বিশ্বরেকর্ডের পথে লিটন! সবশেষ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাজে ব্যাটিং নিয়ে সমালোচনায় পড়েছিলেন লিটন দাস। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে যেন একসাথে সব সমালোচনার জবাব দিতে নেমেছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। টেস্টে দেশের হয়ে এক রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন এই টেস্টে, এমনকি আছেন বিশ্বরেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে।
রেকর্ডটি এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ডিসমিসালের (উইকেটের পেছনে ক্যাচ বা স্টাম্পিং)। এতদিন বাংলাদেশের হয়ে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ডিসমিসালের রেকর্ড ছিল খালেদ মাসুদ পাইলটের। সাবেক এই অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক ব্যাটার ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টে ৭টি ডিসমিসাল করেছিলেন।
লিটন চলমান আবুধাবি টেস্টে এরই মাঝে সংখ্যাটিকে নিয়ে গেছেন ৮-এ। আফগানিস্তানের এখনও ৭ উইকেট হাতে রয়েছে। আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসে পাঁচটি উইকেট আদায়ে ভূমিকা ছিল লিটনের। আব্দুল মালিক, কাইস আহমেদ, ইয়ামিন আহমেদজাই ও মোহাম্মদ সালিমের ক্যাচ ধরেন তার গ্লাভসে। আর স্টাম্পিং করেন হাশমতউল্লাহ শহিদিকে।
দ্বিতীয় ইনিংসে এখন পর্যন্ত ৩ উইকেট পতন হয়েছে আফগানিস্তানের। তিনটি উইকেটেই ভূমিকা আছে লিটনের। আব্দুল মালিক, শহীদউল্লাহ ও প্রতিপক্ষ অধিনায়ক রহমত শাহ- তিনজনেরই ক্যাচ ধরেছেন তিনি উইকেটের পেছনে থেকে। এই ম্যাচে তাই তার মোট ডিসমিসাল এরই মধ্যে ৮টি। ভেঙে ফেলেছেন পূর্বসূরি পাইলটের রেকর্ড। আবুধাবি টেস্টের ৫ম দিন আর ৩টি ডিসমিসাল হলেই বিশ্ব ক্রিকেটে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ডিসমিসালের রেকর্ড গড়বেন এই তারকা। অর্থাৎ, গড়বেন বিশ্বরেকর্ড।
একটি বিশ্বরেকর্ড অবশ্য গড়ে ফেলেছেন লিটন। এক ম্যাচে জোড়া ফিফটির সাথে অন্তত ৮টি ডিসমিসালের বিশ্বরেকর্ড এতদিন ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ডিটি লিন্ডসে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ইনিংসে ৬৯ ও ১৮২ রান করার পাশাপাশি ৮টি ডিসমিসাল করেছিলেন এই প্রোটিয়া। আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুই ইনিংসে ৫৩ ও ১০২ রান করা লিটন ৮ ডিসমিসালে জায়গা নিয়েছেন লিন্ডসের পাশে।
অবশ্য লিটন শেষ পর্যন্ত ডিসমিসালের বিশ্বরেকর্ড গড়তে পারবেন কিনা তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত এক টেস্টে সবচেয়ে বেশি ১১ ডিসমিসালের রেকর্ডের তিন অধিকারী ইংল্যান্ডের জ্যাক রাসেল, এবি ডি ভিলিয়ার্স ও রিশভ পান্ট নতুন রেকর্ডধারীকে স্বাগত জানানোর কিংবা রেকর্ড হারানোর অপেক্ষায়ই থাকছেন।





