দুই ক্লাবের মধ্যে কঠিন দরকষাকষি হতে পারে।

এদিকে ব্যক্তিগত ও ফুটবল-সংক্রান্ত কারণেই ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়তে আগ্রহী রদ্রি। তাঁর ইচ্ছা, আগামী মৌসুম থেকেই রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে খেলবেন।

রিয়ালের জন্য ইতিবাচক দিক হলো, রদ্রির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের গ্রীষ্ম পর্যন্ত। ফলে চুক্তির সময়সীমা বিবেচনায় সিটির ওপর কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। তবে রদ্রিকে দলে টানতে হলে দুই ক্লাবকে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।

এখন দেখার বিষয়, সিটি তাদের ৮০ মিলিয়ন ইউরোর দাবি থেকে সরে আসে কি না, নাকি রিয়াল মাদ্রিদ নিজেদের প্রস্তাব বাড়িয়ে সমাধানের পথ খুঁজে নেয়।

এলপিএল খেলতে উড়াল দিলেন রিপন-হৃদয়

শ্রীলঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) খেলবেন আরও দুই বাংলাদেশি। তারা হলেন তাওহিদ হৃদয় এবং রিপন মণ্ডল। দুজনে ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে উড়ালও দিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতি নিতে দেশে ফিরে আসছেন কলম্বোর বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদ। সেখানেই রিপন মণ্ডলকে দলে টেনেছে কলম্বো ক্যাপস। অন্যদিকে জাফনা কিংসে খেলবেন তাওহিদ হৃদয়। এই নিয়ে তৃতীয়বার এলপিএলে খেলতে যাচ্ছেন হৃদয়।

হৃদয় প্রথমবার ২০২৩ সালের আসরে জাফনা কিংসের হয়ে ৬ ম্যাচে ১ ফিফটি এবং ১৩৫.৯৬ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ১৫৫ রান। ২০২৪ সালে ডাম্বুলা সিক্সার্সের হয়ে তিন ম্যাচে দুই ইনিংস খেলে মাত্র ১ রান করেছিলেন তিনি। এবার দ্বিতীয়বার জাফনা কিংসের জার্সিতে এলপিএল মাতাবেন তাওহিদ হৃদয়।

বিসিবির কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র নিয়ে শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে উড়াল দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে রিপন মণ্ডল বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে খেলেছেন। এর আগে ‘এ’দল, বয়সভিত্তিক দলেও খেলেছেন। রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপেও বল হাতে আলো ছড়িয়েছিলেন রিপন।

এবার এলপিএলে খেলবেন কলম্বো ক্যাপসের জার্সিতে, হাসান মাহমুদের বদলি হিসেবে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রস্তুতিতে হাসান ফিরে আসছেন দেশে। হৃদয়-রিপন ছাড়াও এবারের এলপিএলে খেলছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, সাকিব আল হাসান, নুরুল হাসান সোহান। মিরাজ এবং সোহান খেলছেন গল গ্যালান্টসে। লিটন দাসকে গল নিলেও চোটের কারণে লিটন ছিটকে গেলে গল বদলি হিসেবে দলে ডাকে সোহানকে।

অন্যদিকে সাকিব খেলছেন জাফনা কিংসে। জাফনাতেই খেলবেন তাওহিদ হৃদয়। এই দলের হয়ে তাসকিন আহমেদের খেলার কথা থাকলেও অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রস্তুতিতে দেশে ফিরেছেন তিনি।

কিশান-তিলকের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সিরিজ ভারতের

ইশান কিশান ও তিলক বার্মার দুর্দান্ত ব্যাটিং এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৯০ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে অপ্রতিরোধ্য লিড নিয়েছে ভারত। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে সফরকারীরা।

টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত। তবে তৃতীয় উইকেটে ইশান কিশান ও অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের জুটিতে দল ঘুরে দাঁড়ায়। পরে তিলক ভার্মার বিস্ফোরক ইনিংস ভারতের স্কোরকে আরও বড় সংগ্রহে পৌঁছে দেয়।

ইশান কিশান ৪৬ বলে ৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল একাধিক চমৎকার চার ও ছক্কা। অন্যদিকে তিলক ভার্মা মাত্র ২৩ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করে শেষ পর্যন্ত ৬০ রান করেন। শেষ দিকে রিঙ্কু সিংয়ের কার্যকর ক্যামিওতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২১৯ রান তোলে ভারত।

২২০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। দলের সর্বোচ্চ ৩২ রান আসে ব্রায়ান বেনেটের ব্যাট থেকে। তবে ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে বড় কোনো জুটি গড়ে তুলতে পারেনি স্বাগতিকরা।

অভিষেক শর্মা দুর্দান্ত বোলিং করে ১৭ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন। প্রিন্স যাদব শুরুতেই দুই উইকেট নিলেও বোলিংয়ের সময় বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়ে যান। তিনি মাত্র ১.২ ওভারে ১০ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। এছাড়া অভিষেকের পাশাপাশি অন্য বোলাররাও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়েকে ১২৯ রানে অলআউট করে দেন।

এই জয়ের মাধ্যমে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের হতাশা কাটিয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে সিরিজ জয় নিশ্চিত করল শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বাধীন ভারত। এখন শেষ ম্যাচ জিতে হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্য থাকবে সফরকারীদের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ভারত: ২০ ওভারে ২১৯/ ৫

জিম্বাবুয়ে: ১৮.৫ ওভারে ১২৯/১০

ভারত ৯০ রানে জয়ী

সিরিজের অবস্থা: ভারত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে, এক ম্যাচ বাকি।

ইন্টার মায়ামির গুঞ্জন উড়িয়ে কোলো কোলাতে ভোজিনিয়া

0

বিশ্বকাপের তারকা গোলরক্ষক

বিশ্বকাপ ২০২৬ এর বড় চমকের মধ্যে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া ছিলেন অন্যতম এই কথা হয়তো সবাই স্বীকার করবেন। বিশ্বকাপ শেষে তাই ৪০ বছর বয়সী গোল রক্ষক কোন ক্লাবে যোগ দিবেন তা নিয়ে সরব ছিল সোশ্যাল মিডিয়া। শোনা যাচ্ছিল মেসির ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন ভোজেনিয়া কারণ হিসেবে মনে কার হচ্ছিল মেসি তার পরিবারের জন্য মাঠে খেলা দেখার টিকেট সংগ্রহ করে দিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছিলেন ইত্যাদি তবে সবই এখন অতীত, ইন্টার মায়ামির গুঞ্জন উড়িয়ে কোলো কোলোতে যোগ দিবেন ভোজিনিয়া টাই বাস্তবতা।

কেপ ভার্দের গোল রক্ষক ভোজিনিয়া

তবে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটেছে চিলির বিখ্যাত ক্লাব ‘কোলো কোলোর’ সভাপতি আনিবাল মোসা বিষয়টি নিশ্চিত করার পর। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ফ্রি এজেন্ট হিসেবে থাকা ভোজিনিয়া শিগগিরই চিলিতে যাবেন। সেখানে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন তিনি। এরপর এস্তাদিও মনুমেন্তালে তাঁকে আনুষ্ঠানিক ভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। সভাপতি মোসা বলেন, ‘ভোজিনিয়া কোলো কোলোর খেলোয়াড় হতে যাচ্ছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তিনি চিলিতে আসবেন এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।’

ভোজিনিয়া ও ক্লাব দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি যদিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তারপরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোলো কোলো ক্লাব একটি ছবি পোস্ট করে ভোজিনিয়াকে দলে ভেড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। আবার কেপ ভার্দে গোলরক্ষকের কোঁকড়ানো চুলের সংকেত দিয়ে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে ‘অরা।’

ভোজিনিয়ার পর্তুগাল ক্লাব: বিশ্বকাপ শুরুর আগে পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শাভেসের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়েছিল তাঁর। তখন হয়তো কেউ ই ভাবতে পারেননি যে তিনি! বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে করে নায়ক হয়ে যাবেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাই ভোজিনিয়ার জনপ্রিয়তা হয়েছে আকাশ ছোঁয়া। বিশ্বকাপে চলাকালীন সময়েই তার ইনস্টাগ্রামে অনুসারীর সংখ্যা হয়ে যায় ২৮.৩ মিলিয়ন, যা থিবো কোর্তোয়া, মানুয়েল নয়ার, ইকার ক্যাসিয়াসের মতো কিংবদন্তিদের চেয়েও বেশি। আবার সমর্থকদের ভোটে হওয়া টুর্নামেন্ট সেরা একাদশেও জায়গা পেয়েছেন তিনি।

কোলো কোলো ফুটবল ক্লাব:

চিলির সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সফল ক্লাব হল এই কোলো কোলো। ক্লাবটি ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ক্লাবটি চিলির সান্তিয়াগো শহরের প্রতিনিধিত্ব করে। কোচ হলেন; আর্জেন্টিনার ফার্নান্দো অর্তিজ। আর্তুরো ভিদাল এই ক্লাবে খেলেন। কোলো কোলো ৩৪টি চিলিয়ান লিগ, ১৪টি কোপা চিলি এবং ১৯৯১ সালের কোপা লিবার্তোদোরেস জিতেছে, যা কোনো চিলিয়ান ক্লাবের প্রথম ও একমাত্র লিবার্তোদোরেস শিরোপা।

ভোজিনিয়া ও মার্কেটিং: ৪০ বছর বয়সী ভোজিনিয়া আরো ১ টা বা ২টি ফুটবল মৌসুম খেলতে চান। এক সাক্ষাৎকারে ভোজিনিয়া বলেন, ‘আমি এমন একটি দল চাই, যারা আমার খেলোয়াড়ি দক্ষতাকে মূল্যায়ন করবে, শুধু মার্কেটিংয়ের জন্য কিনবে না।’ একসময় মেসির ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জনও উঠেছিল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভোজিনিয়া প্রভাবঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেরপ্রিয় মুখ ভোজিনিয়া নতুন দল পাওয়ায় ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। একজন লিখেছেন, ‘তাঁর কারণে কত শিশু যে গোলরক্ষক হতে চাইবে! এটি দারুণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’ এমনকি ইংরেজ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামও এই চুক্তির পোস্টে মন্তব্য করে লিখেছেন, ‘দ্য বেস্ট।’

মাঠে ফিরেই জোড়া গোল নেইমারের, উদ্‌যাপনে বিতর্ক, পরের ম্যাচে নিষিদ্ধ

0

বিশ্বকাপ থেকে হতাশাজনক বিদায়ের পর সমালোচনার কেন্দ্রেই ছিলেন নেইমার। মাঠের বাইরে পোকার খেলা নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। তবে মাঠে ফিরেই নিজের ফুটবল প্রতিভার ঝলক দেখালেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। সান্তোসের হয়ে জোড়া গোল করে দলকে হার এড়াতে সাহায্য করেছেন তিনি। তবে গোলের উদ্‌যাপন ও ম্যাচে দেখা হলুদ কার্ডের কারণে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন নেইমার।

ব্রাজিলিয়ান সিরি ‘আ’ লিগে রোববার (স্থানীয় সময়) ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামে শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে সান্তোস। দলের দুটি গোলই করেছেন নেইমার। ক্লাব বিশ্বকাপের পর এটাই ছিল সান্তোসের হয়ে নেইমারের প্রথম ম্যাচ, যেখানে তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে বাররেয়ালের সঙ্গে ওয়ান-টু পাস খেলে প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে দারুণ ফিনিশে গোল করেন তিনি। গোলের পর তাস বিলানোর ভঙ্গিতে উদ্‌যাপন করেন নেইমার, যা সাম্প্রতিক পোকার বিতর্কের প্রতি ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন অনেকে।

প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া শাপেকোয়েন্সে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। ৫০ মিনিটে মার্সিনিও সমতা ফেরানোর পর ৬১ মিনিটে সান্তোসের ডিফেন্ডার জোয়াও আনানিয়াসের আত্মঘাতী গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। হারের শঙ্কায় পড়া সান্তোস শেষ দিকে পায় পেনাল্টি। ৮৫ মিনিটে কাবায়েরোকে বক্সের মধ্যে ফাউল করলে স্পট কিকের সুযোগ পান নেইমার। ঠান্ডা মাথায় গোল করে দলকে সমতায় ফেরান তিনি। গোলের পর প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের উসকানির জবাব দিয়ে দ্রুত বল নিয়ে মাঝমাঠে চলে যান, কারণ তখনও জয়ের আশায় আক্রমণ চালিয়ে যেতে চেয়েছিল সান্তোস। তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি।

তবে ম্যাচটি পুরোপুরি সুখকর হয়নি নেইমারের জন্য। দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়ের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। মৌসুমে এটি ছিল তাঁর তৃতীয় হলুদ কার্ড। ফলে ব্রাজিলিয়ান লিগে সান্তোসের পরের ম্যাচে খেলতে পারবেন না এই ফরোয়ার্ড।

এই ড্রয়ে সান্তোসের পয়েন্ট হয়েছে ২২। তারা আপাতত লিগের ১৪তম স্থানে উঠে এলেও অবনমন অঞ্চলের সঙ্গে ব্যবধান এখনও খুব বেশি নয়। অন্যদিকে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতেই রয়েছে শাপেকোয়েন্সে। তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে ফেরায় কিছুটা হলেও আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে দলটি।

১৯ বছরেই কোটি কোটি ডলারের মালিক ইয়ামাল

0

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত তারকাদের একজন লামিন ইয়ামাল। বার্সেলোনা ও স্পেনের এই উইঙ্গার শুধু মাঠের পারফরম্যান্সেই নয়, অল্প বয়সেই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও আলোচনায়। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে সংগ্রাম, পারিবারিক ত্যাগ আর কঠোর পরিশ্রমের দীর্ঘ গল্প।

ইয়ামালের উত্থান এতটাই দ্রুত হয়েছে যে তাকে ধরে রাখতে আগের চুক্তি বাতিল করে নতুন চুক্তি করতে বাধ্য হয় বার্সেলোনা। আগে বছরে প্রায় ১৮ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার আয় করলেও ২০২৫ সালের মে মাসে ক্লাবটির সঙ্গে ছয় বছরের নতুন চুক্তি করেন তিনি। সেই চুক্তিতে কর কাটার আগে তার বার্ষিক বেতন বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। পারফরম্যান্সভিত্তিক বোনাস যোগ হলে এই অঙ্ক আরও বাড়তে পারে।

বার্সেলোনার এই সিদ্ধান্তও ছিল প্রত্যাশিত। ১৫ বছর ৯ মাস ১৬ দিন বয়সে ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার হিসেবে প্রথম দলে অভিষেক হয়েছিল তার। এরপর স্পেন জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের (ইউরো) সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা এবং মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ব্যালন ডি’অরের মনোনয়ন পাওয়া সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হওয়ার কীর্তি গড়েন।

ক্লাবের বেতনের পাশাপাশি বাণিজ্যিক চুক্তি থেকেও বড় অঙ্কের আয় করছেন ইয়ামাল। ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের সঙ্গে ১০ বছরের প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের চুক্তি করেছেন তিনি। এ ছাড়া বিটস বাই ড্রে, ওপ্পো, পাওয়ারেড, কোনামি ও ইউনিসেফসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব থেকেও নিয়মিত আয় করছেন এই তরুণ তারকা।

ইয়ামালের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আজ তিনি কোটি কোটি ডলারের মালিক হলেও শৈশব ছিল বেশ কষ্টের। বার্সেলোনায় জন্ম নেওয়া ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই মরক্কো থেকে আসা একজন ভবন রংমিস্ত্রি।

আর মা শেইলা এবানা ছিলেন নিরক্ষীয় গিনির বংশোদ্ভূত একজন ওয়েট্রেস। সংসার চালাতে পরিবারের সবাইকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। বিশেষ করে দাদি ফাতিমার অবদানের কথা প্রায়ই উল্লেখ করেন ইয়ামাল।

এক পডকাস্টে তিনি জানান, তার দাদি মরক্কো থেকে বাসে লুকিয়ে স্পেনে পৌঁছেছিলেন। পরে একসঙ্গে তিনটি কাজ করে ছেলে ও পরিবারের অন্য সদস্যদের স্পেনে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেছিলেন।

ইয়ামালের বয়স যখন মাত্র তিন বছর, তখন তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। এরপর বার্সেলোনার শ্রমজীবী মানুষের এলাকায় বড় হয়েছেন তিনি। অর্থকষ্টের মধ্যেও পরিবার তাকে স্বপ্ন দেখাতে ছাড়েনি। সেই সংগ্রামের পথ পেরিয়েই আজ বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা