Home Blog Page 81

দোন্নারুমার বিয়েতে ‘ভাইকিং রো’ মাতালেন হালান্ড

0

নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ছুটির আমেজেই আছেন আর্লিং হালান্ড। তবে মাঠের বাইরেও যে তিনি সমানভাবে নজর কাড়তে পারেন, সেটির আরেকটি উদাহরণ মিলল ইতালিয়ান গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুমার বিয়ের অনুষ্ঠানে।

দীর্ঘদিনের সঙ্গী অ্যালেসিয়া এলেফান্তেকে ইতালির লোকোরোতন্দো শহরে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিয়ে করেন দোন্নারুমা। সেই আয়োজনে প্রেমিকা ইসাবেল হাউগসেং ইয়োহানসেনকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান তারকা হালান্ড। তবে অতিথি হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি, নিজের স্বভাবসুলভ প্রাণচাঞ্চল্যে অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হন।

বিয়ের একপর্যায়ে ড্রামের তালে নরওয়ের বিখ্যাত ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনের সূচনা করেন হালান্ড। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে উপস্থিত অতিথিদের বড় একটি দল বসে বসেই একসঙ্গে নৌকা চালানোর ভঙ্গিতে উদযাপনে অংশ নেয়। এমনকি এক অতিথি উদযাপনের ধরন বুঝতে না পারলে হালান্ড নিজেই হেসে তাকে দেখিয়ে দেন কীভাবে এটি করতে হয়। মুহূর্তটি উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে দারুণ উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে।

বিশ্বকাপ চলাকালেও নরওয়ের সমর্থকদের মধ্যে ‘ভাইকিং রো’ উদযাপন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড কিংবা হালান্ডের নেতৃত্বে পুরো দলকে এই উদযাপন করতে দেখা গেছে। সেই পরিচিত দৃশ্যই এবার ফুটবল মাঠের বাইরে, দোন্নারুমার বিয়ের আসরে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।

দোন্নারুমার বিয়েতে ইতালি ও ইউরোপীয় ফুটবলের বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ উপস্থিত ছিলেন। অতিথি তালিকায় ছিলেন এসি মিলানের সাবেক অধিনায়ক ও ইতালি ফুটবল ফেডারেশনের স্পোর্টিং ডিরেক্টর পাওলো মালদিনি। এ ছাড়া ইতালির জাতীয় দলের মিডফিল্ডার সান্দ্রো টোনালি ও নিকোলো বারেল্লাসহ আরও কয়েকজন ফুটবলার অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

এদিকে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সফল মৌসুম কাটানোর পর নিজের প্রথম বিশ্বকাপও স্মরণীয় করে রেখেছেন হালান্ড। তার নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো নরওয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়। পুরো টুর্নামেন্টে ৭ গোল করেন তিনি, যার মধ্যে ব্রাজিলের বিপক্ষে ছিল জোড়া গোল। মৌসুম শুরুর আগে বর্তমানে ছুটির সময় উপভোগ করছেন হালান্ড। এখনও ম্যানচেস্টার সিটির প্রাক-মৌসুম অনুশীলনে যোগ দেননি তিনি। কোচ এনজো মারেস্কার অধীনে নতুন মৌসুমের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইংলিশ ক্লাবটি।

বিসিবির কোচ নিয়োগ পরীক্ষায় অধিকাংশ প্রার্থী ফেল

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) জেলা পর্যায়ের কোচ নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রার্থী লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফলে ৬১টি পদের বিপরীতে প্রাথমিকভাবে পাস করেছেন মাত্র ৩৯ জন। এ অবস্থায় শূন্য পদ পূরণে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিসিবি।

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, জেলা পর্যায়ের ৫৯টি এবং ঢাকা মহানগরের দুটি কোচিং পদের জন্য মোট ২১৮ জন আবেদন করেছিলেন। গত ২৩ জুলাই লিখিত এবং ২৪ জুলাই ব্যবহারিক (প্র্যাকটিক্যাল) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দুই ধাপের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৭০ জনের বেশি প্রার্থী অকৃতকার্য হন।

পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, প্রাথমিকভাবে লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক মূল্যায়ন শেষে মাত্র ৩৯ জনকে উত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে তাঁদের মধ্য থেকেও কয়েকজনের শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী রয়েছে কি না, তা যাচাই করছে বিসিবি। ফলে চূড়ান্ত নিয়োগ তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

যোগ্য প্রার্থীর ঘাটতি থাকায় জেলা পর্যায়ের কোচ নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে গতকাল রাতে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

জেলা পর্যায়ে দক্ষ ও যোগ্য কোচ নিয়োগের মাধ্যমে তৃণমূল ক্রিকেটের মানোন্নয়নই এই নিয়োগ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে বিসিবি। তবে সাম্প্রতিক পরীক্ষায় বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর অনুত্তীর্ণ হওয়া মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষকদের দক্ষতা ও প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

হজের দৃঢ়তায় প্রথম দিনের নিয়ন্ত্রণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের

0

সকালের সেশনটা ছিল পুরোপুরি পাকিস্তানের। কিন্তু দিনের শেষ হাসি হাসল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা ক্রিকেট একাডেমিতে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে কেভেম হজের দায়িত্বশীল অপরাজিত ৮৩ রানের ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৯৪ রান তুলে শক্ত অবস্থানে দিন শেষ করেছে স্বাগতিকরা। বৃষ্টির কারণে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় খেলা বন্ধ থাকায় প্রথম দিনে মাত্র ৬৭ ওভার মাঠে গড়ায়। আলো স্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা।

দিন শেষে কেভেম হজের সঙ্গে অপরাজিত ছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার শাই হোপ। তিনি ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে অপরাজিত ২৮ রান করেন। চতুর্থ উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৮৮ রানের জুটিই প্রথম দিনের শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চালকের আসনে বসিয়ে দিয়েছে।

ব্রায়ান লারা ক্রিকেট একাডেমিতে এটিই ছিল প্রথম টেস্ট ম্যাচ। টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। খেলা শুরুর আগে সদ্য প্রয়াত কিংবদন্তি স্যার গারফিল্ড সোবার্সের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন দুই দলের ক্রিকেটার ও ম্যাচ কর্মকর্তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড় ও আম্পায়াররা কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামেন।

সকালের সেশনে বল হাতে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস। অফ স্টাম্পের বাইরে নিখুঁত লাইন ও লেংথে একের পর এক বল করে স্বাগতিক ব্যাটারদের রীতিমতো বন্দি করে রাখেন অভিজ্ঞ এই পেসার। প্রথম স্পেলে করা সাত ওভারের মধ্যে পাঁচটিই ছিল মেডেন। রান তুলতে হিমশিম খাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৪.১ ওভারে তোলে মাত্র ২৩ রান।

চাপ কাটাতে গিয়ে প্রথম উইকেট হারায় তারা। শরীরের খুব কাছের বল কাট করতে গিয়ে নিজের স্টাম্পেই বল লাগিয়ে ফেরেন ব্র্যান্ডন কিং। আব্বাসের নিখুঁত বোলিংয়েরই পুরস্কার ছিল এই উইকেট।

ব্যাটিং মাঝে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ব্যাটার

এরপরই বাধা হয়ে দাঁড়ায় বৃষ্টি। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই মধ্যাহ্ন বিরতি ঘোষণা করা হয়। বৃষ্টি শেষে আর্দ্র উইকেটে পেসারদের জন্য বাড়তি সহায়তা মিললেও নতুন উদ্যমে ব্যাটিং শুরু করেন কেভেম হজ ও ট্যাগেনারিন চন্দরপল। আব্বাসের দ্বিতীয় স্পেলের প্রথম দুই ওভার থেকেই ১৪ রান তুলে পাকিস্তানের চাপ কিছুটা কমিয়ে দেন হজ। দুজন মিলে দ্বিতীয় উইকেটে অর্ধশত রানের জুটি গড়ে ইনিংসকে স্থিতি এনে দেন।

তবে অধিনায়ক বাবর আজম দ্রুত বোলিং পরিবর্তনের সুফল পান। স্পিনার আলি উসমানকে এক ওভারের পর সরিয়ে আক্রমণে আনেন আমির জামাল। প্রথম ওভারেই সফল হন তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে সালমান আগার হাতে ক্যাচ তুলে দেন চন্দরপল।

এরপর কিছুটা ছন্দ হারান জামাল। পাকিস্তান আবার ভরসা রাখে আব্বাসের ওপর। উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান স্টাম্পের একেবারে কাছে উঠে আসেন, যাতে জনগু সহজে ক্রিজ ছেড়ে বের হতে না পারেন। সেই কৌশলই কাজে দেয়। সোজা বলটি খেলতে ব্যর্থ হন জনগু। মাঠের আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলেও পাকিস্তানের রিভিউয়ে সিদ্ধান্ত বদলে যায়। বল ট্র্যাকিংয়ে তিনটি লাল সংকেত দেখানোর পর এলবিডব্লিউ হন তিনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস:
১৯৪/৩ (৬৭ ওভার)। (কেভেম হজ ৮৩, শাই হোপ ৩৯, চন্দরপল ২১, আমির জাঙ্গু ২১; মোহাম্মদ আব্বাস ২/৪৪)।

সুয়ারেজের পেনাল্টিতে মন্ট্রিলে মায়ামির দারুণ জয়

0

মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) লিওনেল মেসিকে ছাড়াই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে ইন্টার মায়ামি। কানাডার মন্ট্রিলের স্টেড সাপুতোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিক সিএফ মন্ট্রিলকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ফ্লোরিডার ক্লাবটি। ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন অভিজ্ঞ উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে করা তার একমাত্র গোলেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে মায়ামি। এই জয়ে টানা ছয়টি অ্যাওয়ে ম্যাচে জয়ের কীর্তি গড়ল তারা, অন্যদিকে মন্ট্রিলের জয়হীনতার ধারা গড়াল টানা ছয় ম্যাচে।

মায়ামির কঠিন পরীক্ষা

বিশ্বকাপ-পরবর্তী বিরতির পর এটিই ছিল ইন্টার মায়ামির আরেকটি কঠিন পরীক্ষা। দলের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসি না থাকলেও শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে দেখা যায় সফরকারীদের। যদিও ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে আক্রমণের ধার বেশি ছিল মন্ট্রিলের। প্রিন্স ওউসুর দারুণ একটি ক্রস থেকে নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ড্যানিয়েল রিওস। কিছুক্ষণ পর হেন্নাদি সিনচুকের ব্যাকহিল শটও দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মায়ামির গোলরক্ষক রোকো রিওস নোভো। স্বাগতিকরা একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি।

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময় থেকে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে ইন্টার মায়ামি। বলের দখল বাড়ানোর পাশাপাশি আক্রমণেও গতি আনে তারা। বিরতির ঠিক আগে তেলাস্কো সেগোভিয়ার জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয় অতিথিদের। ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

গোলের পর আহত সতীর্থ জার্মান বের্তেরামের জার্সি হাতে লুইস সুয়ারেজ

দ্বিতীয়ার্ধেও মন্ট্রিল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। তবে গোলমুখে ব্যর্থতা তাদের তাড়া করে ফেরে। ম্যাচের ৭০তম মিনিটে ভয়াবহ এক সংঘর্ষে মাথায় আঘাত পান ইন্টার মায়ামির জার্মান বের্তেরামে। মন্ট্রিলের ডিফেন্ডার এফ্রাইন মোরালেসের সঙ্গে হেড-টু-হেড সংঘর্ষে অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত চিকিৎসাকর্মীরা মাঠে প্রবেশ করেন এবং অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনাটি ফাউল হিসেবে বিবেচিত হলে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন ম্যাচ কর্মকর্তা।

পেনাল্টি থেকে গোল

৮১তম মিনিটে লুইস সুয়ারেজ কোনো ভুল না করে বল জড়িয়ে দেন জালে। গোল করার পর আহত বের্তেরামের জার্সি তুলে ধরে সতীর্থের প্রতি সমর্থন জানান তিনি। সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয়। শেষ মুহূর্তে ১৩ মিনিট অতিরিক্ত সময় পেলেও সমতায় ফিরতে পারেনি মন্ট্রিল। মায়ামির রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক রোকো রিওস নোভো দুর্দান্ত দৃঢ়তায় জয় নিশ্চিত করেন।

এই ম্যাচে লিওনেল মেসি খেলেননি। আর্জেন্টাইন অধিনায়ক এখনও ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে ক্লাবের অনুমোদিত বিশ্রামে রয়েছেন। একই কারণে খেলেননি তার জাতীয় দলের সতীর্থ রদ্রিগো দি পলও।

হকিতে পাকিস্তানের গলায় ভারতের সাত গোলের মালা

0

ভুল করায় শাস্তি পেল পাকিস্তান হকি দল। তার খেসারতও তাদেরই দিতে হল। নিয়ম ভেঙে বেশি খেলোয়াড় নামিয়ে নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মেরেছে পাকিস্তান হকি দল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানকে গোলের মালা পরাল ভারত। একে একে করলো সাত গোল।

ওমানে হকির একটি ফাইভ-এ-সাইড আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত-পাকিস্তান। নিয়ম অনুসারে প্রতি দলে পাঁচজন করে খেলোয়াড় থাকার কথা। ভারতীয় দলে পাঁচজন খেলোয়াড় ছিল। কিন্তু খেলা শুরু হওয়ার পরেই রেফারি দেখেন, পাঁচ জনের বদলে ছ’জন খেলোয়াড় নামিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। অর্থাৎ একজন বেশি খেলোয়াড় নিয়ে খেলছে। নিয়মের তোয়াক্কা করেনি দলটি। ফলে যা হওয়ার তাই হলো। শাস্তির মুখে পড়লো পাকিস্তান।

খেলতে হয়েছে তিনজন নিয়ে

শাস্তি হিসেবে প্রথমে এক অতিরিক্ত খেলোয়াড়কে তুলে নিতে হয় পাকিস্তানকে। তার পর পাকিস্তানের দুই খেলোয়াড়কে বার করে দেন তিনি। ফলে তিন জন খেলোয়াড় নিয়ে বাকি ম্যাচ খেলতে হয় তাদের। অর্থাৎ ভারত দলে পাঁচ খেলোয়াড়, পাকিস্তান দলে মাত্র তিন খেলোয়াড়। যেখানে একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে খেলাটাই দুষ্কর, সেখানে পাকিস্তান দলে দুই খেলোয়াড় কম। দু’জন বেশি খেলোয়াড় থাকার পুরোপুরি সুবিধা কাজে লাগায় ভারত। একে একে পাকিস্তানের জালে বল পাঠাতে থাকে তারা। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭-৩ গোলে জয় পায় ভারত।

পাকিস্তান ও ভারতের লড়াই

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ পাকিস্তান হকি সংস্থা। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, দলের কাছে জবাবদিহি করেছে তারা। দলের প্রধান কোচ তাহির জামান, সহকারী কোচ রেহান বাট, কামার ইব্রাহিম ও উমর ভুট্টর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, কী ভাবে এত বড় ভুল হল।

আগেও ঘটেছে এমন ঘটনা

জানা গিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে দল বোর্ডকে জানিয়েছে, যোগাযোগের সমস্যার কারণে এই ভুল হয়েছে। তবে পাকিস্তান হকিতে এই ধরণের ঘটনা প্রথম নয়। এর আগে ২০২২ সালের এশিয়া কাপের হকির বাছাইয়ে তারা এমন এক ঘটনা ঘটিয়েছিল। সে সময় এশিয়া কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে জাপানের বিরুদ্ধে পিছিয়ে থেকে শেষ মুহূর্তে গোল করে পাকিস্তান। কিন্তু সেই গোল বাতিল করা হয়। কারণ, রেফারি দেখতে পান পাকিস্তান দলে খেলোয়াড় বেশি। ১১ জনের বদলে পাকিস্তানের ১২ জন খেলোয়াড় খেলছেন। সেই হারের ফলে সে বার বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি পাকিস্তান। তার পরেও সেই একই ঘটনা ঘটাল তারা।

টিভিতে আজকের খেলা: ২৬ জুলাই ২০২৬

ভারত–জিম্বাবুয়ের তৃতীয় টি–টুয়েন্টি আজ, পাকিস্তান–ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্টের দ্বিতীয় দিন। আছে কমনওয়েলথ গেমসের খেলাও।

কমনওয়েলথ গেমস
৪র্থ দিন
বেলা ১টা, সনি স্পোর্টস ২

ক্রিকেট
৩য় টি-টুয়েন্টি

জিম্বাবুয়ে-ভারত
বিকেল ৫টা, ফ্যানকোড

তারুবা টেস্ট-২য় দিন
ওয়েস্ট ইন্ডিজ-পাকিস্তান
রাত ৮টা, পিটিভি স্পোর্টস ও ট্যাপম্যাড

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
জাফনা-ক্যান্ডি
বেলা ৩-৩০ মি., টি স্পোর্টস

ডাম্বুলা-গল
রাত ৮টা, টি স্পোর্টস

বালক ফাইনালে সিলেট-ময়মনসিংহ, বালিকা ফাইনালে রাজশাহী-রংপুর। 

0

নতুন কুঁড়ি ফুটবল ২০২৫-২৬

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ফুটবল ইভেন্টের বালক বিভাগের ফাইনালে উঠেছে সিলেট ও ময়মনসিংহ। এবং বালিকা বিভাগের ফাইনালে উঠেছে রাজশাহী ও রংপুরের মেয়েরা। আজ ঢাকা শারিরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত বালক বিভাগে দিনের প্রথম সেমিফাইনালে সিলেট ৩-১ গোলে বরিশাল বিভাগকে পরাজিত করে অপরদিকে ২য় সেমিফাইনালে ময়মনসিংহ রংপুর বিভাগকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে উঠে অপরদিকে বালিকা বিভাগের প্রথম সেমিফাইনাল খেলায় রাজশাহী বিভাগ খুলনা- বিভাগকে ২-০ গোলে এবং ২য় সেমিফাইনালে রংপুর বিভাগ-ময়মনসিংহ বিভাগকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে উত্তীর্ণ হয়। ফলে ২৭ জুলাই বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে বালক ফাইনালে সিলেট-ময়মনসিংহ এবং বালিকা ফাইনালে রাজশাহী-রংপুর মুখোমুখি হবে।

রবিশালকে হারিয়ে সিলেটের খেলোয়াড়দের উল্লাস

বালক বিভাগের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ময়মনসিংহ বিভাগ ১-০ গোলে রংপুর বিভাগকে পরাজিত করে দ্বিতীয় দল হিসেবে ফাইনাল নিশ্চিত করে। খেলায় রংপুর প্রাধান্য বিস্তার করে খেলেও ২১ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ময়মনসিংহের রাতুল গোল করে দলের লিড দেন এরপর রংপুর বিভাগ গোলের জন্য মরিয়া হয়ে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে বিশেষ করে রংপুরের ক্যাপ্টেন হুসাইন সমস্ত মাঠ জুড়ে খেলেছেন কিন্তু অন টার্গেটের শর্ট নিতে পারেননি। প্রথমার্ধে যদিও রংপুর বিভাগ ভালো খেলেছে কিন্তু সুযোগের সদ্ব্যবহার করে এগিয়ে ছিল ময়মনসিংহ দল। সেকেন্ড হাপে তুলনামূলক বেটার ফুটবল খেলেছে ময়মনসিংহ বিভাগ, আক্রমণের ধার বেশি থাকলেও নতুন করে আর গোলের দেখা পায়নি যেহেতু অনূর্ধ্ব-১৪ বালক বিভাগের খেলা, মাঠে প্রচন্ড গরম ছিল মাঠ ভারি মাঠ ছিল যার কারণে স্বাভাবিক খেলা কোন দলই খেলতে পারেনি তারপরেও ময়মনসিংহ বিভাগ দ্বিতীয়ার্ধে বেটার ফুটবল খেলেছে আক্রমণের ধারও বেশি ছিল কিন্তু নতুন করে আর গোলের দেখা পায়নি। রংপুর বিভাগ আক্রমণ করলেও আক্রমণগুলো সেই ভাবে তারা ফিনিশ করতে পারেনি। যার কারণে ময়মনসিংহ ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে খেলা শেষ করে ২য় দল হিসেবে  ফাইনালে উঠে।

বালক ফাইনালে সিলেট-ময়মনসিংহ, বালিকা ফাইনালে রাজশাহী-রংপুর। 
সিলেটের স্কোরার রাফি ও রিহাদ

অপরদিকে বালিকা বিভাগের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে রংপুর বিভাগ ও ময়মনসিংহ বিভাগ পরস্পর মুখোমুখি হয় বালকদের মত। কিন্ত তুলনামূলক বেটার ফুটবল খেলেছে ছেলেদের চাইতে রংপুর বিভাগের মেয়েরা । তবে প্রথমার্ধে কোন দলই গোলের দেখা পায়নি অপেক্ষাকৃত ভালো ফুটবল খেলেছে রংপুর বিভাগের মেয়েরা তবে ফিনিশিংয়ের অভাবেই গোল বঞ্চিত হতে হয়েছিল প্রথমার্ধে। দ্বিতীয়ার্ধে ১১ মিনিটের মাথায় কিসকু প্রথম গোল করে রংপুর বিভাগকে এগিয়ে নিলে বাকি সময়টুকু আর কোন গোল না হওয়ায় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রংপুর বিভাগের বালিকারা। তবে ময়মনসিংহ গোল হজমের পর গোল পরিশোধে মরিয়া হয়েও অন টার্গেটে শট এবং ভাল স্ট্রাইকারের অভাবে গোল বঞ্চিত হয়। ময়মনসিংহের অধিনায়ক রিমি, সামিয়া, মিতালী এবং পিংকি ও হাসিনা সেরাটা দিয়েও গোল ছাড়াই ম্যাচ শেষ করে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।

ময়মনসিংহের গোল দাতা রাতুল

আগামী ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে বালক বিভাগে সিলেট ও ময়মনসিংহ এবং বালিকা বিভাগে রাজশাহী ও রংপুর মুখোমুখি হবে। টি স্পোর্টস খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।

এবার ছিটকে গেলেন নাহিদ রানা

অস্ট্রেলিয়া সিরিজ সিরিজ থেকে এবার চোট নিয়ে সিটকে গেলেন নাহিদ রানা। এছাড়া আর চার ক্রিকেটার চোটের সঙ্গে লড়াই করেছেন। সব মিলে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে পাঁচ ক্রিকেটার চোট আক্রান্ত। শনিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি  এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ডানহাতি পেসার নাহিদ রানা গত ১৭ জুলাই জিম্বাবুয়ে ম্যাচ চলাকালে শরীরের বাম পাশের পেশিতে চোট পান। পরবর্তী পরীক্ষায় তার দ্বিতীয় মাত্রার পেশি টান ধরা পড়েছে। এ কারণে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজে খেলতে পারবেন না।

চিকিৎসকদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত পেশি পুরোপুরি সেরে উঠতে প্রায় চার সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপর ধাপে ধাপে বোলিংয়ের চাপ বাড়াতে আরও দুই থেকে চার সপ্তাহ লাগবে। সব মিলিয়ে তার সুস্থ হতে ছয় থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম গক ১৪ জুলাই বাম উরুর পেছনের পেশিতে প্রথম মাত্রার চোট পান। বর্তমানে তিনি পুনর্বাসন কার্যক্রমে ভালো অগ্রগতি করছেন।

তিনি ২৯ জুলাই থেকে বোলিং শুরু করবেন এবং ১২ আগস্টের দিকে তার শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা নেওয়া হবে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে তার খেলার সম্ভাবনা কম। তবে পুনর্বাসন সফলভাবে শেষ করে চিকিৎসকদের অনুমতি পেলে দ্বিতীয় টেস্টে খেলার সুযোগ থাকতে পারে।

লিটন কুমার দাস বাম পায়ের পেশির চোট থেকে সেরে উঠছেন। সিঙ্গাপুরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি গতকাল প্লেটলেট-সমৃদ্ধ রক্তরস চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।

তিনি ২৮ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে দৌড় ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অনুশীলন শুরু করবেন। ১৩ আগস্টের দিকে তার ফিটনেস পরীক্ষা হবে। পুনর্বাসন সফলভাবে শেষ করে চিকিৎসকদের অনুমতি পেলে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে তিনি নির্বাচনের জন্য বিবেচিত হবেন।

ডানহাতি পেসার তানজিম হাসান সাকিব এখনও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। সাম্প্রতিক পরীক্ষা ও বিদেশি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, তিনি পুনর্বাসন চালিয়ে যাবেন এবং আট থেকে দশ সপ্তাহ পর আবার পরীক্ষা করা হবে।

তার হাড়ের চোট কতটা সেরে ওঠে, তার ওপর মাঠে ফেরার সময় নির্ভর করবে। বর্তমানে চলতি বছরের শেষ দিকে তার মাঠে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ডান উরুর পেছনের পেশি ও পায়ের পেশির চোট থেকে সেরে উঠছেন। তিনি প্রতিদিন পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন এবং জুলাই মাসের শেষ দিকে তার শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা নেওয়া হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিংয়ের অনুশীলন সম্পন্ন করতে পারলে ১৮ আগস্ট ২০২৬-এর পর থেকে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে জাতীয় দলের জন্য নির্বাচনের উপযোগী হবেন।

ফ্রি ট্রান্সফারে হামবুর্গে মরক্কোর মিডফিল্ডার বিলাল নাদির

0

মরক্কোর তরুণ মিডফিল্ডার বিলাল নাদিরকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে দলে ভিড়িয়েছে জার্মান ক্লাব হামবুর্গ এসভি। অলিম্পিক মার্সেইয়ের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ফ্রি ট্রান্সফারে নতুন ক্লাবে যোগ দিয়েছেন ২২ বছর বয়সী এই ফুটবলার। শুক্রবার এক বিবৃতিতে নাদিরকে দলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জার্মান ক্লাবটি।

হামবুর্গে যোগ দেওয়ার পর নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নাদির। নতুন ক্লাবের হয়ে মাঠে নামার পাশাপাশি সমর্থকদের সামনে খেলার জন্যও মুখিয়ে আছেন তিনি। নাদির বলেন, হামবুর্গের খেলোয়াড় হতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং ক্লাবটির সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় রয়েছেন।

মার্সেইয়ে প্রায় পাঁচ বছর কাটিয়েছেন নাদির। ক্লাবটির রিজার্ভ দল থেকে ধীরে ধীরে মূল দলে উঠে আসেন তিনি। ফরাসি ক্লাবটির হয়ে পেশাদার ফুটবলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পান এই মিডফিল্ডার। মার্সেইয়ের মূল দলের হয়ে মোট ৫৩ ম্যাচে মাঠে নেমে দু’টি গোল করেছেন তিনি। সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন আরও পাঁচবার।

নাদিরের ফুটবলীয় দক্ষতা ও সম্ভাবনায় মুগ্ধ হামবুর্গের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ক্লাউস কোস্তা। তার মতে, টেকনিক্যালি দক্ষ এই মিডফিল্ডার মাঠে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করার সামর্থ্য রয়েছে তার। পাশাপাশি নাদিরের পরিশ্রমী মানসিকতা ও ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তা হামবুর্গের মাঝমাঠকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন ক্লাবটির এই কর্মকর্তা।

ফ্রান্সের নিস শহরে ২০০৩ সালে জন্ম নেওয়া নাদির ফুটবলের প্রাথমিক শিক্ষা পেয়েছেন স্থানীয় ক্লাব ওজিসি নিসের যুব একাডেমিতে। সেখানেই তার প্রতিভার বিকাশ ঘটে। এরপর ২০২১ সালে তিনি যোগ দেন ফ্রান্সের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব অলিম্পিক মার্সেইয়ে। ক্লাবটির বয়সভিত্তিক ও রিজার্ভ দলে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ধীরে ধীরে মূল দলের নজরে আসেন তিনি।

২০২৩ সালে মার্সেইয়ের মূল দলের হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হয় নাদিরের। এরপর ধীরে ধীরে দলের নিয়মিত সদস্যদের একজন হয়ে ওঠেন তিনি। মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণ, সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয় এবং আক্রমণ তৈরিতে তার দক্ষতা নজর কাড়ে। যদিও মার্সেইয়ের হয়ে তার গোলের সংখ্যা খুব বেশি নয়, তবে দলের মাঝমাঠে তার ভূমিকা ছিল মূলত সৃজনশীলতা ও খেলার ছন্দ ধরে রাখার ক্ষেত্রে।

ক্লাব ফুটবলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নাদিরের সামনে রয়েছে বড় সম্ভাবনা। ২০২৫ সালের মার্চে প্রথমবারের মতো মরক্কোর জাতীয় দলে ডাক পান তিনি। তবে এখনো দেশটির জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয়নি তার। ফলে হামবুর্গে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে জাতীয় দলের দরজাও তার জন্য আরও উন্মুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মরক্কোর ফুটবল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ২০২২ বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়ার পর দেশটির ফুটবলে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের গুরুত্বও বেড়েছে। সেই ধারায় নাদিরও ভবিষ্যতে মরক্কোর জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠতে পারেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

নতুন ক্লাব হামবুর্গের হয়ে নাদিরের সামনে এখন নিজেকে আরও পরিণত করার সুযোগ। জার্মান ফুটবলের শারীরিক ও গতিনির্ভর পরিবেশে নিয়মিত খেলার মাধ্যমে তার দক্ষতা আরও শাণিত হতে পারে। একই সঙ্গে হামবুর্গও আশা করছে, তরুণ এই মিডফিল্ডারের টেকনিক্যাল দক্ষতা ও খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দলের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ফ্রি ট্রান্সফারে নাদিরকে দলে নেওয়ায় হামবুর্গের জন্য এটি ঝুঁকিমুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তরুণ বয়সে ইউরোপের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করা নাদির ভবিষ্যতে আরও বড় মঞ্চে নিজের জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন, এমন প্রত্যাশাই এখন তার নতুন ক্লাব ও সমর্থকদের।

বর্তমান ফুটবলে সেরা ১০ ‘নম্বর নাইন’: হালান্ড-এমবাপ্পেকে টপকে শীর্ষে কেইন

0

আধুনিক ফুটবলে সেরা স্ট্রাইকার বা নিখুঁত ‘নম্বর নাইন’ কে? এই প্রশ্নের উত্তরে তর্ক-বিতর্ক লেগেই থাকে। তবে কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড এবং হ্যারি কেইন যে বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের আক্রমণভাগের সেরা তিন মুখ, তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, ধারাবাহিকতা এবং দলের জয়ে অবদানের ভিত্তিতে তৈরি করা সেরা ১০ স্ট্রাইকারের তালিকায় তরুণদের পেছনে ফেলে এক নম্বর স্থানটি দখল করে নিয়েছেন ইংলিশ তারকা হ্যারি কেইন।

তালিকায় কেবল স্বীকৃত এবং মূল স্ট্রাইকারদেরই রাখা হয়েছে; উইঙ্গার বা অন্য পজিশন থেকে আক্রমণভাগে খেলা তারকাদের এই মূল্যায়নে আনা হয়নি।

সেরা দশের তালিকা ও তাঁদের পারফরম্যান্স:

১. হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ / ইংল্যান্ড):

বায়ার্নের হয়ে এক মৌসুমে ৬১ গোল করার পাশাপাশি জিতেছেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু। কেইন কেবল সুযোগসন্ধানী গোলদাতা নন, প্রয়োজন অনুযায়ী নিচে নেমে প্লেমেকারের ভূমিকায় বল বানিয়ে দেওয়ার অসামান্য ক্ষমতা তাঁকে হালান্ড ও এমবাপ্পের চেয়ে এগিয়ে শীর্ষে রেখেছে।

২. কিলিয়ান এমবাপ্পে (রিয়াল মাদ্রিদ / ফ্রান্স):

বিস্ফোরক গতি, নজরকাড়া ড্রিবলিং আর ক্ষুরধার ফিনিশিংয়ে ইতোমধ্যে নিজেকে আধুনিক ফুটবলের কিংবদন্তি হিসেবে গড়ে তুলেছেন। বিশ্বকাপে জোড়া গোল্ডেন বুট জয়ী এই ফরাসি ফরোয়ার্ড তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।

৩. আর্লিং হালান্ড (ম্যানচেস্টার সিটি / নরওয়ে):

নরওয়েজিয়ান গোলমেশিনের খেলার ধরন পুরোপুরি বক্স-কেন্দ্রিক। কম ছোঁয়াতেই বল জালে পাঠাতে ও সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে জুড়ি নেই তাঁর। দেশের হয়ে ৫৫ ম্যাচে ৬২ গোলের রেকর্ড তৈরি করে ২৬ বছর বয়সেই তালিকায় তিন নম্বরে স্থান করে নিয়েছেন।

৪. ভিক্টর ওসিমেন (গালতাসারাই / নাইজেরিয়া):

শীর্ষ লিগে না খেললেও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় লিভারপুল বা জুভেন্টাসের মতো ক্লাবের বিপক্ষে নিজের জাত চিনিয়েছেন এই নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার।

৫. লাউতারো মার্তিনেজ (ইন্টার মিলান / আর্জেন্টিনা):

ইন্টার মিলান ও আর্জেন্টিনার ইতিহাসে অন্যতম সেরা এই গোলদাতা দুই মৌসুম টানা সিরি আ’র সর্বোচ্চ গোলদাতা নির্বাচিত হয়েছেন।

৬. মিকেল ওয়ারজাবাল (রিয়াল সোসিয়েদাদ / স্পেন):

জাতীয় দলের হয়ে ২১ ম্যাচে ১৮ গোল এবং ইউরো ২০২৪ ফাইনালে জয়সূচক গোলসহ বড় মঞ্চে স্পেনের আক্রমণের অন্যতম বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন তিনি।

৭. হুলিয়ান আলভারেজ (আতলেতিকো মাদ্রিদ / আর্জেন্টিনা):

সিটি ও আর্জেন্টিনার হয়ে বড় ম্যাচে নিজেকে বারবার প্রমাণ করলেও ক্লাব ফুটবলে গোলসংখ্যার ধারাবাহিকতার অভাব তাঁর ওপরের দিকে ওঠার অন্তরায়।

৮. ভিক্টর গিয়কেরেস (আর্সেনাল / সুইডেন):

স্পোর্টিং থেকে আর্সেনালে এসে প্রভাব ফেলা এই সুইডিশ ফরোয়ার্ডের পরিসংখ্যান দুর্দান্ত হলেও বড় মঞ্চে চূড়ান্ত প্রমাণের আরও সুযোগ রয়েছে।

৯. ডেনিজ উন্দাভ (স্টুটগার্ট / জার্মানি):

২০২৬ সালে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ২১ গোল করে সবাইকে চমকে দিয়ে সেরা দশে জায়গা করে নিয়েছেন এই জার্মান ফরোয়ার্ড।

১০. রবার্ট লেভানডোভস্কি (বার্সেলোনা / পোল্যান্ড):

৩৭ বছর বয়সে এসেও অভিজ্ঞ পোলিশ তারকার গোল করার সামর্থ্য ও ধার কমেনি, যা তাঁকে এখনও বিশ্বসেরাদের তালিকায় রেখেছে।

এক নজরে বিশ্বের সেরা ১০ স্ট্রাইকার:

র‍্যাঙ্কিংখেলোয়াড়ের নামবর্তমান দল / দেশ
১হ্যারি কেইনবায়ার্ন মিউনিখ (ইংল্যান্ড)
২কিলিয়ান এমবাপ্পেরিয়াল মাদ্রিদ (ফ্রান্স)
৩আর্লিং হালান্ডম্যানচেস্টার সিটি (নরওয়ে)
৪ভিক্টর ওসিমেনগালতাসারাই (নাইজেরিয়া)
৫লাউতারো মার্তিনেজইন্টার মিলান (আর্জেন্টিনা)
৬মিকেল ওইয়ারসাবালরেয়াল সোসিয়েদাদ (স্পেন)
৭হুলিয়ান আলভারেজআতলেতিকো মাদ্রিদ (আর্জেন্টিনা)
৮ভিক্টর গিয়কেরেসআর্সেনাল (সুইডেন)
৯ডেনিজ উন্দাভস্টুটগার্ট (জার্মানি)
১০রবার্ট লেভানডোভস্কিবার্সেলোনা (পোল্যান্ড)