এক আসর পর ফেরা সুইডেনের বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়নি দেজান কুলুসেভস্কির। হাঁটুর ইনজুরিতে প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে থাকা টটেনহ্যাম হটস্পারের এই ফরোয়ার্ডের জন্য অপেক্ষা করেননি কোচ গ্রাহাম পটার। বিশ্বকাপ শুরুর ৩০ দিন আগেই ২৬ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন তিনি।
বেশ আগেভাগে ঘোষণা করা সুইডেনের বিশ্বকাপ দলে খুব বেশি চমক নেই। আলোচিত তারকা আর্সেনালের ফরোয়ার্ড ভিক্টর গিওকেরেস ও লিভারপুলের আলেকজান্ডার ইসাক ঠাঁই পেয়েছেন। তবে বার্সেলোনার হয়ে এবার নজরকাড়া নৈপুণ্য দেখানো রুনি বার্দগি আলোচনায় থাকলেও ডাক পাননি।
অনেকের ধারণা ছিল ইনজুরি কাটিয়ে বিশ্বকাপের আগে ফেরার সুযোগ থাকলেই কুলুসেভস্কির জায়গা হতে পারে। কিন্তু দল ঘোষণা করার জন্য বেঁধে দেওয়া সময়সীমার ১৮ দিন বাকি থাকতেই সুইডেনের দল ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে এই ফরোয়ার্ডকে বিবেচনাই করলেন না কোচ পটার।

সুইডেনের বিশ্বকাপ দলে কুলুসেভস্কি না থাকার কারণ
তাকে দলের বাইরে রাখা যে কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল, সেটি স্বীকার করে পটার বলেছেন,‘সে (কুলুসেভস্কি) যে অবস্থায় ছিল, গত বছর (মৌসুমে) সে যা করেছে, (বিশ্বকাপে) প্রথম ম্যাচের সাড়ে চার সপ্তাহ আগে তার পুনর্বাসন এখন যে অবস্থায় আছে, সবকিছুর বিচারে তাকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা ছিল খুব, খুব কঠিন।’
অবশ্য ইনজুরি কাটিয়ে ইতোমধ্যে লিভারপুলের হয়ে মাঠে ফিরেছেন ইসাক। তাই তাকে ঠিকই দলে রেখেছেন পটার। ফর্মে না থাকলেও তার ওপর আস্থা আছে কোচের। অথচ যে দুটি কঠিন প্লে-অফে ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে এবার বিশ্বকাপে ফিরেছে সুইডিশরা, সেই দুটি ম্যাচেও খেলতে পারেননি ইসাক।
তাছাড়া সম্প্রতিই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচেও কুঁচকির সমস্যার কারণে খেলতে পারেননি তিনি। তারপরও তাঁকে দলে রাখলে, কুলুসেভস্কি কেন নেই সেই প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে।
দল নির্বাচন প্রসঙ্গে কোচ পটার আরও বলেছেন,‘আমি এমন একটি দল বেছে নিয়েছি যারা ঐক্যবদ্ধভাবে শক্ত হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং একে অপরের সেরাটা বের করে আনতে পারে। একটি আসর সাধারণ কোনো ম্যাচের চেয়ে আলাদা, এখানে খেলোয়াড়দের সঠিক সংমিশ্রণ জরুরি।’
সুইডেন বিশ্বকাপ মিশন শুরু করার আগে নরওয়ে ও গ্রিসের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। এরপর ১৪ জুন গুয়াদালুপে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের এফ-গ্রুপের লড়াই। গ্রুপের অন্য দুই ম্যাচে তারা ২০ জুন নেদারল্যান্ডস এবং ২৫ জুন জাপানের মুখোমুখি হবে।
সুইডেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলরক্ষক : ক্রিস্টোফার নর্ডফেল্ড, ভিক্টর জোহানসন, জ্যাকব উইডেল জেটারস্ট্রম।
ডিফেন্ডার : ভিক্টর লিন্ডেলফ, ড্যানিয়েল সভেনসন, ইসাক হিয়েন, কার্ল স্টারফেল্ট, এলিয়ট স্ট্রাউড, গুস্তাফ ল্যাগারবিয়েলকে, গ্যাব্রিয়েল গুডমুন্ডসন, এমিল হোম, হ্যালমার একডাল, এরিক স্মিথ।
মিডফিল্ডার ও ফরোয়ার্ড : আলেকজান্ডার ইসাক, ভিক্টর ইয়োকেরেস, তাহা আলি, ইয়াসিন আয়য়ারি, লুকাস বার্গওয়াল, অ্যান্থনি এলাঙ্গা, জেসপার কার্লস্ট্রম, গুস্তাফ নিলসন, বেঞ্জামিন নিগ্রেন, ম্যাটিয়াস সভানবার্গ, বেসফোর্ট জেনেলি, আলেকজান্ডার বার্নহার্ডসন, কেন সেমা।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩

















