অভিযুক্ত ব্রিটিশ কোচ ক্লেয়ার হেগ। শিশু জিমন্যাস্টদের সঙ্গে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মানসিক চাপ সৃষ্টি ও নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা পাওয়া একজন আন্তর্জাতিক যুব জিমন্যাস্টিকস প্রতিযোগিতায় দায়িত্ব পালন করছেন। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের ভাষায়, এই সিদ্ধান্ত তাঁদের জন্য ‘মুখে চপেটাঘাতের মতো’।
বিবিসি স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রনফিল্ড জিমন্যাস্টিকস একাডেমির প্রধান কোচ ক্লেয়ার হেগ গ্রিসে অনুষ্ঠিতব্য ‘হরাইজন কাপ’ প্রতিযোগিতায় ইংলিশ জিমন্যাস্টিকসের হয়ে কোচিং করাতে গেছেন।
ব্রিটিশ জিমন্যাস্টিকসের তদন্তে হেগ ও তাঁর ক্লাবের বিরুদ্ধে ওঠা বেশ কয়েকটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল ভয়ভিত্তিক কোচিং, শিশুদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ, কঠোর উপস্থিতি নীতি এবং শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব।
তদন্ত শেষে হেগ ও ড্রনফিল্ড জিমন্যাস্টিকস একাডেমিকে দুই বছরের জন্য আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্লাবটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং উন্নয়নের জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কোন কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তা অভিযোগকারীদের জানানো হয়নি।
অভিযোগকারীদের একজন বিবিসিকে জানান, তাঁর মেয়ে পরবর্তী শিশুদের সুরক্ষার কথা ভেবে সাহস করে অভিযোগ জানিয়েছিল। কিন্তু অভিযুক্ত কোচের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দায়িত্ব পালন তাঁদের কাছে হতাশাজনক।
ওই অভিভাবকের অভিযোগ, একাডেমিতে অনুশীলনের সময় কিছু জিমন্যাস্ট টয়লেটে যাওয়ার অনুমতি চাইতেও ভয় পেত। এর ফলে কেউ কেউ নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কাপড় ভিজিয়ে ফেলত, আবার কেউ কেউ পানি পান করাও এড়িয়ে চলত।
২০২২ সালেও হেগের বিরুদ্ধে আরেকটি তদন্ত হয়েছিল। সে সময় এক অভিভাবক তাঁর মেয়ের ওপর বছরের পর বছর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন। ওই তদন্তের পর কোচদের অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা জানানো হয়েছিল।
এ বিষয়ে ব্রিটিশ জিমন্যাস্টিকস জানিয়েছে, কোনো সদস্যকে খেলাধুলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে তাঁকে অবশ্যই সরিয়ে দেওয়া হবে। সংস্থাটির দাবি, ড্রনফিল্ডের সদস্যদের কাছ থেকে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাও তারা শুনেছে এবং ক্লাবটি উন্নয়নের জন্য তাদের সঙ্গে কাজ করছে।
তবে জিমন্যাস্টদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘জিমন্যাস্টস ফর চেঞ্জ’-এর প্রধান নির্বাহী ক্লেয়ার হেফোর্ড বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, একাধিক বছর ধরে অভিযোগ ওঠার পরও কোচদের শুধু প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সংশোধনের চেষ্টা করা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কোনো অভিভাবকের পক্ষে সহজে জানার উপায় নেই যে তাঁর সন্তানের কোচের বিরুদ্ধে অতীতে অভিযোগ উঠেছিল কি না কিংবা তিনি কোনো শাস্তি পেয়েছেন কি না।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে প্রকাশিত ‘হোয়াইট রিভিউ’-তে ব্রিটিশ জিমন্যাস্টিকসে দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের চিত্র উঠে আসে। এরপর শিশুদের সুরক্ষা ও খেলোয়াড়দের কল্যাণে ব্যয় বাড়ানোসহ ১৭টি সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় ব্রিটিশ জিমন্যাস্টিকস।
১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী জুনিয়র ও প্রি-জুনিয়র জিমন্যাস্টদের নিয়ে আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা হরাইজন কাপে হেগের অংশগ্রহণ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ জিমন্যাস্টিকসের সংস্কার কার্যক্রম কতটা কার্যকর হচ্ছে?


