এশিয়া কাপের পর এশিয়ান গেমসেও ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। গতকাল কোরোগি অ্যাথলেটিক পার্কে ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে হেরে পদকশূন্য থাকতে হয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতিদের। আগে ব্যাট করে পাকিস্তান ২০ ওভারে ১৪৫ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ২০ ওভারে ১১৪ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
ম্যাচ শেষে দলের ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধান কোচ সারোয়ার ইমরান আত্মবিশ্বাসের ঘাটতির পাশাপাশি টুর্নামেন্ট চলাকালে দলকে ঘিরে প্রকাশিত নেতিবাচক খবরের প্রভাবের কথা বলেন। বিশেষ করে কোচ ও অধিনায়ককে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ পাওয়ায় দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সারোয়ার বলেন, এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘনিষ্ঠ ম্যাচে হারের পর থেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে নেতিবাচক খবর আসতে থাকে। তাঁর মতে, সেই বিষয়গুলো দলের ওপর প্রভাব ফেলেছে এবং এশিয়ান গেমসেও তার রেশ ছিল। তিনি বলেন, একটি টুর্নামেন্ট চলাকালে হেড কোচ ও অধিনায়ককে নিয়ে অনিশ্চয়তার খবর এলে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে ভালো পারফরম্যান্স আশা করা কঠিন। তবে দলের হারের জন্য এটিকে অজুহাত হিসেবে দেখছেন না বলেও জানান তিনি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে হারের কারণ হিসেবে পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতাকেও দায়ী করেন সারোয়ার। তাঁর মতে, ১৪৫ রান তাড়া করতে হলে প্রথম ছয় ওভারে অন্তত ৪০-৪৫ রান করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ পাওয়ার প্লেতে মাত্র ২৪ রান করায় শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে।
তবে সারোয়ারের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন বিসিবির নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু। দলের ব্যাটিংয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং-তিন বিভাগেই ব্যর্থ হয়েছে। দ্রুতই ফিল্ডিং ও ব্যাটিং কোচ নিয়োগ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
কোচকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও দাবি করেন বাবু। সারোয়ারের বক্তব্যকে তিনি ‘মিথ্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দলের ব্যর্থতার দায় এড়াতেই এমন বক্তব্য দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তে নিগার সুলতানা জ্যোতির বিষয়ে বিসিবি বিব্রত হয়েছে বলেও জানান বাবু। কেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
বাবু আরও বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই বর্তমান দল গঠন করা হয়েছিল। এখন দলের উন্নতির জন্য নতুন করে পরিকল্পনা ও দল পুনর্গঠনের চিন্তা করা হবে। পাশাপাশি দলের ভেতরে কোনো সমস্যা আছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে খতিয়ে দেখবে বিসিবি।
নারী দলের প্রধান কোচ হিসেবে সারোয়ার ইমরানের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ অক্টোবর পর্যন্ত। তাঁর চুক্তি নবায়ন করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি বিসিবি।


