ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা যেন পিছু ছাড়ছে না বাংলাদেশের। মিরপুর টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতায় হারের পর সিলেট টেস্টেও নিজেদের প্রথম ইনিংসে ভালো শুরু করতে পারেনি স্বাগতিকেরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ৩৫৬ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৮৮ রান। এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে আছে দল।
আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয় দ্বিতীয় দিনের খেলা। দিন শেষে তাওহীদ হৃদয় ২৯ এবং মুশফিকুর রহিম ১৬ রানে অপরাজিত আছেন। চতুর্থ উইকেটে দুজনের জুটি থেকে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রান। তবে এখনো অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশকে।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ১৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিকেরা। জেইডেন সিলসের করা ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ৫ রান করে স্লিপে ব্রেন্ডন কিংয়ের হাতে ক্যাচ দেন নাঈম হাসান।
মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতকের দেখা পেয়েছিলেন নাঈম। সাদমান ইসলামের অ্যাঙ্কলের চোটের কারণে সিলেট টেস্টে ওপেনিংয়ে সুযোগ পান তিনি। তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে ইনিংস শুরু করলেও নতুন ভূমিকায় বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি এই ব্যাটার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও এর আগে কখনো ওপেন করেননি নাঈম।
প্রথম উইকেটের পতনের পর তিনে ব্যাটিংয়ে নামেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আগের টেস্টে কনকাশন বদলি হিসেবে মাঠে নামা মুমিনুল হক নিয়ম অনুযায়ী এই ম্যাচে খেলতে পারছেন না। তাঁর জায়গাতেই ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে উঠেছেন শান্ত।
তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তানজিদ হাসানও। জাস্টিন গ্রিভসের বলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে শট খেলতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দেন তিনি। অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যামের দুর্দান্ত ক্যাচে ১৬ রানে সাজঘরে ফেরেন তানজিদ। ২২ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর আরও একটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকেরা। ৫১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন হৃদয় ও মুশফিক। দিনের বাকি সময় আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি তাঁরা।
এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রান সংগ্রহ করে। ক্যারিবীয়দের হয়ে সর্বোচ্চ ১৩৩ রান করেন আমির জাঙ্গু। এ ছাড়া কেভিন উইকহ্যাম ৬১ এবং জাস্টিন গ্রিভস করেন ৫১ রান।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন হাসান মাহমুদ। ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি মোট ৬ উইকেট শিকার করেন তিনি। তবে তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ের পরও ব্যাটিংয়ে সেই ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিন শেষে তাই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে স্বাগতিকদের সামনে।




