নতুন মুখে আরও শক্তিশালী বাংলাদেশ : শমিত

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে নতুন মুখের আগমনকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন মিডফিল্ডার শমিত সোম। তাঁর মতে, নতুন খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি দলে নতুন মাত্রা যোগ করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা বাড়াবে, যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

আসন্ন প্রথমবারের মতো আয়োজিত ফিফা আসিয়ান কাপ সামনে রেখে জাতীয় দলের প্রস্তুতিতে যোগ দিয়ে শমিত বলেন, নতুন সতীর্থদের সঙ্গে প্রথমবার অনুশীলনের অভিজ্ঞতা বেশ ভালো হয়েছে।

“আমাদের দলে কয়েকজন নতুন খেলোয়াড় এসেছে। প্রথমবার তাদের সঙ্গে দেখা করে অনুশীলন করতে পেরে ভালো লাগছে। আমি তাদের পারফরম্যান্সে বেশ মুগ্ধ। প্রত্যেকেই দলে মূল্যবান কিছু নিয়ে এসেছে। এতে আমাদের স্কোয়াড আরও শক্তিশালী হবে এবং নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মাত্রাও বাড়বে,” বলেন শমিত।

নতুনদের কারণে দল আরও ভালো করবে বলেও আশাবাদী ২৯ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। তাঁর মতে, জাতীয় দলের সব খেলোয়াড়ের একটাই লক্ষ্য আর তা হলো ভালো খেলা, ম্যাচ জেতা এবং সাফল্য অর্জন করা।

“আমি আশাবাদী, এটা আমাদের দলকে আরও ভালো করবে। নতুন সবাইকে চেনা এবং তাদের সঙ্গে কাজ করা ভালো লাগছে। আমাদের সবার লক্ষ্য একই—ভালো খেলা, ম্যাচ জেতা এবং বাংলাদেশের জন্য সফল হওয়া,” বলেন তিনি।

বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ

প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফার এই টুর্নামেন্টকে বাংলাদেশের জন্য নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন শমিত। তাঁর বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও উচ্চস্তরের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশ নিজেদের সক্ষমতা দেখাতে পারে।

“এটি একটি বড় টুর্নামেন্ট, ফিফার ইভেন্ট। তাই বাংলাদেশের জন্য এটি নিজেদের প্রমাণ করার দারুণ সুযোগ। আমরা যে আরও উচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি, সেটি দেখানোর সুযোগ এটি। আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমরা ভালো করতে পারব এবং শক্তিশালী পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারব,” বলেন শমিত।

তবে আপাতত টুর্নামেন্টের ফল নিয়ে না ভেবে প্রস্তুতিতেই মনোযোগ দিতে চান তিনি। আগামী কয়েকটি দিন বিশ্রাম ও অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেদের পুরোপুরি প্রস্তুত করার পরিকল্পনা বাংলাদেশের।

নতুন চেহারার বাংলাদেশ

ওভারসিজভিত্তিক খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তিতে বাংলাদেশের স্কোয়াডে এসেছে নতুন চেহারা। হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, জায়ান আহমেদ ও ফাহামেদুল ইসলাম ইতোমধ্যে দলে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া ডিফেন্ডার জিদান ইউসুফ, ফরোয়ার্ড ফারহান আলী ওয়াহিদ এবং মিডফিল্ডার শুকি ইতাফুসাও প্রথমবারের মতো কোচ থমাস ডুলির অধীনে জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করছেন।

শমিত নিজেও কয়েক মাস পর জাতীয় দলের সতীর্থদের সঙ্গে আবার একত্রিত হতে পেরে সন্তুষ্ট। বর্তমানে নিউইয়র্ক কসমসের হয়ে খেলা এই মিডফিল্ডার জানিয়েছেন, দলের অনুশীলন এবং প্রস্তুতি তাঁর কাছে বেশ আশাব্যঞ্জক মনে হয়েছে।

“কয়েক মাস পর আবার সবার সঙ্গে খেলতে পেরে দারুণ লাগছে। দলকে বেশ ছন্দে মনে হচ্ছে এবং অনুশীলনও খুব ভালো হয়েছে। আমার মনে হয়, আমাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো হয়েছে,” বলেন তিনি।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে শুরু বাংলাদেশের

আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসিয়ান কাপে অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র তিন দিন আগে দলের সঙ্গে যোগ দিলেও শমিত প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদী।

এদিকে পুরো স্কোয়াড একসঙ্গে পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন প্রধান কোচ থমাস ডুলি। গতকাল দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সোহেল রানা জুনিয়রও।

ডুলি বলেন, “এখন সবাই এখানে আছে বলে আমি খুবই খুশি। মুরসালিনের কাফে এখনও কিছু সমস্যা আছে। আশা করছি আজ রাতে তার স্ক্যানের রিপোর্ট পাওয়া যাবে এবং সে আগামীকাল অনুশীলন করতে পারবে। তা ছাড়া সবাইকে একসঙ্গে পেয়ে আমি আনন্দিত এবং আমরা অনুশীলন করতে পারছি।”

নতুন খেলোয়াড়দের নিয়েও ইতিবাচক ডুলি। শমিত, হামজা ও ফাহাদের সঙ্গে নতুনদের সমন্বয় নিয়েও কাজ করছেন তিনি।

“দলে কয়েকজন নতুন খেলোয়াড় এসেছে। শমিত, হামজা এবং অবশ্যই ফাহাদের সঙ্গে তারা আগে খেলেনি। ফাহাদকেও ভালো মনে হচ্ছে,” বলেন বাংলাদেশ কোচ।

সব মিলিয়ে নতুন ও পুরোনো খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে নতুন চেহারার বাংলাদেশ এখন নিজেদের প্রথম আসিয়ান কাপ মিশনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেই দেখা যাবে নতুন এই দল আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের কতটা মেলে ধরতে পারে।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles