জোভো লুকিচের গোলে ম্যাচের ২১ মিনিটে লিড নিয়েছিলো বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে ফরোয়ার্ড কাইল লারিনের গোলে বসনিয়ার বিপক্ষে পরাজয় এড়ালো কানাডা । শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে দু’দল।
মাঠের লড়াইয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ কিংবা আক্রমণ, সবদিক থেকেই স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিল কানাডা। তবে ঘরের মাঠের স্বাগতিকদের সেই আধিপত্যের বিপরীতে বেশ চতুর ফুটবল খেলেছে বসনিয়া। সুযোগ পেলেই কাউন্টার অ্যাটাক থেকে পরিকল্পিত প্রতি-আক্রমণে পুরো ম্যাচ জুড়ে কানাডার রক্ষণভাগকে বেশ চাপে রেখেছিল বলকান অঞ্চলের দলটি।
ভুলের মাশুল ও লুকিচের প্রথম গোল
ঘরের মাঠের চেনা পরিবেশ আর গ্যালারিভর্তি দর্শকের সুবিধা নিয়ে ম্যাচের শুরু থেকেই বসনিয়ার ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে কানাডা। তবে ম্যাচের ১৭তম মিনিটে জোনাথান ডেভিড একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন। আর সেই মিসের খেসারত স্বাগতিকদের দিতে হয় ঠিক ৩ মিনিট পরেই।
ম্যাচের ২১তম মিনিটে বসনিয়ার মিডফিল্ড থেকে ভেসে আসা একটি নিখুঁত নিচু কর্নার কিক ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় কানাডার ডিফেন্ডাররা। সেই সুযোগটি লুফে নেন বক্সে ওত পেতে থাকা বসনিয়ান ফরোয়ার্ড জোভো লুকিচ। চমৎকার এক হেডে বল কানাডার জালে জড়িয়ে দেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটিই লুকিচের প্রথম গোল। এই ১-০ ব্যবধানের লিড ধরে রেখেই প্রথমার্ধের বিরতিতে যায় সফরকারীরা।

কোচ জেসি মার্শের ট্যাকটিক্স ও কানাডার ঘুরে দাঁড়ানো
১ গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে অল-আউট আক্রমণে নামে কানাডা। ম্যাচের ৬০তম মিনিটে দলের খেলার গতি বাড়াতে আক্রমণভাগে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন কানাডিয়ান কোচ জেসি মার্শ।
অবশেষে স্বাগতিকদের সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটি আসে ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে। ডি-বক্সের ভেতর এক দুর্দান্ত আক্রমণ থেকে বল পান বদলি হিসেবে মাঠে নামা ফরোয়ার্ড কাইল লারিন। বসনিয়ার রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে নিখুঁত ও কোনাকুনি শটে বল জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি তিনি। লারিনের এই সমতাসূচক গোলের সাথে সাথেই আনন্দে মেতে ওঠে পুরো টরন্টো স্টেডিয়াম।

রোমাঞ্চকর শেষভাগ
১-১ গোলে সমতা আসার পর ম্যাচের শেষদিকে জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দলই। সমানে সমানে চলে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। তবে বসনিয়ার সুসংগঠিত ডিফেন্স এবং কানাডার গোলরক্ষকের চমৎকার পারফরম্যান্সে শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ১-১ ব্যবধানের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল এবং পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই শেষ হয় বিশ্বমঞ্চে তাদের প্রথম লড়াই।
মাঠের লড়াই শুরুর আগে টরন্টোর গ্যালারি মেতে উঠেছিল এক মনকাড়া সাংস্কৃতিক উৎসবে।
আদিবাসী সংস্কৃতির প্রতি অনন্য সম্মান
কানাডার এই ঐতিহাসিক ক্ষণের সূচনা হয় দেশটির মাটির আদি বাসিন্দাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই তুলে ধরা হয় কানাডার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। আদিবাসী বংশোদ্ভূত জনপ্রিয় কানাডীয় সংগীতশিল্পী উইলিয়াম প্রিন্স তার সুরের জাদুতে মাতিয়ে রাখেন পুরো স্টেডিয়াম। ঐতিহ্যবাহী গান ও নাচের এই যুগলবন্দী উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
নোরা ফাতেহি ও সঞ্জয়ের পারফরম্যান্সে দর্শকদের উন্মাদনা
ঐতিহ্যের পর উদ্বোধনী মঞ্চে লাগে আধুনিকতার ছোঁয়া। ড্রামের তুমুল আর আকর্ষণীয় বিটের সাথে মাঠ মাতাতে আসেন বলিউড সেনসেশন নোরা ফাতেহি। তার সাথে যোগ দেন ফ্রেঞ্চ হিপ হপ তারকা ভেগেড্রিম এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে ও সংগীতশিল্পী সঞ্জয়।
গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো দর্শক তাদের এই যৌথ ও ছন্দময় পরিবেশনা দারুণভাবে উপভোগ করেন। আধুনিক পপ ও হিপ হপের এই ধামাকা মুহূর্তের মধ্যেই স্টেডিয়ামের আবহ বদলে দেয় এবং দর্শকদের মাঝে এক অভূতপূর্ব উন্মাদনার সৃষ্টি করে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩














