সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপ- ২০২৬
ঘরের মাঠে সাফ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে বড় সতর্ক বার্তা পেয়েছে বাংলাদেশ। সাফের তলানীর অতিথি দল ভুটান যেভাবে ঘাম ঝরিয়েছে বাংলাদেশের তাতে উপস্থিত দর্শকরা স্বস্তি নিয়ে ঘরে ফিরলেও যারা চোখ করেছেন শিরোপার দিকে তারা কিছুটা হতাশই হয়েছেন তা বলা যায়, তারপরও জয়তো জয়ই ৬৯ মিনিটে ইব্রাহিম স্বস্তি দিলেন বাংলাদেশকে, গোল খরা কাটিয়ে।
সাফ ফুটবলে ভুটান বাংলাদেশকে কখনেই হারাতে পারেনি, বাংলাদেশ ১৭ ম্যাচ খেলেছে ভুটানের সাথে তাতে বাংলাদেশর জয় ১৩টি, ২টি হার আর ২টি ড্র, এই ছিল দু-দলের পরিসংখ্যান এর মধ্যে আবার সাফের ম্যাচও আছে। গতকাল বাংলাদেশের একাদশ নিয়ে খটকা লাগলো প্লেয়ার লিস্টে তপু বর্মন অধিনায়ক অথচ তপু মাঠেই নেই জামাল ভুঁইয়া শুরু থেকেই মাঠে, অপরদিকে আবার বিশ্বনাথ ঘোষ ডিফেন্ডার থেকে হয়ে গেলেন ১২ নম্বর জার্সি নিয়ে জেনুইন নাম্বার ৯ পজিশনের খেলায়াড়। তিনি অনেক ছোটাছুটি করলেন কিন্তু গোলে সুযোগ তৈরি করতে পারলেন না।

গতকাল আসলে বাংলাদেশ পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে যে খেলেছে তা বলা যাবেনা, কারণ নেই হামজা, নেই তপু, নেই ফারহান আলী ও শুকি ইতোফোসা সহ অনেই। শুকিকে দেখলাম অনেকটা সময় ধরে বাংলাদেশ বেতারের কমেন্ট্রি বক্সের সামনে ওয়ার্ম আপ করতে, মনে হচ্ছিল তাকে হয়তো কোচ ডুলি নামাবেন কিন্তু না বদলির তালিকায় ২৭ নম্বর জার্সি পরে নামলেন ইব্রাহিম আর তাতেই অনেক ঘাম আর হতাশা দুর করে ৬৯ মিনিটে সেই একমাত্র গোলটি করলেন ইব্রাহিম আর সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যের সব দুশ্চিন্তা দুর হয়ে গেল এ যেন চৈত্রের দীর্ঘ দিনের খরার পর এক পশলা বৃষ্টি।
কিন্তু কেন বাংলাদেশর এই জয় পেতে এত কষ্ট হল? বাংলাদেশে কি আরো স্মার্ট ফুটবল খেলতে পারতো না? পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে পারতো না? এমন হাজারো প্রশ্ন যেন এখন ফুটবল প্রেমীদের মনে তবে শ্রীলংকার বিপক্ষে কি করবে বাংলাদেশ? লক্ষ্য যখন শিরোপা তখন সামনে মালদ্বীপ বাধা ও ভারত বাধাও তো আসতে পারে তখন কি হবে? আমার মনে হয় কোচ টমাস ডুলি এখান মাইন্ড গেম খেলেছেন, আর তা হল- এক. ভুটান যেমন শক্তি তার বিপক্ষে কোচ ঠিক তেমন শক্তিই ক্ষয় করেছেন, অযথা বাড়তি শক্তি ক্ষয় করে লাভ কি? দুই. ডুলি তার সাইড বেঞ্চটাও পরিক্ষা করলেন। তিন. অন্য দেশ যেমন সামনে তো শ্রীলংকা তাদেরকে দলের শক্তির গভীরতা জানতে না দেওয়া বা আমাদের সেরা খেলোয়াড়দের বর্তমান পারফরম্যান্স যতটা আড়াল করা যায়। ৪. নাম্বার হতে পারে এই কষ্টার্জিত জয়ের মাধ্যমে কোচ তার শিষ্যদের একটা বার্তা দিলেন ঘরের মাঠ হয়েছে বলেই যে জয় সহজ হবে তা নয় বড় মঞ্চে সবাই সেরাটা দিয়ে থাকেন এখানে কোন রকম পিছু হঠা বা ছোট দলকেও ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। তোমরা সাফ জিততে চাইলে তোমাদেরও সেরাটাই দিতে হবে।
ফিনিশিং টাচ: আক্রমন ভাগে বাংলাদেশের দুর্বলতা সবসময়ের বিশেষ করে গোল করার সক্ষমতা, ভুটান ম্যাচে সেটা আরো প্রবল ভাবে দেখা দিয়েছে, বাংলাদেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোল পাচ্ছিলনা মনে হচ্ছিল এই বুঝি গোল হল কিন্তু না এই করতে করতেই প্রথম ৪৫ মিনিট শেষ, ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে তখন রাজ্যের হতাশা।

২০০৩ সাফ জয়ী দলের অন্যতম সদস্য রোকনুজ্জামান কাঞ্চন বিরতিতে এলেন বাংলাদেশ বেতারের ধারাভাষ্য কক্ষে, কাঞ্চন বলছিলেন যে ২য় অর্ধের ১০ মিনিটে যদি গোল পায় তাহলে বাংলাদেশে আরো গোল পাবে অর্থাৎ প্রথম গোলটা শুরুতেই যদি পেয়ে যেত তাহলে ২ বা ৩ নম্বর গোলও পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হত। কিন্তু বাংলাদেশে যখন গোল পেল তখন ২য় অর্ধের প্রায় ২৫ মিনিট শেষ তার মানে এখানেও মাইন্ড সেটআপের ব্যাপারটা আছে, ২য় অর্ধের ২৫ মিনিট মানে অনেক সময় তক্ষনে খেলায়াড়রা নিজেরদের সেরাটাও দিয়ে ফেলেছে তারপরই এসেছে ফ্রেশ লেগ ইব্রাহিমের পা থেকে গোল আর বাংলাদেশে হাফ ছেড়ে বেঁচেছে তখন আর হয়তো আরো গোলের ক্ষুধা যে থাকবে তা শারিরিক শক্তি আর মাইন্ড সেটআপে আসেনি। তখন মনে হয়েছে যে এই গোলই ধরে রেখে যতটুকু চেষ্টা করা যায় করি।
তারপরও জয় দিয়ে সাফ শুরু করাটা জরুরি ছিল তা আমরা করতে পেরেছি এটাই বড় কথা সামনে ১১ নভেম্বর বাংলাদেশের সামনে শ্রীলংকা আছে যারা কিনা এক গাদা প্রবাশী ফুটবলার নিয়ে মাঠে নামবে অবশ্য সেই ম্যাচে বাংলাদেশও সবাইকে পেয়ে যাবে যেমন হামজা চৌধুরী, ফারহান, তপু বর্মন সহ অনেককেই, আবার সামান্য ইনজুরিতে যারা ছিল কোচ ঝুঁকি নিয়ে যাদের খেলাতে চাননি তারা সবাই। তবে রোনান সুলিভানকে তো আর পাওয়া যাবেনা, সেটা ভুলেই থাকতে হবে। আশা করি পূর্ণ শক্তির বাংলাদেশে শ্রীলংকার বিপক্ষে আরও ভাল ফুটবল খেলে জয় নিয়ে সেমিতে উঠবে। বাংলাদেশের জন্য শুভকামনা রইল।


