ব্রাজিলকে হারিয়ে যা বললেন হাল্যান্ড!

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে দিয়ে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছে নরওয়ে। আর এই রূপকথার মহানায়ক আর কেউ নন, তিনি আর্লিং ব্রাউট হাল্যান্ড। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেলেসাওদের ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটার পর নরওয়েজিয়ান এই গোলমেশিনের কণ্ঠে ঝরে পড়ল আবেগ, আত্মবিশ্বাস আর এক বুক গর্ব।

ম্যাচ শেষে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাল্যান্ড এই জয়কে তাদের দেশের ফুটবল ইতিহাসের “সর্বশ্রেষ্ঠ রাত” বলে আখ্যায়িত করেছেন।

আমরা ইতিহাস গড়তে এসেছিলাম

ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর মাঠেই সতীর্থদের সাথে উদযাপনে মেতে ওঠেন হাল্যান্ড। পরে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন,

“আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। নরওয়ের মতো একটি ছোট দেশের জন্য বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা এবং তাও ব্রাজিলকে হারিয়ে, এটি অবিশ্বাস্য! আমরা জানতাম ইতিহাস আমাদের পক্ষে ছিল না, কিন্তু আমরা মাঠে নেমেছিলাম নতুন ইতিহাস লিখতে। আজ আমরা সেটি করে দেখিয়েছি।”

ব্রাজিলের বিপক্ষে ‘নরওয়ে জুজু’ নিয়ে হাল্যান্ড

অতীতে নরওয়ে কখনোই ব্রাজিলের কাছে হারেনি—এই রেকর্ড ম্যাচ শুরুর আগে তাদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল কিনা, এমন প্রশ্নে হাল্যান্ড বলেন, “অবশ্যই পুরোনো রেকর্ড আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে আমাদের অগ্রজরা ব্রাজিলকে হারিয়েছিলেন, সেই গল্প শুনে আমরা বড় হয়েছি। দীর্ঘ ২৮ বছর পর সেই একই মঞ্চে, একই ব্যবধানে (২-১) আবার জয় পাওয়াটা যেন এক অলৌকিক কাকতালীয় ঘটনা। আমরা প্রমাণ করেছি, নরওয়ে ফুটবলে কাউকে ভয় পায় না।”

নিজের জোড়া গোল এবং ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট

ম্যাচের ৭৯ মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের ক্রস থেকে করা অসাধারণ হেডের গোল এবং ৯০ মিনিটের কাউন্টার অ্যাটাক থেকে করা জয়সূচক গোল নিয়ে এই স্ট্রাইকার বলেন, “পেনাল্টি মিস করার পর ব্রাজিল মানসিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিল। প্রথমার্ধে ওরা সুযোগ নষ্ট করায় আমরা জানতাম দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের সুযোগ আসবে। আন্দ্রেয়াসের ক্রসটি নিখুঁত ছিল, আমি শুধু বলটিকে সঠিক দিশা দিয়েছি। আর দ্বিতীয় গোলের সময় আমার মাথায় একটাই চিন্তা ছিল ‍যেন ম্যাচটি যেন অতিরিক্ত সময়ে না গড়ায়। বল জালে জড়ানোর পর যে অনুভূতি হয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”

দলের রক্ষণভাগ ও সতীর্থদের প্রশংসা

শুধু নিজের গোলের কৃতিত্ব নেননি হাল্যান্ড। প্রথমার্ধে পেনাল্টি সেভ করা এবং ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে আটকে রাখার জন্য নিজের দলের রক্ষণভাগকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তিনি। “ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করাটা যতটা আনন্দের, তার চেয়েও বড় কাজ ছিল ওদের ভিনিসিয়ুস বা নেইমারদের আটকে রাখা। আমাদের ডিফেন্ডাররা আজ জানপ্রাণ দিয়ে লড়েছে। ব্রুনো গুইমারেস যখন পেনাল্টি মিস করল, আমরা তখনই বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম যে আজ রাতটা আমাদের হতে যাচ্ছে।”

সামনে আরও পথ চলা বাকি

প্রথমবারের মতো শেষ আটে জায়গা করে নিলেও এখনই তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে নারাজ এই নরওয়েজিয়ান তারকা। ব্রাজিলের হেক্সা মিশন গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর এবার নিজ দলের জন্য বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। হাল্যান্ডের ভাষায়, “আমরা এখানে শুধু একটি ম্যাচ জিততে আসিনি। কোয়ার্টার ফাইনাল আমাদের জন্য এক নতুন শুরু। আমরা উদযাপন করব, তবে কাল থেকেই আবার পরের ম্যাচের জন্য নিজেদের উজাড় করে দেব। নরওয়ে অনেক দূর যেতে প্রস্তুত।”

হাল্যান্ডের এই হুঙ্কার আর মাঠের পারফরম্যান্স প্রমাণ করছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ে কেবলই কোনো চমক নয়, বরং শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles