ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এ দারুণ এক জয় তুলে নিল সুইজারল্যান্ড। সুইজারল্যান্ড ৪-১ বসনিয়া , এই জয়ে শুধু স্কোরলাইনই নয়, ম্যাচের পরিসংখ্যানেও সুইসদের আধিপত্য স্পষ্ট। ম্যাচজুড়ে আক্রমণ, পাসিং, কর্নার এবং সুযোগ তৈরির দিক থেকে প্রতিপক্ষের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে ছিল সুইজারল্যান্ড।
ম্যাচে সুইজারল্যান্ড মোট ১৩টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা নিতে পারে মাত্র ৫টি শট, এর মধ্যে ৩টি লক্ষ্যে ছিল। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, সুইসরা শুধু বল দখলে রাখেনি, প্রতিপক্ষের রক্ষণে ধারাবাহিক চাপও তৈরি করেছে। গোলের সুযোগ তৈরির মানেও সুইজারল্যান্ড এগিয়ে ছিল। তাদের xG ছিল ১.৬৩, যেখানে বসনিয়ার xG মাত্র ০.২২। অর্থাৎ ম্যাচের বড় সময়জুড়ে কার্যকর আক্রমণের নিয়ন্ত্রণ ছিল সুইসদের হাতেই।
পাসিংয়েও সুইজারল্যান্ডের পরিষ্কার প্রাধান্য দেখা গেছে। তারা মোট ৫৯০টি পাস দিয়েছে, যার মধ্যে ৫১৮টি সফল হয়েছে। বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা দিয়েছে ৩৬১টি পাস, সফল হয়েছে ৩০০টি। এই ব্যবধান প্রমাণ করে, মাঝমাঠে সুইজারল্যান্ড অনেক বেশি সংগঠিত ছিল। তারা ধৈর্য ধরে বল ঘুরিয়েছে, জায়গা তৈরি করেছে এবং সঠিক সময়ে আক্রমণের গতি বাড়িয়েছে।
কর্নারেও এগিয়ে ছিল সুইসরা। সুইজারল্যান্ড পেয়েছে ৭টি কর্নার, বসনিয়া পেয়েছে ৩টি। সেট-পিস এবং উইং আক্রমণ মিলিয়ে বসনিয়ার রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে তারা। অন্যদিকে বসনিয়া ম্যাচে শৃঙ্খলার দিক থেকেও সমস্যায় পড়ে। তাদের খেলোয়াড়রা ২টি হলুদ কার্ড ও ১টি লাল কার্ড দেখেছে, যা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াই আরও কঠিন করে দেয়। সুইজারল্যান্ড দেখেছে ১টি হলুদ কার্ড।
সব মিলিয়ে সুইজারল্যান্ডের ৪-১ জয় ছিল পরিকল্পিত ফুটবল, নিয়ন্ত্রিত পাসিং এবং কার্যকর ফিনিশিংয়ের ফল। এই পারফরম্যান্স দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, আর বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার জন্য এই ম্যাচ হবে বড় সতর্কবার্তা। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে শুধু লড়াই করলেই হয় না, সুযোগ কাজে লাগানো এবং ম্যাচের ছন্দ ধরে রাখাটাই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩




















