দক্ষিণ ভারতের রাজ্য কেরালার রাজধানী তিরুবনন্তপুরমের ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। স্বাগতিক ভারতকে ফেবারিট ধরে নিয়ে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। আর সেটি হলো ক্যারিবীয় দলটি কি পারবে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ভারতীয় দলের আধিপত্য খর্ব করতে। কেননা ২০০৬ সালে সর্বশেষ ভারতীয় দলের বিপক্ষে নিজেদের হোম কন্ডিশনে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর আর কোন সিরিজই জিততে পারেনি গ্যারি সোবার্সের উত্তসূরিরা।
সেই বিষয়টিকেই স্মরণ করে ক্যারিবীয় দলের বর্তমান অধিনায়ক শাই হোপ বললেন, ‘এই দলকে আমরা লম্বা সময় ধরে হারাতে পারছি না। বিশেষ করে ভারতের মাটিতেতো নয়ই’। শাই হোপ আরও বলেন, ‘আপনি যখন বিশ্বের সেরা একটা দলের বিপক্ষে তাদের মাটিতেই খেলতে চান তখন সেরা দলকে হারানোর লক্ষটাও আপনাকে ঠিক করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী কৌশল সাজাতে হবে। বড় কথা হলো সেই সামর্থ্যও আপনার থাকতে হবে। আমরা জানি, কাজটি কঠিন এবং চ্যালেঞ্জের।
২০০৬ সালে ঘরের মাঠে ভারতকে ৪-১ ব্যবধানে হারানোর পর দুই দলের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ হয়েছে ১২টি। যার সবগুলোতেই জয়ী দলের নাম ভারত। একেতো আগের সিরিজের ধারাবাহিকতা তার ওপর ভারতের মাটিতে শুরু হওয়া সিরিজ। সবমিলিয়ে আরও একটি একতরফা সিরিজেরই গন্ধ পাচ্ছেন ক্রিকেট ভক্তরা।
সিরিজ শুরুর আগে এক সাক্ষাৎকারে হোপ বলেন, “আমরা সবসময় বলি, এই দলকে আমরা লম্বা সময় ধরে হারাতে পারিনি। অবশ্য ভারতের মতো দলকে হারানোর আগে আমাদের বিশ্বকাপে উঠতে না পারার বিষয় নিয়ে কথা বলা জরুরি। এতো কিছুর পরও বলতে হয় যে, দল হিসেবে আমাদের কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে যা কিনা প্রশংসার দাবী রাখে। আর আপনি যখন ভারতে এসে ভারতের মতো সেরা দলের বিপক্ষে খেলবেন, তখন তাদের হারানোর লক্ষ্য থাকবেই। এটি অবশ্যই আমাদের বাড়তি প্রেরণা দেবে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারত সফরের আগে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সাফল্য পেয়েছে। আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজে ১-১ ব্যবধানে ড্র করেছে। অবশ্য এর আগে, ঘরের মাঠেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে ৩-২ ব্যবধানে।
বর্তমানে আইসিসি মেন্স ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচটি তাদের জন্য অনেকটাই বাঁচা-মরার। কেননা এই দুই ম্যাচে জয় পেলে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার প্রাথমিক নিশ্চয়তা পাবে। এরপরও নির্ভর করবে অনেক যদি কিন্তুর।
২০২৭ সালের আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায়।
কিন্তু ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপরীতধর্মী ফর্মের বিচারে একতরফা লড়াইয়ের গন্ধই পাচ্ছেন অনেকে। কেননা, যে কোন ফর্মেশনেই ভারত এখন কঠিন প্রতিপক্ষ।
শাই হোপ বলেন, “ভারতের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে খেলা সবসময়ই চ্যালেঞ্জের। আর এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতেই হবে। নিজেদের ঘরের কন্ডিশনে যেকোনো দলের বিপক্ষে খেলা কঠিন। তবে আমরা এমন ম্যাচই খেলতে চাই “
তবে ভারতের সাম্প্রতিক ওয়ানডে ফর্মও খুব একটা ভালো নয়। ২০২৬ সালে ভারত তিনটি ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে যার মধ্যে দুটিতেই তারা হেরেছে।
উপমহাদেশের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ। তবে শাই হোপ নিজের ও দলের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে আশাবাদী।
“নিজেকে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করাকে আমি অনেক গুরুত্ব দিই। আর এর একটি অংশ হলো মানিয়ে নিতে পারা।
ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সূচি
১ম ওয়ানডে: ২৭ সেপ্টেম্বর — তিরুবনন্তপুরম
২য় ওয়ানডে: ৩০ সেপ্টেম্বর — গুয়াহাটি
৩য় ওয়ানডে: ৩ অক্টোবর — নিউ চণ্ডীগড়
১ম টি-টোয়েন্টি: ৬ অক্টোবর — লক্ষ্ণৌ
২য় টি-টোয়েন্টি: ৯ অক্টোবর — রাঁচি
৩য় টি-টোয়েন্টি: ১১ অক্টোবর — ইন্দোর
৪র্থ টি-টোয়েন্টি: ১৪ অক্টোবর — হায়দরাবাদ
৫ম টি-টোয়েন্টি: ১৭ অক্টোবর — বেঙ্গালুরু


