জিনেদিন জিদান এর ঘরের মাঠে ফেরার ম্যাচটি জয় দিয়ে রাঙানো হলো না। ফ্রান্সের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার নিজেদের দর্শকদের সামনে খেলতে নেমে ইতালির বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগে ১-১ গোলে ড্র করেছে ফরাসিরা। স্বাগতিকদের জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন ইতালির ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বুনোস্টনি। তাঁর গোলে সমতায় ফেরে ইতালি। ম্যাচের শেষ দিকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ফ্রান্সের দায়ো উপামেকানো।
প্যারিসের স্তাদ দ্য ফ্রান্সে জিদানকে বরণ করে নিতে দর্শকদের মধ্যে ছিল বাড়তি উন্মাদনা। ম্যাচ শুরুর আগে গ্যালারিতে ফুটে ওঠে ‘জিজু’ লেখা বিশাল মোজাইক। ফ্রান্সের সাবেক এই তারকা ফুটবলার ২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে বিতর্কিতভাবে বিদায় নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচে ফিরলেন কোচ হিসেবে।
সুযোগ ছিল জিদানের
ফ্রান্সের কোচ হিসেবে প্রথম তিন ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়ার সুযোগ ছিল জিদানের সামনে। ১৯৮৪ সালের পর প্রথম ফরাসি কোচ হিসেবে টানা তিন ম্যাচে গোল হজম না করার হাতছানিও ছিল। এর আগে বেলজিয়াম ও তুরস্ককে ১-০ গোলে হারিয়েছিল তাঁর দল। তবে ইতালির বিপক্ষে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি ফ্রান্স।
ম্যাচের প্রথমার্ধে বরং আক্রমণে বেশি ধার দেখায় ইতালি। শুরুতেই কাছ থেকে নেওয়া মোয়িজে কিনের শট কোনোমতে ঠেকান ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মাইয়া। পরে দাভিদে ফ্রাত্তেসির শট প্রতিহত হয়ে বাইরে যায়। সেই কর্নার থেকেই কিনের নেওয়া শটে বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়।

অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পে চোটের কারণে না থাকায় ফ্রান্সকে আক্রমণে ভরসা করতে হয় অন্য তারকাদের ওপর। বিরতির পরপরই দিজিয়ে দুয়ে ও উসমান দেম্বেলের জোড়া প্রচেষ্টা দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন ইতালির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা।
তবে ৫৫ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন মাইকেল ওলিস। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তাঁর বাঁ পায়ের শট ক্রসবারের নিচের অংশে লেগে জালে জড়ায়। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে টানা ৯ ম্যাচের মধ্যে এটি ছিল তাঁর সপ্তম গোলের ম্যাচ।
দমে যায়নি ইতালি
গোল হজমের পরও দমে যায়নি ইতালি। বেলজিয়ামের কাছে প্রথম ম্যাচে হারের পর তুরস্ককে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়া দলটি আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য দেখায়। মাঝমাঠে লুকাস দা কুনহার একটি ভুল পাসের সুযোগ কাজে লাগান বুনোস্টনি। নিজেদের অর্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান তিনি। এরপর ফ্রান্সের রক্ষণভাগে ঢুকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে মাইয়াকে পরাস্ত করে সমতা ফেরান ইন্টার মিলানের এই ডিফেন্ডার।
শেষ দিকে ম্যাচে উত্তেজনা আরও বাড়ে। কিনের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এরপর আদ্রিয়েন রাবিওর শট পোস্টের পাশ দিয়ে বের করে দেন দোন্নারুম্মা। দূর থেকে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার জোরালো শটও ঝাঁপিয়ে ঠেকান ইতালির গোলরক্ষক।
ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিটে কিনকে পেছন থেকে টেনে ধরায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন উপামেকানো। একজন কম নিয়েও শেষ পর্যন্ত সমতা ধরে রাখে ফ্রান্স। অন্যদিকে জিদানের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইতালি।




