অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গকেবেরহায় দ্বিতীয় টেস্টের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার দল থেকে বাদ পড়েছেন ট্রিস্টান স্টাবস। ডারবানে সিরিজের প্রথম টেস্টে হারের পর দক্ষিণ আফ্রিকার দলে এটিই একমাত্র পরিবর্তন। তাঁর জায়গায় ১৭ সদস্যের দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ম্যাথিউ ব্রিটজকে। বাদ পড়েছেন স্টাবস, কিপিং করবেন রিকেলটন।
প্রথম টেস্টে স্টাবস দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৩২ ও ১ রান করেছিলেন। তবে ১১ মাস আগে ভারতের বিপক্ষে তাঁর সর্বশেষ টেস্ট ইনিংসে তিনি করেছিলেন ৯৪ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এখন পর্যন্ত দুটি টেস্ট খেলেছেন ব্রিটজকে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ এবং ২০২৫ সালের জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেললেও দুই টেস্ট মিলিয়ে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ১৪ রান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর ব্যাটিং গড় ৩৭.০৩।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আর খেলেননি তিনি। নামিবিয়ায় এবং পরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার সীমিত ওভারের দলে থাকায় ঘরোয়া মৌসুমের ম্যাচগুলোও মিস করেছেন। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ডারবানে সেঞ্চুরি করেছিলেন ব্রিটজকে। সেই ফর্ম টেস্ট ক্রিকেটেও কাজে লাগবে বলে আশাবাদী দক্ষিণ আফ্রিকার টিম ম্যানেজমেন্ট।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচ শুকরি কনরাড বলেন, “ম্যাট আগেও আমাদের দলের অংশ ছিল। ওয়ানডেতে তার দুর্দান্ত ফর্ম তাকে দলে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে দিয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ম্যাটের মানসিকতা ও ব্যক্তিত্ব।”
উইকেটকিপিং করবেন রিকেলটন, একাদশে অনিশ্চিত ভেরেইন। ব্রিটজকের অন্তর্ভুক্তিতে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কোচ কনরাড নিশ্চিত করেছেন, দ্বিতীয় টেস্টে উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব পালন করবেন রায়ান রিকেলটন।
এর ফলে কাইল ভেরেইনের একাদশে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে। সর্বশেষ ১৩ টেস্ট ইনিংসে কোনো অর্ধশতক করতে পারেননি তিনি। তবে স্কোয়াডে রাখা হয়েছে তাঁকে। দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক উইকেটকিপার সিনেথাম্বা কেশিলে মঙ্গলবার টাইটানসের হয়ে টাস্কার্সের বিপক্ষে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছেন।
রিকেলটনকে ব্যাটিং অর্ডারের নিচের দিকে খেলানো হবে, নাকি উইকেটকিপিংয়ের পাশাপাশি ওপেনিংয়েও রাখা হবে—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন। তিনি নিচে নামলে এইডেন মার্করামের সঙ্গে ওপেন করবেন কে, তা নিয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে।
কনরাড বলেন, “রিকি উইকেটকিপিং করায় কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করতে হবে। সে ব্যাটিং অর্ডারের নিচের দিকে নামবে, নাকি আগে যেভাবে ওপেন করেছে, সেভাবেই ওপেনিং চালিয়ে যাবে-তা ঠিক করতে হবে।”
মার্করামের নিয়মিত ওপেনিং সঙ্গী টনি ডি জর্জি; হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকায় এই সিরিজের দলে বিবেচিত হননি। ফলে ব্রিটজকেকে ওপেনিংয়ে খেলানো হতে পারে। বিকল্প হিসেবে রয়েছেন এখনো টেস্ট অভিষেক না হওয়া ব্যাটার মার্কেস অ্যাকারম্যান, যিনি সাধারণত মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করেন।
কনরাড আরও বলেন, “চূড়ান্ত একাদশ ঠিক করার আগে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করতে হবে। তবে আমরা দারুণভাবে উচ্ছ্বসিত। প্রথম টেস্টের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি।”
রাবাদার ফেরার সম্ভাবনা, বৃষ্টিও হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ; ডারবানে হ্যামস্ট্রিংয়ে হালকা সমস্যার কারণে প্রথম টেস্টে খেলতে পারেননি কাগিসো রাবাদা। তবে দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর খেলার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাবাদাসহ দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোয়াডে সাতজন পেসার রয়েছেন। বোলারদের কাজের চাপ পর্যবেক্ষণের জন্য সবাইকে দলের সঙ্গে রাখা হয়েছে। রাবাদা ছাড়াও পেস আক্রমণে নির্বাচনের জন্য রয়েছেন আনরিখ নরকিয়া, মার্কো ইয়ানসেন, উইয়ান মুল্ডার, জেরাল্ড কোয়েটজি, ডেন প্যাটারসন ও করবিন বশ।
চূড়ান্ত একাদশ নির্বাচনে আবহাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রোববার ম্যাচের প্রথম দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টির কারণে খেলার সময় কমে গেলে পেসারদের সমন্বয় ও বোলিং আক্রমণ নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা।
দলে তিনজন স্পিনার-কেশব মহারাজ, সাইমন হারমার ও সেনুরান মুথুসামি-রয়েছেন। তবে তাঁদের মধ্যে সম্ভবত একজনই একাদশে সুযোগ পাবেন। ডারবানে প্রথম টেস্টে মহারাজ ও হারমার দুজনই খেলেছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার ১৭ সদস্যের স্কোয়াড:
টেম্বা বাভুমা (অধিনায়ক), মার্কেস অ্যাকারম্যান, ডেভিড বেডিংহাম, ম্যাথিউ ব্রিটজকে, করবিন বশ, জেরাল্ড কোয়েটজি, সাইমন হারমার, মার্কো ইয়ানসেন, কেশব মহারাজ, এইডেন মার্করাম, উইয়ান মুল্ডার, সেনুরান মুথুসামি, আনরিখ, নরকিয়া, ডেন প্যাটারসন, কাগিসো রাবাদা, রায়ান রিকেলটন, কাইল ভেরেইন।




