হাসানের ৬ উইকেটের দিনে ৩৫৬ রানে অলআউট উইন্ডিজ

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছেন হাসান মাহমুদ। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে প্রতিনিয়ত নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন এই ডানহাতি পেসার। এবার সিলেট টেস্টে দুর্দান্ত বোলিংয়ে গড়লেন নতুন রেকর্ড। তার ৬ উইকেটের তোপে শুক্রবার প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রানে থেমেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

আগের দিন কেভিন উইকহ্যামের ফিফটির পর দ্বিতীয় দিনে সেঞ্চুরি তুলে নেন আমির জাঙ্গু। সঙ্গে জাস্টিন গ্রিভসের অর্ধশতকে বড় সংগ্রহের পথে এগোচ্ছিল ক্যারিবীয়রা। ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ পর্যন্ত ৩৬.৪ ওভারে বাকি ৬ উইকেট হারিয়ে যোগ করতে পেরেছে আরও ১২১ রান।

এই ধসের মূল কারিগর হাসান মাহমুদ। ৯০ রান খরচায় ৬ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার পঞ্চমবারের মতো ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি।

বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড এখন হাসানের দখলে। এর আগে ৩৮ টেস্টে চারবার পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন শাহাদাত হোসেন। মাত্র ১৯ টেস্টেই পাঁচবার এই কীর্তি গড়লেন হাসান। শুধু তাই নয়, ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো এক ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের কোনো পেসারের এর আগে এমন কীর্তি ছিল না।

হাসানের পাঁচ উইকেট নেওয়ার প্রতিটি কীর্তিই এসেছে ভিন্ন দেশে। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি ও ভারতের চেন্নাইয়ে প্রথম দুটি পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর এবার বাংলাদেশের সিলেটে পেলেন নিজের পঞ্চম পাঁচ উইকেট।

এর মধ্য দিয়ে টেস্ট ইতিহাসে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচটি পাঁচ উইকেটের কীর্তি ভিন্ন পাঁচ দেশে গড়া প্রথম পেসার হলেন হাসান। এর আগে শুধু নাথান লায়ন এই রেকর্ড গড়েছিলেন।

দিনের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উইকেট পেতে দ্বিতীয় নতুন বলের অপেক্ষায় থাকতে হয় বাংলাদেশকে। নতুন বল হাতে নিয়েই আক্রমণে আসেন হাসান। ওভারের চতুর্থ বলেই বোল্ড করেন সেঞ্চুরিয়ান আমির জাঙ্গুকে। ২১২ বলে ১৩৩ রানের ইনিংসে ১৩টি চার ও দুটি ছক্কা মেরেছিলেন তিনি।

পরের বলেই উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অধিনায়ক রস্টন চেইস। পরপর দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন হাসান।

হ্যাটট্রিক বল মোকাবিলা করতে আসেন জশুয়া বিশপ। হাসানের ভেতরে ঢোকানো ডেলিভারি তার প্যাডে আঘাত করলে জোরালো আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার আসিফ ইয়াকুব। আনন্দে মেতে ওঠেন হাসান। তবে সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন বিশপ। রিপ্লেতে দেখা যায়, প্যাডে লাগার আগে বল ব্যাটের ভেতরের কানায় স্পর্শ করেছে। ফলে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হন আম্পায়ার। অল্পের জন্য হ্যাটট্রিক পাওয়া হয়নি হাসানের।

এরপর লিটন দাসের দক্ষতায় উইকেট হারান বিশপ। হাসানের বলে অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে ড্রাইভ করতে গিয়ে ক্রিজের বাইরে চলে যান তিনি। মুহূর্তের মধ্যে বেলস ফেলে দিয়ে তাকে স্টাম্পড করেন লিটন। তাতে পূর্ণ হয় হাসানের পাঁচ উইকেট।

লাঞ্চের আগে আর কোনো উইকেট পায়নি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশনে ফিরে শামার জোসেফকে বোল্ড করে নিজের ষষ্ঠ শিকার পূর্ণ করেন হাসান। এরপর শেষ উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন জেডেন সিলস ও জোমেল ওয়ারিক্যান। দুজনের জুটিতে যোগ হয় ৩৩ রান।

শেষ পর্যন্ত মেহেদী হাসান মিরাজের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন ১৫ রান করা সিলস। ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন ওয়ারিক্যান। তাতেই ৩৫৬ রানে শেষ হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস।

বাংলাদেশের হয়ে হাসানের ৬ উইকেটের বাইরে তাসকিন আহমেদ নিয়েছেন ৯০ রানে ২ উইকেট। মিরাজের শিকার ৮২ রানে ২ উইকেট। নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম কোনো উইকেট পাননি।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles