জাপানের বিপক্ষে যে রণকৌশল কাজ করেছিল, নরওয়ের রক্ষণভাগের ইস্পাতকঠিন দেয়ালের সামনে তা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ম্যাচ শেষে বিষণ্ণ ও হতাশ ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি অকপটে স্বীকার করে নিলেন, নিজেরা সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মনোযোগ হারানোর কারণেই আজ তাদের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ব্রাজিল বস নিজের অনুভূতি ও হারের কারণগুলো ব্যাখ্যা করেন।
প্রথমার্ধের পেনাল্টি মিসই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে
ম্যাচের প্রথমার্ধে ব্রুনো গুইমারেসের পেনাল্টি মিস করাটাকেই পরাজয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন আনচেলত্তি। তিনি বলেন,
“ফুটবলে যখন আপনি সুযোগ পাবেন, তখন আপনাকে তা লুফে নিতে হবে। প্রথমার্ধে আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলাম, পেনাল্টিও পেয়েছিলাম। সেই মুহূর্তে গোলটি পেয়ে গেলে ম্যাচের চিত্রনাট্য অন্যরকম হতে পারত। কিন্তু আমরা সেই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেছি এবং এর খেসারত আমাদের দিতে হয়েছে।”
হাল্যান্ডের বিশ্বমানের পারফরম্যান্স ও রক্ষণভাগের ভুল
নরওয়ের জয়ের নায়ক আর্লিং হাল্যান্ডের জোড়া গোল এবং ব্রাজিলের ডিফেন্সের দুর্বলতা নিয়ে আনচেলত্তি বলেন,
“আমরা জানতাম হাল্যান্ড কতটা বিপজ্জনক। তাকে আটকানোর জন্য আমাদের বিশেষ পরিকল্পনা ছিল। প্রথমার্ধে আমরা তাকে বোতলবন্দী রাখতে পেরেছিলাম। কিন্তু ৭৯ মিনিটে ডিফেন্সের ছোট্ট একটু অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে ও (হাল্যান্ড) অসাধারণ এক হেডে গোল করে গেল। ও একজন বিশ্বমানের স্ট্রাইকার, তাকে এক মুহূর্তের জন্য ছাড় দিলেও ও শাস্তি দেবে। দ্বিতীয় গোলটির সময় আমরা সমতায় ফেরার জন্য অল-আউট আক্রমণে গিয়েছিলাম, যার ফলে কাউন্টার অ্যাটাকে ডিফেন্স ফাঁকা হয়ে যায়।”
নরওয়ে জুজু ও কৌশলগত ব্যর্থতা
ব্রাজিল কেন নরওয়েকে হারাতে পারে না, এই মনস্তাত্ত্বিক চাপ কাজ করেছিল কিনা, এমন প্রশ্নে আনচেলত্তি বলেন,
“ইতিহাস বা অতীত রেকর্ড নিয়ে আমরা ভাবিনি। তবে নরওয়ে কৌশলগতভাবে খুব গোছানো ফুটবল খেলেছে। ওরা প্রথমার্ধে রক্ষণভাগ সামলে রেখে সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করেছে। আমরা বল পজেশনে এগিয়ে থাকলেও ওদের ফাইনাল থার্ডে ভাঙতে পারিনি। এটি আমাদের কৌশলগত ব্যর্থতা এবং এর দায় আমার।”
নেইমারের গোল এবং দেরিতে জেগে ওঠা
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নেইমারের পেনাল্টি থেকে পাওয়া গোল নিয়ে কোচ বলেন, “নেইমার গোল করেছে, কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচ আমাদের হাত থেকে ফসকে গেছে। অতিরিক্ত সময়ে গোল করে এই স্তরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব। আমরা আজ বড্ড দেরিতে জেগে উঠেছি।”
ব্রাজিলের কোটি ভক্তের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা
হেক্সা মিশনের এই করুণ সমাপ্তিতে ব্রাজিলের কোটি ভক্তের আবেগের কথা স্মরণ করে আনচেলত্তি বলেন,
“আমি জানি এই হার পুরো ব্রাজিলের জন্য কতটা বেদনার। সমর্থকেরা দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে ষষ্ঠ ট্রফির অপেক্ষা করছেন। আমরা তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারিনি, এজন্য আমি দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। এই দলে অনেক তরুণ প্রতিভা আছে, এই ধাক্কা থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্রাজিল নিশ্চয়ই আবার ঘুরে দাঁড়াবে।”
কার্লো আনচেলত্তির এই প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দেয় যে, মাঠের পারফরম্যান্সের অভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে স্নায়ু ধরে রাখতে না পারার কারণেই আরও একবার ট্র্যাজিক হিরো হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।



