দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়াকে ধরে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে বার্সেলোনা। তাঁর সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করেছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। চলতি মৌসুমে গোলের পর গোল করে বার্সেলোনার আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা হয়ে ওঠা এই ফরোয়ার্ডকে পুরস্কৃত করতেই চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছে কাতালান ক্লাব।
আগের চুক্তি অনুযায়ী ২০২৮ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনায় থাকার কথা ছিল তাঁর। নতুন চুক্তিতে আরও দুই বছর বাড়ল সেই মেয়াদ।
২৯ বছর বয়সী রাফিনিয়া চলতি বছর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৩ ম্যাচে করেছেন ১৯ গোল। সর্বশেষ মঙ্গলবার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে বার্সেলোনার ৩-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেন তিনি। তাঁর এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ক্লাব কর্তৃপক্ষ দ্রুতই নতুন চুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বার্সেলোনায় রাফিনিয়ার এই উত্থান বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২২ সালে ইংলিশ ক্লাব লিডস ইউনাইটেড থেকে কাতালান শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। শুরুতে ডান প্রান্তের উইঙ্গার হিসেবে খেললেও কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে বাঁ প্রান্তে খেলেই নিজের সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। ২০২৪-২৫ মৌসুমে ৫৭ ম্যাচে ৩৪ গোল এবং পরের মৌসুমে ৩৩ ম্যাচে ২১ গোল করেন এই ব্রাজিলিয়ান।
তবে এবার তাঁকে নতুন ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে। মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলার সুযোগ পেয়ে নিজেকে আরও কার্যকর প্রমাণ করেছেন রাফিনিয়া। মৌসুম শুরুর আগে বার্সেলোনার আক্রমণভাগে রবার্ট লেভানডফস্কি ও ফেরান তোরেসের বিদায়ে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। বিকল্প হিসেবে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের জুলিয়ান আলভারেজকে দলে আনার চেষ্টা করেও সফল হয়নি বার্সেলোনা। শেষ পর্যন্ত রাফিনিয়াকেই কেন্দ্রীয় ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন ফ্লিক।

লা লিগায় এলচের বিপক্ষে মৌসুমের প্রথম ম্যাচের আগে রাফিনিয়ার সঙ্গে কথা বলেন কোচ। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি কি কেন্দ্রীয় স্ট্রাইকার হিসেবেই খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন, নাকি আবার বাঁ প্রান্তে ফিরতে চান? রাফিনিয়া মাঝখানে খেলতেই আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর থেকে তাঁর পারফরম্যান্সে এসেছে অভাবনীয় পরিবর্তন।
বার্সেলোনার প্রথম আট ম্যাচের সাতটিতেই গোল করেন তিনি। লেভান্তের বিপক্ষে গোল না পেলেও সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছিলেন দুটি গোল। আন্তর্জাতিক বিরতির আগে রেসিং সান্তান্দার ও সেভিয়ার বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিকও করেন। তবে ব্রাজিলের হয়ে খেলতে গিয়ে চোট পাওয়ায় বার্সেলোনার পরবর্তী দুটি ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি।
চোট কাটিয়ে ফিরলেও প্যারিস সেন্ট জার্মেই ও রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে পরাজয়ের ম্যাচে খেলতে হয়েছিল তাঁকে। রিয়ালের বিপক্ষে এল ক্লাসিকোয় গোলও করেন রাফিনিয়া। এরপর আলাভেস ও অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে জোড়া গোল করে আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।


