বেলজিয়ামের সামনে সেনেগালের চ্যালেঞ্জ । বিশ্বকাপের নকআউট মানেই আর ফেরার পথ নেই। এখানে এক রাতের ভুলই শেষ করে দিতে পারে মাসের পর মাসের প্রস্তুতি, বছরের পর বছরের স্বপ্ন। ঠিক এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে এবার মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের শক্তিশালী বেলজিয়াম ও আফ্রিকার লড়াকু সেনেগাল। বুধবার দিবাগত রাত ২টায় সিয়াটলের মঞ্চে শুরু হবে রাউন্ড অব ৩২-এর এই হাইভোল্টেজ লড়াই।
কাগজে-কলমে বেলজিয়াম এগিয়ে। অভিজ্ঞতা, তারকা শক্তি এবং বড় মঞ্চে খেলার অভ্যাস, সব দিক থেকেই তাদের পাল্লা ভারী। কিন্তু এই বিশ্বকাপ বারবার দেখিয়েছে, নামের চেয়ে মাঠের বাস্তবতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই বাস্তবতাই সেনেগালকে বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ বানিয়েছে।
গ্রুপ পর্বে বেলজিয়ামের যাত্রা খুব একটা মসৃণ ছিল না। শুরুতেই মিশরের সঙ্গে ১-১ ড্র, এরপর ইরানের বিপক্ষে গোলশূন্য সমতা। দুই ম্যাচ শেষে রুদি গার্সিয়ার দল চাপের মুখে পড়ে গিয়েছিল। সমালোচনাও বাড়ছিল। তবে ঠিক তখনই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় জয় যেন দলটিকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেয়। সেই ম্যাচে দেখা গেছে বেলজিয়ামের আক্রমণের আসল রূপ। কেভিন ডি ব্রুইনের নিয়ন্ত্রণ, লুকাকুর ফিনিশিং আর ত্রোসার্ডের গতিময়তা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে কেন এই দলকে এখনও বড় হুমকি ধরা হয়।
তবে সেনেগালের গল্পটা অন্যরকম। টানা দুই হার দিয়ে শুরু করে প্রায় বিদায়ের মুখে ছিল তারা। ফ্রান্স ও নরওয়ের বিপক্ষে পরাজয়ের পর অনেকেই ধরে নিয়েছিল আফ্রিকার দলটির পথ এখানেই শেষ। কিন্তু শেষ ম্যাচে ইরাককে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শুধু নকআউটই নিশ্চিত করেনি, ইতিহাসও গড়েছে। বিশ্বকাপের এক ম্যাচে পাঁচ গোল করা প্রথম আফ্রিকান দল এখন তারাই।
সাদিও মানের অভিজ্ঞতা, ইসমাইলা সারের গতি আর মাঝমাঠের আগ্রাসন সেনেগালের বড় অস্ত্র। তবে রক্ষণে কিছু দুর্বলতা আছে। তার ওপর প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক এদুয়ার মেন্ডির ইনজুরি এবং কালিদু কুলিবালির অনিশ্চয়তা দলটিকে কিছুটা চিন্তায় রেখেছে।
ইতিহাসে এই প্রথমবার মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। তাই এখানে পুরোনো হিসাব নেই, আছে কেবল নতুন অধ্যায় লেখার সুযোগ। একদিকে বেলজিয়ামের প্রমাণ করার লড়াই, অন্যদিকে সেনেগালের আরেকটি বিস্ময় গড়ার স্বপ্ন। নকআউটের এই রাতে কে টিকে থাকবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩
















