হাল্যান্ড ঝড়ে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে

দীর্ঘ ২৮ বছর পর আবারও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। ১৯৯৮ সালের সেই স্মৃতি ফিরিয়ে এনে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে দিল নরওয়ে। নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর নকআউট ম্যাচে সেলেসাওদের ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার গৌরব অর্জন করেছে নরওয়েজিয়ানরা। আর এই পরাজয়ের সাথে সাথেই লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিলের বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘হেক্সা মিশন’ আরও একবার শেষ ষোলোতেই থমকে গেল।

ব্যর্থ আনচেলত্তির মাস্টারক্লাস

শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে জাপানের বিপক্ষে কার্লো আনচেলত্তির কৌশলগত মাস্টারক্লাস দারুণ কাজে দিয়েছিল। তবে ইতিহাসের পাতা বলছিল ভিন্ন কথা, আগের চারবারের দেখায় কখনই নরওয়েকে হারাতে পারেনি ব্রাজিল। এবার সেই ‘নরওয়ে জুজু’ কাটাতে ব্যর্থ হলেন ভিনিসিয়ুস-নেইমাররা। শুরু থেকেই ব্রাজিলের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বজায় রেখে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় ইউরোপের এই উদীয়মান শক্তি।

প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিসের খেসারত

ম্যাচের প্রথমার্ধেই লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল সেলেসাওরা। নরওয়ের ডিফেন্ডার ক্রিস্তোফার আয়ের ডি-বক্সের ভেতরে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড মাতেউস কুনহাকে ফাউল করলে ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার পর পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মিডফিল্ডার ব্রুনো গুইমারেস। প্রথমার্ধের এই নিষ্্প্রভ পারফরম্যান্স এবং সুযোগ হাতছাড়ার মাশুলই শেষ পর্যন্ত দিতে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

হাল্যান্ড ম্যাজিকে নরওয়ের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর আসল রোমাঞ্চ জমা ছিল দ্বিতীয়ার্ধের জন্য। নরওয়ের হয়ে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন তাদের গোলমেশিন আর্লিং হাল্যান্ড।

প্রথম গোল (৭৯ মিনিট): আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের বাঁ প্রান্ত থেকে বাড়ানো নিখুঁত ক্রসে দারুণ এক হেডে বল ব্রাজিলের জালে জড়ান হাল্যান্ড। উল্লাসে ফেটে পড়ে নরওয়ে শিবির।

দ্বিতীয় গোল (৯০ মিনিট): নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে পরাস্ত করে এক জোরালো নিচু শটে নিজের জোড়া গোল পূরণ করার পাশাপাশি দলের জয় নিশ্চিত করেন এই তারকা স্ট্রাইকার।

নেইমারের গোল কেবলই সান্ত্বনা

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে (ইঞ্জুরি টাইম) ব্রাজিল আরও একটি পেনাল্টি পায়। এবার স্পটকিক থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি নেইমার জুনিয়র। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। নেইমারের এই গোলটি কেবল ব্রাজিলের হারের ব্যবধানই কমিয়েছে, বিদায়ের গ্লানি মুছতে পারেনি। ২-১ ব্যবধানের ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।

এক নজরে ম্যাচ:

  • ফলাফল: নরওয়ে ২ – ১ ব্রাজিল
  • নরওয়ের পক্ষে গোলদাতা: আর্লিং হাল্যান্ড (৭৯’ ও ৯০’)
  • ব্রাজিলের পক্ষে গোলদাতা: নেইমার (পেনাল্টি, ৯০+ মিনিট)
  • ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত: প্রথমার্ধে ব্রুনো গুইমারেসের পেনাল্টি মিস।

প্রথমবারের মতো শেষ আটে জায়গা করে নিয়ে নরওয়ে ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। অন্যদিকে, মাঠের ব্যর্থতা আর সুযোগ নষ্টের মহড়ায় আরও একটি বিশ্বকাপ মিশন হতাশা দিয়ে শেষ হলো ব্রাজিলের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles