চার ইভেন্টে লড়বেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খেলোয়াড়রা
শুক্রবার থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘শোভন জামালী ওপেন টেনিস টুর্নামেন্ট ২০২৬’। বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্স, রমনা, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের আসরে সারাদেশ থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৭৮ জন টেনিস খেলোয়াড় নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। দেশের বিভিন্ন টেনিস ক্লাব ও প্রতিষ্ঠানের খেলোয়াড়রা প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্স, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি), ঝালকাঠি টেনিস ক্লাব, রাজশাহী টেনিস ক্লাব, সিলেট টেনিস ক্লাব, মাদারীপুর টেনিস ক্লাব, জামালপুর টেনিস ক্লাব, মাগুরা টেনিস ক্লাব, শরিয়তপুর টেনিস ক্লাব, গুলশান ইয়ুথ ক্লাব, গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাব, অফিসার্স ক্লাব ও ইঞ্জিনিয়ার্স ক্লাবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
টুর্নামেন্টে মোট চারটি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এগুলো হলো—পুরুষ একক, পুরুষ দ্বৈত, মহিলা একক ও মহিলা দ্বৈত।
শোভন এম. জামালীর স্মরণে আয়োজন
বাংলাদেশের টেনিস ইতিহাসের অন্যতম সফল খেলোয়াড় শোভন এম. জামালীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
শোভন এম. জামালী ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০২৩ সালের ২৫ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত টানা জাতীয় জুনিয়র এককে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিলেন তিনি। জাতীয় পর্যায়ে একক বিভাগে ১৯৮৬, ১৯৮৭ ও ১৯৯১ সালে এবং দ্বৈত বিভাগে ১৯৮৬, ১৯৮৭, ১৯৮৮, ১৯৮৯ ও ১৯৯১ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর।
বাংলাদেশ ডেভিস কাপ দলের হয়েও একাধিকবার দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন শোভন জামালী। ১৯৮৮ সালে চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে ডেভিস কাপের রিভার্স সিঙ্গেলসে জয় পান তিনি, যা ডেভিস কাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ জয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
১৯৮৯ সালে ইরাকের বিপক্ষে একক ও দ্বৈত, দুই ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ডেভিস কাপ টাইয়ে প্রথম ঐতিহাসিক জয় এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। একই বছর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষেও একক ও দ্বৈত ম্যাচে জয় পেয়ে বাংলাদেশকে জোনাল সেমিফাইনালে পৌঁছাতে সহায়তা করেন। ১৯৯১ সালে বাহরাইনের বিপক্ষেও একক ও দ্বৈত ম্যাচে জয় নিয়ে দলের সাফল্যে অবদান রাখেন।
এছাড়া ১৯৯০ সালে বেইজিং এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন শোভন জামালী। তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে উইম্বলডন জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ, ইউএস ওপেন জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপসহ এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের গৌরব রয়েছে।
ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৬ সালের জন্য ততকালীন বাংলাদেশ ক্রীড়া সাংবাদিক সমিতির (বর্তমান নাম বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি) শ্রেষ্ঠ টেনিস খেলোয়াড় পুরস্কার এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের শ্রেষ্ঠ টেনিস খেলোয়াড় পুরস্কার লাভ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যারা
টুর্নামেন্ট উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের সভাপতি শফিকুল ইসলাম সরকার, প্রয়াত শোভন জামালীর চাচা রেজাউল হাসান জামালী, ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ (কারেন), কোষাধ্যক্ষ এম এ জিন্নাহ, জেডএনজেড আইটি সার্ভিসেস লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুয়াম্মার আহমেদ, টুর্নামেন্ট ডিরেক্টর মো. আরিফুজ্জামান চৌধুরী এবং টুর্নামেন্ট রেফারি মোহাম্মদ আলী আকবর।
টাইটেল স্পন্সর LYFE-কে ধন্যবাদ
বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের পক্ষ থেকে টুর্নামেন্টের টাইটেল স্পন্সর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য LYFE-এর প্রতিষ্ঠানকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের টেনিসের উন্নয়নে LYFE-এর প্রতিষ্ঠান ফেডারেশনের পাশে থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রয়াত শোভন জামালীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা তাঁর অসামান্য অবদান ও ক্রীড়াসুলভ চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরবে এবং বাংলাদেশের টেনিসে তাঁর অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।


