বিশ্ব টেনিসে নিজের আধিপত্য আরও একবার প্রতিষ্ঠা করলেন ইতালির ইয়ানিক সিনার। টানা দ্বিতীয়বারের মতো উইম্বলডনের শিরোপা জিতে ইতিহাসের পাতায় নতুন করে নাম লেখালেন বিশ্বের এক নম্বর এই তারকা। রবিবার অল ইংল্যান্ড ক্লাবের সেন্টার কোর্টে রোমাঞ্চকর ফাইনালে জার্মানির আলেকজান্ডার জভেরেভকে ৬-৭ (৫-৭), ৭-৬ (৭-৩), ৬-৩, ৬-৪ গেমে হারিয়ে ক্যারিয়ারের পঞ্চম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জয়ের আনন্দে ভাসেন তিনি।
এই জয়ের মাধ্যমে ওপেন যুগে উইম্বলডনের শিরোপা ধরে রাখা মাত্র দশম খেলোয়াড় হিসেবে নাম লেখালেন সিনার। একই সঙ্গে গ্র্যান্ড স্ল্যামে নিজের শততম ম্যাচও জয়ের অনন্য কীর্তি গড়লেন ২৪ বছর বয়সী ইতালিয়ান। চলতি বছরে এটি তাঁর প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম হলেও মৌসুমের ষষ্ঠ শিরোপা।
প্রথমবারের মতো উইম্বলডনের ফাইনালে ওঠা জভেরেভ শুরুটা করেছিলেন দারুণভাবে। টাইব্রেকারে প্রথম সেট জিতে তিনি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন। কিন্তু এরপরই বদলে যায় দৃশ্যপট। ধৈর্য, নিখুঁত পরিকল্পনা ও অসাধারণ বেসলাইন টেনিসে ম্যাচের লাগাম নিজের হাতে তুলে নেন সিনার।
প্রথম দুই সেটে দুই খেলোয়াড়ই নিজেদের সার্ভিস গেম অক্ষুণ্ন রাখেন। ফলে দুটি সেটই গড়ায় টাইব্রেকারে। প্রথমটি জিতলেও দ্বিতীয় টাইব্রেকারে শুরু থেকেই ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে সমতা ফেরান সিনার। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।

তৃতীয় সেটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ইতালিয়ান তারকা। সপ্তম গেমে জভেরেভ একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক পয়েন্ট পেলেও দুর্দান্ত ড্রপ শটে সেটি রক্ষা করেন সিনার। এরপর ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক টেনিসে জার্মান প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে সেটটি নিজের করে নেন। চতুর্থ সেটেও একই ছন্দ বজায় রেখে শিরোপা নিশ্চিত করেন তিনি।
সার্ভিসে উভয়ে ছিলেন দূর্দান্ত
ম্যাচজুড়ে দুই খেলোয়াড়ই সার্ভিসে ছিলেন দুর্দান্ত। জভেরেভের প্রথম সার্ভ সফল হওয়ার হার ছিল ৭৬ শতাংশ। তবে দীর্ঘ র্যালি, নিখুঁত কোর্ট কভারেজ এবং ধারাবাহিক বেসলাইন নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে ছিলেন সিনার। তিনি ৫৮টি উইনার মারেন এবং মাত্র একটি ব্রেক পয়েন্ট প্রতিহত করেই ম্যাচ শেষ করেন।
শেষ পয়েন্ট জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই আবেগে কোর্টে লুটিয়ে পড়েন সিনার। কয়েক মুহূর্ত ঘাসের ওপর শুয়ে ঐতিহাসিক সাফল্যের অনুভূতি উপভোগ করেন। এরপর উঠে দাঁড়িয়ে দর্শকদের অভিবাদন গ্রহণ করেন। গ্র্যান্ড স্ল্যামে জভেরেভের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়েও এখন ৭ ম্যাচে ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেন তিনি।
মৌসুমের শুরুটা সুখকর ছিল না
চলতি মৌসুমের শুরুটা অবশ্য সিনারের জন্য সুখকর ছিল না। মে মাসে ফরাসি ওপেনে দ্বিতীয় রাউন্ডেই জুয়ান ম্যানুয়েল সেরুন্দোলোর কাছে পাঁচ সেটের লড়াইয়ে বিদায় নেন। শারীরিক অসুস্থতা ও প্যারিসের তীব্র গরমকে সেই পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে উইম্বলডনে এসে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে দেখা গেল তাঁকে।
টুর্নামেন্টের প্রথম সপ্তাহে কিছুটা ছন্দহীন থাকলেও শেষ দিকে নিজের সেরা টেনিস উপহার দেন সিনার। সেমিফাইনালে নোভাক জোকোভিচকে স্ট্রেট সেটে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর জভেরেভের বিপক্ষেও একই আত্মবিশ্বাস ধরে রাখেন তিনি।
অন্যদিকে জভেরেভের সামনে ছিল বিরল এক কীর্তি গড়ার সুযোগ। ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের পরই দ্বিতীয় মেজর শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা থাকলেও সিনারের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের সামনে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। তবে ফাইনালে ওঠার সুবাদে নতুন এটিপি র্যাঙ্কিংয়ে তিনি বিশ্বের দুই নম্বরে উঠে আসার পথে রয়েছেন।


