ওয়ানডে ক্রিকেটে যেন আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে ইংল্যান্ড। ডারহামের রিভারসাইডে উইল জ্যাকসের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতেই বড় জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। শ্রীলঙ্কাকে ১৩৩ রানে গুটিয়ে দিয়ে ১৩২ রানের জয় স্বাগতিকদের। ব্যাট হাতে উইল জ্যাকসের ৪৬ রানের অপরাজিত ইনিংসের পর বল হাতে মাত্র ২২ রান দিয়ে ৫ উইকেট-ইংল্যান্ডের জয়ে মূল নায়ক এই অলরাউন্ডারই।
ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের কোনো স্পিনারের দ্বিতীয় সেরা বোলিং এটি। একই সঙ্গে হ্যারি ব্রুক ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অধীনে চলতি বছরে সাত ওয়ানডেতে এটি ইংল্যান্ডের পঞ্চম জয়।
টস জিতে আগে ব্যাট করে অবশ্য শুরুটা খুব একটা স্বস্তির ছিল না ইংল্যান্ডের। শ্রীলঙ্কার অভিষিক্ত লেগ স্পিনার সচিন্দু কলম্বাগের সামনে মাঝের ওভারে বেশ বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা। একপর্যায়ে ২৯ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। পুরো ইনিংসে কোনো ছক্কাও মারতে পারেনি তারা।
জো রুট কিছুটা স্বচ্ছন্দে শুরু করেছিলেন। কিন্তু বেন ডাকেট এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার পর রুট ও ব্রুক জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। রান নেওয়ার ক্ষেত্রে দুজনের আগ্রাসী মনোভাবও দেখা যায়। তবে ৪২ রানে থাকা অবস্থায় ব্রুকের একটি ভুল সিঙ্গেলে রুট রানআউটের হাত থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান।
এরপর কলম্বাগের ঘূর্ণিতে থামে ব্রুকের ইনিংস। ৪০-এর ঘরে থাকা ব্রুক ক্যাচ তুলে ফেরার পর দ্রুত আরও কয়েকটি উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। কলম্বাগে জস বাটলার, রেহান আহমেদ ও জেমি ওভারটনের উইকেট তুলে নিয়ে অভিষেকেই ৩ উইকেট পান।
ইংল্যান্ডের ইনিংসকে টেনে নিয়ে যান জ্যাকস। ছয় নম্বরে নেমে ৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। শেষদিকে তাঁর লড়াকু ইনিংসেই ইংল্যান্ড ২৬৫ রানে পৌঁছায়। তবে ২৬৫ রান যে শ্রীলঙ্কার জন্য অনেক বড় লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াবে, তখনও তা পুরোপুরি বোঝা যায়নি।

জবাবে শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ে ছিল অস্বস্তি। কামিন্দু মেন্ডিস, পাথুম নিসাঙ্কা ও পাভান রথনায়েক দ্রুত ফিরে যান। এরপর জ্যাকস ওভারটনের বোলিংয়ে চাপে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডার। জ্যাকস নিজের অফস্পিনে চার বলের মধ্যে তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ইংল্যান্ডের হাতে এনে দেন।
অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস চোট কাটিয়ে দলে ফিরে ৪২ রান করেন। তবে তাঁর বিদায়ের পর শ্রীলঙ্কার জয়ের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। শেষ দিকে দুনিথ ওয়েলালাগে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। আর্চারকে ছক্কা এবং রেহান আহমেদের বলে পরপর চার, চার ও ছক্কা মেরে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত জ্যাকসের বলে ৪৫ রানে মিড-অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওয়েলালাগে।
জ্যাকসের জন্য এটি ইংল্যান্ডের হয়ে দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি। চার বছর আগে টেস্ট অভিষেকে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর ওয়ানডেতে এবার প্রথমবার এমন কীর্তি গড়লেন তিনি। ব্যাটে ৪৬ এবং বল হাতে ৫ উইকেট-এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের পর ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে তাঁর হাতে।
ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ক্রিকেটের সাম্প্রতিক ইতিহাস অবশ্য খুব একটা উজ্জ্বল নয়। ২০১৯ বিশ্বকাপ জয়ের পরের ছয় বছরে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ৩৩ ম্যাচ জয়ের বিপরীতে তারা হেরেছে ৪০টি। ২০২৩ বিশ্বকাপ ও ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।
চলতি বছরও আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে অষ্টম অবস্থান থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। আগামী বছরের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা নিশ্চিত করাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য। সেই পথে এবার যেন কিছুটা ছন্দ ফিরে পাচ্ছে দলটি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ এবং ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইংল্যান্ড।


