বিশ্বকাপ ফুটবলের চলমান আসর যেন লিওনেল মেসিকে দু’হাত উজাড় করে দিয়ে চলেছে। গোল করছেন, করাচ্ছেন। প্রতি ম্যাচেই একের পর এক গোল করে বিষ্ময় উপহার দিয়ে চলেছেন। কখনো নিজের রেকর্ড ভাঙ্গছেন, কখনো তা সমৃদ্ধ করছেন, আবার কখনো নিজের গড়া রেকর্ডকে ধরাঁছোয়ার বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার রেকর্ড গড়ছেন লজ্জার।
এবারের বিশ্বকাপে মেসি এমন এক লজ্জার রেকর্ড গড়েছেন তা আর কারো নেই। পেনাল্টি থেকে গোল করার ব্যর্থতার রেকর্ড। একই ভুল বারবার করছেন মেসি। মিসরের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ম্যাচের ২১ মিনিটের সময় নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন মিসরের ডিফেন্ডার। পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্বাভাবিকভাবেই পেনাল্টি নিতে এগিয়ে যান অধিনায়ক মেসি। কিন্তু জঘন্য এক শট মারেন বিশ্বকাপ জয়ী এই তারকা। গোলরক্ষকের বাম দিক দিয়ে গোল করার চেষ্টা করেন তিনি। কোনো দুর্ভেদ্য শট ছিল না। ফলে মিসরের গোলরক্ষক মুস্তাফা বোশ সহজেই তা ফিরিয়ে দেন।
শেষ হতে পারতো মেসিদের বিশ্বকাপ
মেসির এই ব্যর্থতায় শেষ হয়ে যেতে পারতো আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। যে গোল দিয়ে তারা সমতায় ফিরতে পারতো, মেসির ব্যর্থতা মিসরকে আরো উজ্জ্বীবিত করে দেয়। তার সুফলও তারা ঘরে তোলে। দ্বিতীয় গোল করে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। সে সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন উজ্জ্বল করে তোলে।

মেসি এবারের বিশ্বকাপে এবার নিয়ে দুইবার পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলেন। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচেও তিনি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেবারও একই অবস্থা। গোলরক্ষকের বাম দিক থেকে মারতে গিয়ে বাইরে পাঠান বল। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের লজ্জাটা ঘানার অসমো গিয়ানের সঙ্গে ভাগাভাগি করছিলেন। এবার এক আসরে দুই পেনাল্টি নষ্ট করে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। বিশ্বকাপে চার পেনাল্টি নষ্টের রেকর্ড আর কারো নেই।
প্রথম ব্যর্থতা ২০১৮ বিশ্বকাপে
বিশ্বকাপে মেসি প্রথমবার পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ২০১৮ সালে। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করতে পারেননি। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিপক্ষেও ব্যর্থ হন। তবে ২০১৮ ও ২০২২ সালের ব্যর্থতার সঙ্গে এবারের ব্যর্থতা ভিন্ন। ওই দুই আসরে মেসিকে লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। কিন্তু এবার ভিন্ন। এবার পেনাল্টি মিস করলেও পরে ঠিকই গোলের দেখা পেয়েছেন। দলও জয় পেয়েছে। যা তার পেনাল্টি মিসের দুঃখকে কিছুটা হলেও ভুলিয়ে দিয়েছে। কিন্তু পেনাল্টি মিসের রেকর্ড ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে।


