বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক তুলে নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ ব্যবধানের সহজ জয়ের ম্যাচে জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজার অল-টাইম রেকর্ড ১৬ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। তবে এই ঐতিহাসিক কীর্তির দিনেও ৩৮ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে নিয়ে শুরু হয়েছে এক নতুন বিতর্ক। ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি বিপজ্জনক ট্যাকল করেও কার্ড না পাওয়ায় ফুটবল মহলে প্রশ্ন উঠেছে, মেসিকে লাল কার্ড দেখাননি রেফারি , মেসি বলেই কি পার পেয়ে গেলেন ?
ম্যাচে’র প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে যখন আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে, তখনই ঘটে বিতর্কিত সেই ঘটনা। আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দির কাছ থেকে বল কেড়ে নিতে গিয়ে কিছুটা দেরিতে চ্যালেঞ্জ করে বসেন মেসি। টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, তার বুটের স্পাইক সরাসরি মান্দির কাফের (পায়ের পেছনের অংশ) ওপর আঘাত করে।
মাঠের রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াক ফাউলের বাঁশি বাজালেও মেসিকে কোনো কার্ড দেখাননি। এমনকি ভিএআর (VAR) প্রযুক্তিও একে ‘সিরিয়াস ফাউল প্লে’ হিসেবে বিবেচনা করে রেফারিকে মাঠের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কোনো অনুরোধ জানায়নি। প্রাথমিক চিকিৎসার পর মান্দি অবশ্য খেলা চালিয়ে যেতে পেরেছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ
এই ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্ত ও সমর্থকদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেরই দাবি, আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলারকে রেফারিরা কিছুটা নমনীয় চোখে দেখেছেন।
টুইটারে (বর্তমানে এক্স) এক ক্ষুব্ধ সমর্থক লিখেছেন:
একেবারে পরিষ্কার লাল কার্ড ছিল, অথচ ভিএআর চেকের পরও তাকে একটা হলুদ কার্ডও দেওয়া হলো না। হাস্যকর!
অন্য এক সমর্থক সরাসরি মেসির তারকা খ্যাতিকে ইঙ্গিত করে বলেন:
মেসি ছাড়া অন্য কোনো খেলোয়াড় যদি এই ফাউলটি করত, তবে তাকে নিশ্চিত মাঠ ছাড়তে হতো। সে শুধু মেসি বলেই মাঠে টিকে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতামত
সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের পাশাপাশি ফুটবল বিশ্লেষকরাও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। ইএসপিএন (ESPN) এর বিশ্লেষক আলে মোরেনো স্পষ্ট ভাষায় বলেন:
এটি শতভাগ লাল কার্ড ছিল। এই ধরনের সিদ্ধান্ত গুলো মাঠের সেই পুরোনো বিতর্ককেই আবার উসকে দেয় যে বড় খেলোয়াড়রা সবসময়ই বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকেন।
ছায়া ঢাকা পড়ল মেসির ম্যাজিকে
বিতর্ক যত বড়ই হোক না কেন, মাঠের পারফরম্যান্সে তা খুব বেশি সময় টিকতে পারেনি। সব বিতর্ককে একপাশে ঠেলে দিয়ে ম্যাচের বাকি অংশে আবারও জ্বলে ওঠেন মেসি। তার অসাধারণ হ্যাটট্রিকে ভর করে আসরের শুভ সূচনা করে আর্জেন্টিনা। এই তিন গোলের সুবাদে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে ক্লোজার সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসলেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
