জেনে নিন বিস্তারিত সব তথ্য
এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব ‘এশিয়ান গেমস’-এর ২০তম সংস্করণের আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে যাচ্ছে জাপানের আইচি প্রিফেকচারের নাগোয়া শহরে। চার বছর পর পর আয়োজিত এই বহুমাত্রিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাটি আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালিত হবে। তবে মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগেই ১০ সেপ্টেম্বর থেকে পুরুষদের বাস্কেটবল, ফুটবল, ভলিবল, ক্রিকেট এবং আধুনিক পেন্টাথলনের মতো কিছু প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
১. আয়োজন ও ভেন্যু পরিচিতি
জাপানের তৃতীয় স্বাগতিক অভিজ্ঞতা: ১৯৫৮ সালে টোকিও এবং ১৯৯৪ সালে হিরোশিমার পর এবার তৃতীয়বারের মতো এশিয়ান গেমসের আয়োজন করছে জাপান। ১৯৫১ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম এশিয়ান গেমসের ১১টি অংশগ্রহণকারী দেশের একটি ছিল এই দেশটি।
বিশাল অ্যাথলেট সমাবেশ ও আবাসন চাপ: আয়োজকরা প্রাথমিকভাবে ৪৫টি অংশগ্রহণকারী দেশ ও অঞ্চল থেকে প্রায় ১৫,০০০ অ্যাথলেট ও কর্মকর্তার আসার হিসাব ধরে বাজেট করলেও নিবন্ধনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১৭,০০০-এ পৌঁছেছে। এতে অ্যাথলেটদের জন্য মানসম্মত বাসস্থান নিশ্চিতকরণে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে আয়োজকদের।
দেশজুড়ে ভেন্যু বিস্তৃত: মোট ৫৪টি ভেন্যুতে ৪৩টি খেলার ৪৬৯টি পদক ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান ভেন্যু নাগোয়ার ‘মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়াম’। এছাড়া সাঁতারের জন্য টোকিও (টোকিও অ্যাকুয়াটিকস সেন্টার) এবং ফুটবলের কিছু ম্যাচের জন্য ওসাকা শহরকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
২. নতুন খেলা, বাদ পড়া ডিসিপ্লিন ও বহাল গেমস
নতুন যুক্ত হওয়া খেলা: ফ্রিস্টাইল বিএমএক্স, মিক্সড মার্শাল আর্টস (MMA), প্যাডেল, সার্ফিং, ভার্চুয়াল তায়কোয়ান্দো এবং টেকবল (ফুটবল ও টেবিল টেনিসের মিশ্রণ)—এই খেলাগুলো এবারই প্রথম এশিয়ান গেমসে পদক ইভেন্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।
বাদ পড়া ডিসিপ্লিন: আগের আসরগুলোতে দেখা গেলেও এবার গেমস থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে দাবা, গো, চীনা দাবা (জিয়াংকি), ব্রিজ, ড্রাগন বোট রেসিং, রোলার স্কেটিং এবং ওপেন ওয়াটার (ম্যারাথন) সুইমিং।
বহাল থাকছে যা: ২০১৮ সালে প্রদর্শনী হিসেবে এবং ২০২৩ সালে হাংঝৌ গেমসে মূল ইভেন্ট হিসেবে স্থান পাওয়া ‘ই-স্পোর্টস’ এবারও বহাল থাকছে। সঙ্গে থাকছে ব্রেকডান্সিং বা ‘ব্রেকিং’।
৩. ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের টিকিট
এবারের গেমসটি কেবল এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই নয়; বরং ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস (LA) অলিম্পিকের সরাসরি কোয়ালিফায়ার হিসেবেও কাজ করবে। অ্যাথলেটরা এই গেমসে ভালো পারফর্ম করে আর্চারি, হকি, সেলিং, স্কোয়াশ, সার্ফিং, টেনিস ও ট্রায়াথলনের মতো খেলায় সরাসরি অলিম্পিক কোটা নিশ্চিত করতে পারবেন।
৪. বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট ও সম্ভাবনা
দল গঠন ও অ্যাথলেট সংখ্যা: বাংলাদেশ থেকে এবার ১৮৭ জন অ্যাথলেট (৯০ জন পুরুষ এবং ৯৭ জন নারী) এবং কর্মকর্তা-কোচ মিলিয়ে মোট ২৬০ সদস্যের প্রতিনিধি দল এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে।
২২টি ডিসিপ্লিনে অংশগ্রহণ: ক্রিকেট, ফুটবল, আর্চারি, অ্যাথলেটিক্স, বক্সিং, কাবাডি, হকি, শুটিং, সুইমিং, ভারোত্তোলন, জিমন্যাস্টিকস, কারাতে, ফেঞ্চিং, সাইক্লিং, ব্যাডমিন্টন, গলফ, সার্ফিং, জুডো, টেবিল টেনিস, বিচ ভলিবল, কুস্তি এবং উশু—এই ২২টি ডিসিপ্লিনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বাংলাদেশ।
পতাকাবাহী ও সূচনা: উদ্বোধনী প্যারেডে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বহন করবেন শুটার আবদুল্লাহ হেল বাকী ও কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরা। বাংলাদেশ দলের অভিযান শুরু হয়েছে ১৪ সেপ্টেম্বর নারী ফুটবলের ম্যাচের মধ্য দিয়ে।
পদক প্রত্যাশা: গত হাংঝৌ গেমসে পুরুষ ও নারী ক্রিকেট থেকে প্রাপ্ত দুটি ব্রোঞ্জ পদক ছিল বাংলাদেশের অর্জনে। এবারও কাবাডি, ক্রিকেট, শুটিং ও আর্চারিতে সামান্য পদকের সম্ভাবনা দেখছেন ক্রীড়া কর্মকর্তারা।
৫. এশিয়ান গেমসে চীনের প্রাধান্য
১৯৮২ সাল থেকে প্রতি আসরেই এশিয়ান গেমসের পদক তালিকায় একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছে চীন। সর্বশেষ হাংঝৌ আসরে স্বাগতিক হিসেবে চীন রেকর্ড ২০১টি স্বর্ণপদক জিতেছিল। সেই আসরে ৫২টি স্বর্ণ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল জাপান এবং ৪২টি স্বর্ণ পেয়ে তৃতীয় হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া।


