বিশ্বকাপ ফুটবলের জোয়ারে যখন কাঁপছে পুরো বিশ্ব, তখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ফুটবলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার দুটি পৃথক ঘটনায় কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। মালদ্বীপে পুরুষ দলের অনাকাঙ্ক্ষিত মাঠের লড়াই এবং ভারতের গোয়ায় সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ম্যানেজারকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় দুটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বিশ্বকাপের কারণে বর্তমানে দেশের ঘরোয়া ফুটবলের শীর্ষ স্তরের খেলাধুলা সাময়িকভাবে সীমিত থাকলেও, মাঠের বাইরের এই দুই ঘটনা এখন বাফুফের প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত চার জাতি টুর্নামেন্টে কোচ মারুফুল হকের অধীনে তিনটি ম্যাচেই ড্র করে বাংলাদেশ দল। দলের স্বল্প প্রস্তুতি এবং প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা বিবেচনায় মাঠের এই ফলাফলকে সন্তোষজনক হিসেবেই দেখছিলেন ফুটবল সংশ্লিষ্টরা। তবে বিপত্তি ঘটে স্বাগতিক মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে।
ম্যাচের অন্তিম সময়ে মাঠে দুই দেশের ফুটবলাররা অনাকাঙ্ক্ষিত মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন, যা পরবর্তীতে গ্যালারির সমর্থকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। মালদ্বীপের ফুটবলাররা আক্রমণাত্মক আচরণ করলেও, বাংলাদেশের ফুটবলার আল আমিনের বিরুদ্ধে রেফারির সঙ্গে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। দলের আরও কয়েকজন ফুটবলারের ভূমিকাও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।
সামগ্রিক এই বিশৃঙ্খলার কারণ উদ্ঘাটনে বাফুফে নির্বাহী কমিটির সদস্য জাকির হোসেন চৌধুরীকে চেয়ারম্যান করে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাফুফের মানবসম্পদ (HR) বিভাগের একজন কর্মকর্তা।
অন্যদিকে, ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত সাফ নারী টুর্নামেন্টে হ্যাটট্রিক শিরোপার মিশন ছিল বাংলাদেশের মেয়েদের। টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি হিসেবে বাফুফে নারী দলকে থাইল্যান্ডে দুই সপ্তাহের বিশেষ কন্ডিশনিং ক্যাম্পও করিয়েছিল। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে গ্রুপের পর ফাইনালেও হেরে রানার্স-আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় মারিয়া মান্ডা – ঋতু পর্ণাদের।
তবে মাঠের এই হতাশার চেয়েও বড় ধাক্কা আসে সাফের আয়োজকদের কাছ থেকে। বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমীর বিরুদ্ধে টুর্নামেন্ট চলাকালীন শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে বাফুফেকে চিঠি দেয় সাফ কর্তৃপক্ষ। এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বাফুফে আরেকটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বাফুফে নির্বাহী সদস্য কামরুল ইসলাম হিলটনকে এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে, যেখানে সদস্য সচিব হিসেবে আছেন বাফুফের লিগ্যাল অফিসার এবং সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তাকে।
বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, দুটি তদন্ত কমিটিকে আনুষ্ঠানিক গঠনের পর থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে দুটি ঘটনাই দেশের বাইরে (মালদ্বীপ ও ভারত) সংঘটিত হওয়ায় বিভিন্ন পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করা বেশ সময়সাপেক্ষ। ফলে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নির্ধারিত সাত দিনের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩


















