দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের তোপে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধসে পড়েছে। গেবেখায় দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনে মাত্র ৯৯ রানে অলআউট হয়েছে স্বাগতিকেরা। এতে প্রথম ইনিংসে ৩২৬ রানের লিড পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়াকে ফলোঅন করিয়েছে। তিন ম্যাচের সিরিজে সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে সফরকারীদের সামনে।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন মার্কো ইয়ানসেন। তিনি তুলে নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। কাগিসো রাবাদা ও উইয়ান মুল্ডারও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। চোটের কারণে আনরিখ নরকিয়া মাঠ ছাড়লেও বোলারদের দাপট কমেনি। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে স্টিভ স্মিথ ছাড়া আর কোনো ব্যাটার ১৪ রানও পেরোতে পারেননি।
দিনের শুরুতেই ইয়ানসেনের বলে স্কট বোল্যান্ডের বিদায়ে ধসের সূচনা। এরপর ট্রাভিস হেডকে এলবিডব্লিউ করেন ইয়ানসেন। মার্নাস লাবুশেনের ক্যাচ দুর্দান্তভাবে নেন সাইমন হারমার। পরে রায়ান রিকেলটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রেনশ ও অ্যালেক্স ক্যারি। বিরতির আগেই ৬৯ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া।
দ্বিতীয় সেশনে মুল্ডারের বলে আউট হন বিউ ওয়েবস্টার। ইয়ানসেনের বাউন্সারে তাঁর ক্যাচ নেন এইডেন মার্করাম। স্মিথ ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ঘাড়ে চোটের কারণে অস্বস্তিতে থাকা এই ব্যাটার শেষ পর্যন্ত বোল্ড হন মুল্ডারের বলে। মিচেল স্টার্ককে ফিরিয়ে ঘরের মাঠে টেস্টে ২০০ উইকেটের মাইলফলক পূর্ণ করেন রাবাদা। এরপর প্যাট কামিন্সকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস গুটিয়ে দেন মুল্ডার।

ফলোঅন করতে নেমেও স্বস্তি পায়নি অস্ট্রেলিয়া। নিক ম্যাডিনসনকে ফেরান রাবাদা। পরে সাইমন হারমার গুরুত্বপূর্ণ দুই উইকেট তুলে নেন। লাবুশেন ৩৯ রান করে ফিরলেও ট্রাভিস হেড অর্ধশতক পূর্ণ করেন। দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেট পড়ে গেছে, ফলে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে তারা।
প্রথম ইনিংসে স্মিথ ১১ হাজার টেস্ট রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। রিকি পন্টিং ও অ্যালান বর্ডারের পর তৃতীয় অস্ট্রেলীয় হিসেবে এই কীর্তি গড়েন তিনি। তবে ঘাড়ের চোটের কারণে দ্বিতীয় ইনিংসে চার নম্বরে ব্যাট করতে নামেননি স্মিথ।
দিনের খেলায় মোট ১৩টি উইকেটের পতন হয়। নরকিয়ার কুঁচকির চোট দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য উদ্বেগ বাড়িয়েছে, কারণ তিনি প্রথম ইনিংসে মাত্র চার ওভার বল করার পর মাঠ ছাড়েন। অস্ট্রেলিয়ার নিয়মিত অধিনায়ক স্মিথের ঘাড়ের সমস্যাও দলের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। এর আগে অসুস্থতার কারণে জশ হ্যাজলউড দ্বিতীয় দিনের খেলায় মাঠে নামতে পারেননি। সব মিলিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে।
স্ট্যাম্প থেকে উড়ছে স্টিভ স্মিথের বেল


