দেশের ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের সবচেয়ে বড় ও মর্যাদাপূর্ণ আসর ‘৪৯তম জাতীয় অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা’ মাঠে গড়াচ্ছে সম্পূর্ণ স্পন্সরহীন অবস্থায়। আগামীকাল রবিবার থেকে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে ৪৫টি সংস্থার ৪১০ জন অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছেন। তবে দেশের শীর্ষ এই অ্যাথলেটিকস আসরে কোনো বাণিজ্যিক পৃষ্ঠপোষক না থাকা নিয়ে খোদ ফেডারেশনের অভ্যন্তরেই তৈরি হয়েছে নানামুখী প্রশ্ন ও বিতর্ক।
২০২৪ সালে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনে অ্যাডহক কমিটি গঠন করার পর থেকে এ পর্যন্ত যতগুলো টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার সবকটিই স্পন্সর ছাড়া আয়োজন করা হয়েছে।
আজ শনিবার (১৬ মে) ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই এই স্পন্সর সংকটের নেতিবাচক দিকটি সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। একের পর এক জাতীয় আসর কেন করপোরেট সহযোগিতা ছাড়া আয়োজন করতে হচ্ছে? সাংবাদিকদের এমন তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম স্বীকার করেন যে, তাঁরা কোনো স্পন্সর আনতে পারেননি।
স্পন্সর না থাকায় নানা প্রশ্ন
তবে স্পন্সর না পাওয়ার ব্যর্থতার মধ্যেও নিজস্ব তহবিল ও আন্তর্জাতিক অনুদান দিয়ে টুর্নামেন্ট সচল রাখাকে বিস্ময়করভাবে নিজেদের সাফল্য হিসেবে দাবি করেছেন সাধারণ সম্পাদক। শাহ আলম বলেন, “আইএএএফ (ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন্স) থেকে আমরা এ পর্যন্ত ৯৬ লাখ টাকা পেয়েছি। এনএসসি (জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ) থেকেও এ রকম অনুদান পেয়েছি। এছাড়া আমাদের আগের কিছু ফান্ড ছিল। আপনারা আমাদের একটু কৃতিত্ব দেবেন যে, আমরা স্পন্সর ছাড়াও ফান্ড ধরে রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”
স্পনসর ছাড়া একের পর এক টুর্নামেন্ট আয়োজন করায় ক্রীড়াঙ্গনে নানা গুঞ্জন এবং সাবেক কমিটির রেখে যাওয়া তহবিল তছরুপের রটনা তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নিজের ও কমিটির অবস্থান পরিষ্কার করে সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আগের ফান্ড ছিল ২ কোটি টাকা। আমরা তো সেখান থেকে দেড় কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) করে রেখেছি। তাহলে বাকি এতগুলো খেলা আমরা কীভাবে চালালাম? মনে রাখবেন, প্রতিটা টুর্নামেন্টের পেছনে ২০ থেকে ২৪ লাখ টাকার মতো খরচ হয়।”
এবারের জাতীয় অ্যাথলেটিকসে অংশ নিচ্ছেন লন্ডনপ্রবাসী ইমরানুর রহমান। গত আসরে অংশ নিতে না পারলেও এবার তিনি ট্র্যাকে নামছেন।
আছে আর্থিক পুরস্কার
এবারের প্রতিযোগিতাকে আকর্ষণীয় করতে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইভেন্টে নতুন রেকর্ডধারী অ্যাথলেটকে দেওয়া হবে ২০ হাজার টাকা করে। এছাড়া ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের প্রতিটি ইভেন্টে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী অ্যাথলেটরা পাবেন যথাক্রমে ৫ হাজার, ৩ হাজার ও ২ হাজার টাকা।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩




















