লোকেশ রাহুলের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, রোহিত শর্মার ৯২ রান-সবই ম্লান হয়ে গেল শাই হোপের ব্যাটিং ঝড়ে। নিউ চণ্ডীগড়ে ৩৫১ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়েও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারতে হয়েছে ভারতকে। শনিবার হোপের অপরাজিত ১৬২ রানের ইনিংসে ভর করে ১০ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে ক্যারিবীয়রা। তাতে ওয়ানডে সিরিজে ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্নও ভেঙে গেছে।
ভারতের দেওয়া ৩৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়ানডেতে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর আগে গুয়াহাটিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিতেছিল ভারত। এবার সেই রেকর্ডের পথে হেঁটেই ভারতকে বড় ধাক্কা দিল ক্যারিবীয়রা।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারতের অধিনায়ক শুভমান গিল। শুরুতেই জেইডেন সিলসের তোপে বিপাকে পড়ে স্বাগতিকেরা। পরপর দুই বলে শুভমান গিল (১) ও বিরাট কোহলিকে (০) ফিরিয়ে দেন এই পেসার। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত। প্রথম ১০ ওভারে দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ২৮ রান।
এরপর ঋতুরাজ গায়কোয়াড়কে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজ শুরু করেন রোহিত শর্মা। শুরুতে কিছুটা সতর্ক থাকলেও ক্রমে হাত খুলতে থাকেন অভিজ্ঞ এই ওপেনার। একবার থিতু হওয়ার পর তাঁর ব্যাট থেকে আসতে থাকে একের পর এক বড় শট। তবে সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে থামতে হয় তাঁকে। ৮৫ বলে ৯২ রান করে কিমো পলের শিকার হন রোহিত।

ভারতের লড়াইয়ের পুঁজি গড়লেন রাহুল
অন্য প্রান্তে ঋতুরাজও তুলে নেন ৫৭ রান। যদিও ইনিংসের শুরুতে একাধিকবার জীবন পেয়েছেন তিনি। তাঁর চারটি ক্যাচ ফেলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল্ডাররা। সেই অবস্থা থেকে ভারতকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন লোকেশ রাহুল। চলতি সিরিজে প্রথমবার ব্যাট করার সুযোগ পেয়েই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। দলের বিপর্যয় সামলে এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলেন দুর্দান্ত ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ৮৭ বলে ১০টি চার ও ৬টি ছক্কায় ১২৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
শেষ তিন ওভারে রাহুলের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় ভারত। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৫১ রান তোলে স্বাগতিকেরা। কিন্তু এই রানও শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হয়নি। জবাবে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন শাই হোপ। তবে শুরুতেই তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল ভারত। সহজ ক্যাচ ফেলেন গুরনুর ব্রার। তখনো ২০ রান পূর্ণ হয়নি হোপের। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার মাশুল শেষ পর্যন্ত দিতে হয়েছে ভারতকে।
অন্যদিকে মোহাম্মদ সিরাজ দ্রুতই ফিরিয়ে দেন আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা জন ক্যাম্পবেলকে। ১০ রান করে আউট হন এই ওপেনার। তবে আগের ম্যাচের আরেক সেঞ্চুরিয়ান আমির জাঙ্গু হোপের সঙ্গে দারুণ জুটি গড়েন। দ্বিতীয় উইকেটে ১০৯ রান যোগ করেন তাঁরা। ৬৭ রান করে জাঙ্গু ফিরলেও হোপ ছিলেন অবিচল।
এরপর শারফেন রাদারফোর্ড ও কিমো পলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নেন হোপ। রাদারফোর্ড করেন ২৪ রান, আর পলের ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও এক প্রান্তে দৃঢ়ভাবে টিকে ছিলেন হোপ। ভারতীয় বোলারদের কোনো চেষ্টাই তাঁকে থামাতে পারেনি।
শেষ দিকে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। একের পর এক বড় শটে ভারতের বোলিং আক্রমণকে এলোমেলো করে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৪৩ বলে ১৬২ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন হোপ। তাঁর ইনিংসে ছিল দায়িত্বশীলতা ও আগ্রাসনের দারুণ সমন্বয়।




