টানা ব্যর্থতার দায়ে গত রবিবার ইংল্যান্ডের লাল বলের (টেস্ট) প্রধান কোচের পদ থেকে বরখাস্ত হয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। গত ৯টি টেস্টের মধ্যে ৭টিতেই পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে ইংলিশরা। এমন বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে আগামী ১৯ আগস্ট হেডিংলিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া টেস্ট সিরিজের আগেই নতুন কোচ নিয়োগ দিতে মরিয়া ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।
ইসিবির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গুল্ড জানিয়েছেন, নতুন কোচের জন্য ইতিমধ্যে ৬ থেকে ১০ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
অধিনায়ক ও কোচের শূন্যতা: এক বড় চ্যালেঞ্জ
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ হারের পর গত জুনের শেষের দিকে আকস্মিকভাবে টেস্ট অধিনায়কের পদ থেকে অবসর নেন বেন স্টোকস। ফলে এই মুহূর্তে ইংল্যান্ড টেস্ট দল একই সাথে অধিনায়ক ও কোচহীন অবস্থায় আছে।
রিচার্ড গুল্ড নিশ্চিত করেছেন, বোর্ড প্রথমে প্রধান কোচ নিয়োগ দেবে। এরপর সেই নতুন কোচ, ক্রিকেট মহাব্যবস্থাপক রবের্ট কি এবং জাতীয় নির্বাচক মার্কাস নর্থের সাথে আলোচনা করে নতুন টেস্ট অধিনায়ক নির্বাচন করা হবে। হোয়াইট বলের (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) দায়িত্বে বহাল থাকা ম্যাককালামের সাথে সমন্বয় করে এই নতুন কোচকে ঠাসা আন্তর্জাতিক সূচি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের চাপ সামলাতে হবে।
আগ্রাসী ক্রিকেট থেকে কি সরে আসবে ইংল্যান্ড?
ম্যাককালামের অধীনে ইংল্যান্ড ‘বাজবল’ বা অতি-আগ্রাসী ঘরানার ক্রিকেট খেলে আসছিল। তবে নতুন কোচকে যে হুবহু একই ধারা বজায় রাখতে হবে, তেমনটা ভাবছেন না গুল্ড। তিনি বলেন:
“আমাদের দলে যে ধরনের প্রতিভা ও স্কিল আছে, তাতে দল স্বভাবতই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলছে। তবে কোচের পরিকল্পনা এবং খেলোয়াড়দের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে খেলার ধরনে পরিবর্তন আসতেই পারে। আমাদের এমন একজনকে প্রয়োজন যিনি ক্রিকেটারদের ভেতরের সেরাটা বের করে আনতে পারবেন।”
অন্তর্বর্তীকালীন কোচের সম্ভাবনা
১৯ আগস্টের মধ্যে স্থায়ী কোচ নিয়োগ দেওয়া সম্ভব না হলে ইসিবি একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার কথাও মাথায় রাখছে। কারণ সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা হাই-প্রোফাইল কোচরা বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দল, কাউন্টি বা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সাথে চুক্তিবদ্ধ থাকতে পারেন। এমনকি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ইংল্যান্ড দলের কোচিং করানো যাবে, এমন নমনীয় মডেলও বিবেচনা করছে ইসিবি।
সম্ভাব্য কোচের তালিকায় কারা থাকতে পারেন?
যদিও ইসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম প্রকাশ করেনি, তবে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে সংক্ষিপ্ত তালিকায় নিচের নামগুলো থাকার সম্ভাবনা প্রবল:
- কুমার সাঙ্গাকারা: রাজস্থান রয়্যালসের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট হিসেবে দারুণ সফল এবং ইংলিশ কন্ডিশন সম্পর্কে ভালো ধারণা রয়েছে।
- অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার: ইংল্যান্ড দলের সাবেক সফল কোচ, যার অধীনে ইংলিশরা টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছিল। বর্তমানে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে কোচিং করাচ্ছেন।
- অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ: ইংল্যান্ডের সাবেক এই কিংবদন্তি অলরাউন্ডার বর্তমানে বোর্ডের বিভিন্ন কাঠামোর সাথে যুক্ত এবং তরুণদের প্রিয় মুখ।
- জাস্টিন ল্যাঙ্গার: অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই কোচ তাঁর কঠোর শৃঙ্খলা ও লড়াকু মানসিকতার জন্য পরিচিত, যা বর্তমান ইংল্যান্ড দলের মানসিকতা বদলে দিতে পারে।
- পল কলিংউড: এর আগেও ইংল্যান্ড দলের সাথে সহকারী ও অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন।
রবের্ট কি-র নেতৃত্বে এখন আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে কে বসেন ইংল্যান্ডের গরম টেস্ট চেয়ারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


