নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইতিহাস গড়েছেন ভারতের সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা। হংকংয়ের বিপক্ষে বিধ্বংসী সেঞ্চুরি করে একসঙ্গে গড়েছেন একাধিক রেকর্ড। ছাড়িয়ে গেছেন ভারতের কিংবদন্তি মিতালি রাজকে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরির সংখ্যায়ও নতুন রেকর্ড গড়েছেন বাঁহাতি এই ওপেনার।
দুবাইয়ে নারী এশিয়া কাপে হংকংয়ের বিপক্ষে মাত্র ৬৪ বলে ১২৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মান্ধানা। তাঁর ব্যাটে ছিল ১৪টি চার ও ৭টি ছক্কা। এই ইনিংসের পথেই নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে যান তিনি।

এর আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক মিতালি রাজ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মিতালির সংগ্রহ ছিল ১০ হাজার ৮৬৮ রান। হংকংয়ের বিপক্ষে ইনিংস চলাকালেই সেই রেকর্ড টপকে যান মান্ধানা। এখন তাঁর আন্তর্জাতিক রানের সংখ্যা ১০ হাজার ৮৮০।
রেকর্ডটি গড়ার পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মান্ধানা বলেন, ব্যাটিংয়ের সময় তিনি জানতেনই না কোন রেকর্ডের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। তবে মিতালি রাজকে ছাড়িয়ে যাওয়াটা তাঁর কাছে বিশেষ কিছু। ছোটবেলা থেকে মিতালির ব্যাটিং দেখে বড় হয়েছেন তিনি। তাই তাঁর রেকর্ড পেরিয়ে যাওয়াটা এমন একটি অর্জন, যা কখনো কল্পনাও করেননি মান্ধানা।

তবে এখানেই থামেননি ভারতের এই তারকা ব্যাটার। হংকংয়ের বিপক্ষে সেঞ্চুরিটি ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর ১৮তম শতক। এর মাধ্যমে মেগ ল্যানিং ও লরা ভলভার্টকে পেছনে ফেলেছেন তিনি। দুজনেরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরি ছিল ১৭টি করে।
বর্তমানে নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক স্মৃতি মান্ধানা। তাঁর ১৮টি সেঞ্চুরির মধ্যে ১৪টি ওয়ানডেতে, দুটি টেস্টে এবং দুটি টি-টোয়েন্টিতে।
তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের রাত হলেও ম্যাচটি ভারতের জন্য পুরোপুরি নিখুঁত ছিল না। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মান্ধানা ও শেফালি ভার্মার উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র আট ওভারে আসে ৭৪ রান। এরপর ভারতের মিডল অর্ডার আবারও কিছুটা সমস্যায় পড়ে।
৩ থেকে ৭ নম্বরে ব্যাট করা ভারতীয় ব্যাটাররা ৩৯ বলে মাত্র দুটি চার মারতে পারেন। অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর ৯ বলে করেন ১০ রান। অন্যদিকে পরের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল মাত্র ১১ রান।
তবে এক প্রান্তে অবিচল ছিলেন মান্ধানা। ইনিংসের শেষ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করে ভারতকে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৩ রানের সংগ্রহ এনে দেন তিনি। ইনিংসের ১৮তম ওভারেই টানা তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের প্রমাণ দেন মান্ধানা।
এরপর হংকংকে মাত্র ৫৬ রানে আটকে দিয়ে ১৩৭ রানের বিশাল জয় পায় ভারত। এই জয়ের ফলে নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা।
এর আগে থাইল্যান্ডের বিপক্ষেও ভারতীয় ব্যাটিংয়ের মিডল অর্ডারে ধস নেমেছিল। ১০৮ রানে মাত্র দুই উইকেট হারানো ভারত শেষ পর্যন্ত ১৫৯ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ইনিংস শেষ করে। ফলে বড় জয়ের পরও মিডল অর্ডারের পারফরম্যান্স নিয়ে কিছুটা চিন্তা থেকেই যাচ্ছে।
তবে মান্ধানা মনে করেন, মিডল অর্ডারের প্রতিটি ব্যাটারই বিশ্বমানের এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সামর্থ্য তাদের রয়েছে।
এদিকে নিজের রেকর্ড নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না মান্ধানা। বরং রেকর্ড গড়ার পর তাঁর বার্তা, ‘এটা কেবল শুরু।’
নারী এশিয়া কাপে ভারতের পরবর্তী ম্যাচ পাকিস্তানের বিপক্ষে। এরপর ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সেমিফাইনাল। আর সেখানে মান্ধানার ব্যাটের দিকেই থাকবে ভারতের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।


