নেশন্স লিগে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মুখোমুখি গ্রিস ও জার্মানি

উয়েফা নেশন্স লিগে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে গ্রিসের মুখোমুখি হচ্ছে জার্মানি। বাংলাদেশ সময় আজ রাত পৌনে একটায় জার্মানির অগসবুর্গের ডব্লিউডব্লিউকে অ্যারেনায় ম্যাচটি শুরু হবে। নতুন কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপের অধীনে প্রথম জয় পাওয়ার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে জার্মানি।

বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ক্লপের অভিষেক ম্যাচটি জয়ে শেষ হয়নি। আমস্টারডামে দুই দলের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষ হয় ১-১ গোলে ড্রয়ে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে কোডি গাকপে গোল করে নেদারল্যান্ডসকে সমতায় ফেরান। ফলে জয় হাতছাড়া হওয়ায় হতাশ হতে হয় ক্লপ ও তার দলকে।

অন্যদিকে গ্রিস নিজেদের প্রথম ম্যাচে সার্বিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে নেশন্স লিগের লিগ ‘এ’-এর গ্রুপ-২-এর শীর্ষে রয়েছে। বেলগ্রেডে ম্যাচের ৯৫তম মিনিটে আনাস্তাসিওস দুভিকাসের গোলে পাওয়া জয়টি গ্রিসকে দারুণ আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে।

তাই অগসবুর্গে জার্মানি-গ্রিসের ম্যাচটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে প্রথম জয়ের সন্ধানে ক্লপের জার্মানি, অন্যদিকে গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখার লক্ষ্যে গ্রিস।

অভিষেকে জয় না পেলেও ক্লপের দৃষ্টি প্রথম জয়ে

জার্মানির দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই ক্লপকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জার্মানি শুরুতে লিড নিলেও শেষ পর্যন্ত গাকপের গোলে সমতা ফেরে ডাচরা।

তবে ক্লপের দল গঠনের পরিকল্পনা এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। প্রথম আন্তর্জাতিক বিরতিতে তিনি মোট ৪৪ জন খেলোয়াড়কে দুটি আলাদা স্কোয়াডে বিবেচনা করেছেন, যাতে তার চাওয়া ফুটবল বাস্তবায়নে কারা সবচেয়ে কার্যকর হতে পারেন, সেটি মূল্যায়ন করা যায়।

ক্লপের ফুটবলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো উচ্চমাত্রার প্রেসিং, দ্রুত বল পুনরুদ্ধার এবং আক্রমণে গতি। জার্মানি বলের দখল রাখার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করে দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে জার্মানির চেয়ে ৩৪ ধাপ পিছিয়ে থাকা গ্রিসের বিপক্ষে বলের দখলে জার্মানিই এগিয়ে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গ্রিসকে একেবারে সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

গ্রিসকে হালকাভাবে নিচ্ছে না জার্মানি

সার্বিয়ার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের জয় গ্রিসের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়েছে। বিশেষ করে আক্রমণভাগে তাদের কয়েকজন খেলোয়াড় দারুণ ছন্দে রয়েছেন।

বেনফিকার হয়ে চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যেই ১৪ গোল করেছেন ভাঙ্গেলিস পাভলিদিস। ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নের হয়ে চারালামপোস কোস্তুলাসও সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে গোলের দেখা পেয়েছেন। সার্বিয়ার বিপক্ষে জয়সূচক গোল করা দুভিকাসও কোমোর হয়ে ছয় ম্যাচে তিনবার গোল করেছেন।

ফলে নিজেদের মাঠে জার্মানি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গ্রিস পাল্টা আক্রমণে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

১০ ম্যাচে গ্রিসের বিপক্ষে অপরাজিত জার্মানি

পরিসংখ্যানও জার্মানির পক্ষে রয়েছে। ১৯৬০ সালে প্রথম মুখোমুখি হওয়ার পর থেকে গ্রিসের বিপক্ষে ১০ ম্যাচ খেলেছে জার্মানি এবং কোনো ম্যাচেই হারেনি।

দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০২৪ সালের জুনে একটি প্রীতি ম্যাচে। সেই ম্যাচে জার্মানি ২-১ গোলে জয় পেয়েছিল।

তবে অতীতের রেকর্ড দিয়ে বর্তমান ম্যাচের ফল নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। গ্রিসের বর্তমান আক্রমণভাগের ছন্দ এবং জার্মানির নতুন কোচের অধীনে দলের পরিবর্তনের কারণে ম্যাচটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

বড় ধাক্কা জার্মান শিবিরে

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ও ম্যাচ চলাকালে জার্মানি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চোটের মুখে পড়েছে।

দলের অন্যতম সেরা আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় জামাল মুসিয়ালা নেদারল্যান্ডস ম্যাচের আগে ওয়ার্ম-আপে উরুতে চোট পান। ফলে তাকে মাঠে নামানো সম্ভব হয়নি।

এছাড়া নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে চোট পাওয়া কাই হাভার্টজও আর্সেনালে ফিরে গেছেন। হাঁটুর চোটের কারণে তিনি গ্রিসের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না।

মুসিয়ালার অনুপস্থিতিতে নাদিয়েম আমিরি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেছিলেন। তবে গ্রিসের বিপক্ষে ফ্লোরিয়ান ভির্টজ সরাসরি একাদশে ফিরতে পারেন।

হাভার্টজের জায়গায় স্ট্রাইকার হিসেবে ইয়ুনেস এবনুতালিব ও জোনাথন বুরকার্টের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে।

ভির্টজের ফেরায় বাড়বে জার্মানির আক্রমণ

ভির্টজের অন্তর্ভুক্তি জার্মানির আক্রমণভাগে নতুন গতি যোগ করতে পারে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জার্মানি যেসব জায়গায় আক্রমণে আরও ধারালো হতে চেয়েছিল, সেখানে ভির্টজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

এছাড়া জশুয়া কিমিখ, নিকো শ্লটারবেক, জোনাথন তাহ ও করিম আদেয়েমির মতো খেলোয়াড়দের ওপরও থাকবে বড় দায়িত্ব।

ক্লপ খুব বেশি পরিবর্তন না এনে নেদারল্যান্ডস ম্যাচের দলকেই ধরে রাখতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গ্রিসের আক্রমণে পাভলিদিস-কোস্তুলাস জুটি

গ্রিসের কোচ ইভান জোভানোভিচও শক্তিশালী একাদশ নিয়েই জার্মানির বিপক্ষে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আক্রমণভাগে পাভলিদিস ও কোস্তুলাসকে একসঙ্গে দেখা যেতে পারে। সার্বিয়ার বিপক্ষে জয়সূচক গোল করা দুভিকাসও দলের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র।

মাঝমাঠে ক্রিস্টোস তজোলিস ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের তরুণ খেলোয়াড় কনস্তানতিনোস কারেতসাসের ওপর থাকবে বাড়তি নজর। তজোলিস ইতোমধ্যে সার্বিয়ার বিপক্ষে গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।

রক্ষণে লিভারপুলের কোস্তাস তসিমিকাসের দায়িত্ব থাকবে জার্মানির আক্রমণ সামলানোর। গোলপোস্টে থাকবেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা হাল সিটির গোলরক্ষক কনস্তানতিনোস জোলাকিস।

তবে গ্রিসের জন্য দুঃসংবাদ হলো, ডর্টমুন্ডের আরেক তরুণ তারকা ইয়ানিস কনস্তানতেলিয়াস চোটের কারণে নেই। গত মাসে বুন্দেসলিগায় ডর্টমুন্ডের হয়ে অভিষেকের সময় এসিএল চোটে পড়েন তিনি।

সম্ভাব্য একাদশ

জার্মানি (৪-২-৩-১):
তের স্টেগেন; ট্রয়, তাহ, শ্লটারবেক, ব্রাউন; নেমখা, কিমিখ; আদেয়েমি, ভির্টজ, শাডে; এবনুতালিব।

গ্রিস (৪-৪-২):
জোলাকিস; ভাজিয়ানিদিস, মাভ্রোপানোস, রেতসোস, তসিমিকাস; কারেতসাস, কুরবেলিস, জাফেইরিস, তজোলিস; কোস্তুলাস, পাভলিদিস।

ম্যাচের সময় ও ভেন্যু

  • ম্যাচ: জার্মানি বনাম গ্রিস
  • প্রতিযোগিতা: উয়েফা নেশন্স লিগ
  • ভেন্যু: ডব্লিউডব্লিউকে অ্যারেনা, অগসবুর্গ, জার্মানি
  • তারিখ: রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর
  • কিক-অফ: বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী আজ রাত ১২টা ৪৫ মিনিট
  • রেফারি: ক্রিস কাভানাহ (ইংল্যান্ড)
  • VAR: অ্যান্ড্রু ডালাস (স্কটল্যান্ড)

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles