ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ভালো খেলে সাফের জ্বালানি চায় বাংলাদেশ

ফিফা আসিয়ান কাপ-২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে আজ বাংলাদেশের শেষ লড়াইয়ে জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে হামজা চৌধুরীরা, আগের দুই ম্যাচ থেকে কোন পয়েন্ট নাই গোলও নাই বাংলাদেশের নামের পাশে। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ যেখানে শেষ করেছে বাংলোদেশ আজ যদি সেখান থেকে শুরু করতে পারে তাহলে ভালো কিছু হতে পারে বাংলাদেশের জন্য কারণ গত ম্যাচে বাংলাদেশ শেষের ৩০ মিনিট যে ফুটবল খেলেছে তা ছিল অতুলনীয় শুধু গোল টাই পায়নি বাংলাদেশ। আজ বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ভালো খেলে সাফ জয়ের জ্বালানি নিয়ে দেশে ফিরতে চায়।

আগের দুই ম্যাচে যা হয়েছে তা নিয়ে ভেবে লাভ নেই এখন শেষ ম্যাচে কোচ টমাস ডুলি হিসেব কষছেন আসিয়ান কাপ থেকে শিখে সাফ জয়ের জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগাতে। তাই জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে যতই জ্যাম প্যাক্ট গ্যালারী থাকুক না কেন নির্ভয়ে স্বাভাবিক খেলার সেরাটা দিয়ে আত্নবিশ্বাসী হয়ে গোল আর জয়ের সঞ্জীবনী শক্তি নিয়ে দেশে ফিরতে।

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ভালো খেলে সাফের জ্বালানি চায় বাংলাদেশ
কোচ টমাস ডুলি

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র জয় ১৯৮৫ সালে

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ ৭টি ম্যাচ খেলেছে যার মধ্যে বাংলাদেশ ১টি ম্যাচ জিতেছে, ইন্দোনেশিয়া ৪টি আর ড্র হয়েছে ২টি ম্যাচ। দু-দলের প্রথম দেখা হয় ২৯ জুলাই ১৯৭৫ সালে মারদেকা টুর্নামেন্টে আর প্রথম দেখায় বাংলাদেশ ৪-০ গোলে হেরে যায়। এরপর ২য় সাক্ষাত হয় ১৯৮৪ সালের ১০ আগস্ট আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলের পরাজয়ে, ৩য় দেখাতেও জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ, ১৯৮৫ সালের ১৮ মার্চ ফিফা বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে এবারের হার ২-০ গোলের, তবে একই বছরের ২ এপ্রিল বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে ২-১ গোলের জয়ে মেতে উঠেছিল বাংলাদেশ যা এখন পর্যন্ত একমাত্র জয়।

আবার জয়ের বছরেই ২৮ এপ্রিল কায়েদে আযম আন্তর্জাতিক কাপে বাংলাদেশ ১-১ গোলে প্রথম ড্র করে, এরপর লম্বা বিরতি গেছে দুই দলের খেলার মধ্যে, ২০০৮ সালের ১৩ নভেম্বর উভয় দেশের প্রীতি ম্যাচে ২-০ গোরে হেরে যায় বাংলাদেশ। আর সর্বশেষ দেখা হয় দুই দেশের মধ্যে ১ জুন ২০২২ সালে যে প্রীতি ম্যাচে জামাল ভুইয়া ছিলেন তিনি বলেন শেষ দেখায় আমরা ড্র করেছি তাই ভয় পাওয়ার কিছু নাই। তবে আজকের ম্যাচটা জামালের ইন্দোনেশিয়ার সাথে হয়তো শেষ ম্যাচ ও হতে পারে!

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে ১১৮তম স্থানে রয়েছে আর বাংলাদেশ ১৮১। ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্কিং ছিল ৭৬তম ১৯৯৮ সালে আবার সর্বনিম্ন র‌্যাঙ্কিং ছিল ১৯১তম ২০১৬ সালে তার মানে ২০১৬ সাল থেকে ২০২৬ এ এসে তারা অবস্থান করছে ১১৮তম স্থানে ভাবা যায় কত উন্নতি তাদের! আর আমাদের?

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ভালো খেলে সাফের জ্বালানি চায় বাংলাদেশ
হামজা চৌধূরী

ইন্দিানেশিয়ার বর্তমান দলে বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়ের ছড়াছড়ি বর্তমান স্কোয়াডেই আছে ১৭ জন। যাদের খেলার মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় ধাঁচের ছাপ। তবে ঘরের মাঠে তারা মালয়েশিয়ার সাথে ০-০ ড্র করেছে হয়তো স্বাগতিকদের প্রত্যাশার চাপে, আর সিঙ্গাপুরের সাথে ২-০ গোলে জিতলেও আজকের ম্যাচে দেখা যাবেনা মধ্যমাঠে সেরাদের একজন র‌্যাগনার কে লাল কার্ডের জটিলতায়। আবার গত আগস্টে ভিয়েত নামের বিপক্ষে প্রেসিং ফুটবল খেলতে গিয়েই ৩-০ গোলে হেরেছিল। তাদের অতিরিক্ত প্রেসিং ফুটবলের বড় দুর্বলতা হল রক্ষন ফাঁকা হয়ে যাওয়া। বাংলাদেশের জন্য যেটা হতে পারে গোলের সুযোগ।

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্য বাংলাদেশের

টুর্নামেন্টের আগের দুই ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় বাংলাদেশের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য-শেষ ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া। প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়া ঘরের মাঠে খেলবে, ফলে গ্যালারির সমর্থনও থাকবে তাদের পক্ষে। তবে চাপমুক্ত বাংলাদেশকে এই ম্যাচে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললে অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা। অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার জন্য ম্যাচটির গুরুত্ব অনেক বেশি। পরবর্তী ধাপে যাওয়ার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পেতে মরিয়া থাকবে স্বাগতিকরা যার কারনে কিছুটা চাপ ও থাকবে তাদের ওপর। তাই এই ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল হবে বলে অনুমান করা যায়।

হামজা গত ম্যাচে জানপ্রাণ দিয়ে খেলেছেন সমস্ত মাঠ জুড়ে পেনান্টি এরিয়া থেকে ন্যারো অ্যাঙ্গেল থেকে একটা সুযোগও পেয়েছিলেন কিন্তু সম্ভব হয়নি আবার বাঁ প্রান্ত থেকে ক্রসে রাকিবের হেড ও ডান প্রান্ত থেকে সাদের ক্রসে যদি সোমিতের হেড টা পারফেক্ট হতো কত কিছুই না হওয়ার ছিল কিন্তু দিন শেষে বাংলাদেশ ১-০ গোলের পরাজয় এটাই ফলাফল। দুটি ম্যাচে থেকে একটা গোল ও নেই আজ কি সেই গোল খরা ঘুঁচবে? হামজা তো ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন র‌্যাঙ্কিং নিয়ে ভাবছিনা হাজার মাইল দুর থেকে এসেছি জয়ের জন্য সেই জন্যই মনে হয় ম্যাচ শেষে তাকে বেশী বিমর্ষ দেখা গেছে যে, ফিফাকে দেওয়া কথা তিনি রাখতে পারছেন না।

বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি শুধু টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচ নয়-এটি নিজেদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ারও সুযোগ। শেষ ম্যাচে একটি ভালো ফল পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচ গুলোর জন্য দলকে নতুন উদ্দীপনা দিতে পারে। শিরোপার স্বপ্ন শেষ হলেও লড়াই শেষ নয়। তাই জাকার্তায় ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে সেই বার্তাই দিতে চাইবে বাংলাদেশ। যদি ড্র অথবা গোলের দেখা পায় তাহলে খেলোয়াড়রা আত্নবিশ্বাস ফিরে পাবে আর কোচ টমাস ডুলি তো বলেছেন ফিফা আসিয়ান কাপ থেকে শিখে ঘরের মাঠে সাফ জয় করা তাদের লক্ষ। দেখা যাক সেটা যদি হয় তাহলেও মন্দ হয়না!

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles