মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলের পরাজয়টি কেবল ব্রাজিলের হেক্সা মিশনই গুঁড়িয়ে দেয়নি, একই সাথে অবসান ঘটাল ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের এক সোনালী অধ্যায়ের। ম্যাচ শেষের কয়েক ঘণ্টার মাথায় চোখের জলে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিজের অবসরের ঘোষণা দিলেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সেলেসাওদের আক্রমণভাগের ব্যাটন নিজের কাঁধে বয়ে বেড়ানোর পর অবশেষে আন্তর্জাতিক মঞ্চকে ‘আলবিদা’ বললেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

চোখের জলে বিদায়ের ঘোষণা
ম্যাচ শেষে অশ্রুসিক্ত চোখে নেইমার জানান, জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই ছিল তাঁর শেষ ম্যাচ। অবসরের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন,
“ব্রাজিলের জার্সি গায়ে জড়ানো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় ছিল। আমি সবসময় দেশের জন্য আমার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু শরীর এবং মন বলছে, এটাই থেমে যাওয়ার সঠিক সময়। আমি চেয়েছিলাম ব্রাজিলের মাথায় ষষ্ঠ নক্ষত্রটি (হেক্সা ট্রফি) যুক্ত করে বিদায় নিতে, কিন্তু নিয়তি আজ আমাদের পক্ষে ছিল না।”
বিদায়বেলায় আক্ষেপ আর অপূর্ণতার হেক্সা স্বপ্ন
২০১০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। এরপর থেকে বহু জয় ও ট্র্যাজেডির সাক্ষী হয়েছেন তিনি। পেলেকে টপকে ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও, একটি বিশ্বকাপ ট্রফি না পাওয়ার আক্ষেপ সারা জীবন তাড়িয়ে বেড়াবে এই তারকাকে।
বিদায়ী বার্তায় নেইমার আরও যোগ করেন, “বিশ্বকাপ জয় আমার শৈশবের স্বপ্ন ছিল। আমরা খুব কাছে গিয়েও বারবার ব্যর্থ হয়েছি। আজ নরওয়ের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোল করেও দলকে জেতাতে পারিনি, এই আক্ষেপ হয়তো কোনোদিন মুছবে না। তবে আমি নিশ্চিত, এই তরুণ দল একদিন ব্রাজিলের সেই অধরা স্বপ্ন পূরণ করবে।”
এক নজরে নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার
- অভিষেক: ২০১০ (যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে)
- প্রধান শিরোপা: ২০১৩ ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ, ২০১৬ রিও অলিম্পিক (স্বর্ণপদক)
- রেকর্ড: কিংবদন্তি পেলেকে ছাড়িয়ে ব্রাজিলের পুরুষ ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
ফুটবল বিশ্বে শোকের ছায়া
নেইমারের অবসরের ঘোষণার পরপরই ফুটবল বিশ্বে নেমে এসেছে স্তব্ধতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সতীর্থ থেকে শুরু করে ফুটবল বিশ্বের নামী-দামী তারকারা তাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। কোচ কার্লো আনচেলত্তি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “নেইমার কেবল একজন ফুটবলার নন, তিনি একজন জাদুকর। তার মতো প্রতিভাকে ড্রেসিংরুমে পাওয়া যেকোনো কোচের জন্যই সৌভাগ্যের। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তাকে আজীবন মিস করবে।”
সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, ইউরোপের দলগুলোর বিপক্ষে ব্রাজিলের যে নকআউট জুজু, তার শিকার হয়েই শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়তে হলো এই ফুটবল জাদুকরকে। সাম্বার ছন্দ আর চেনা ১০ নম্বর জার্সির সেই চপলতা আর দেখা যাবে না আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবুজ গালিচায়।



