চার বছর আগে যখন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের দায়িত্ব নেন, তখন ইসিবির ক্রিকেট মহাব্যবস্থাপক রবের্ট কি ক্রিকেটপ্রেমীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “সবাই সিটবেল্ট বেঁধে নিন, এক রোমাঞ্চকর রাইডের (ভ্রমণ) জন্য প্রস্তুত হন।” শুরুটা সত্যিই রোমাঞ্চকর ছিল। কিন্তু সেই রঙিন স্বপ্নের পথ ধরে চলা ‘রাইড’ আজ গিয়ে ঠেকেছে এক চরম ধ্বংসস্তূপে। রবিবার (১২ জুলাই) লাল বলের কোচের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে ম্যাককালামকে।
কিন্তু কীভাবে একটি সফল এবং আলোচিত অধ্যায়ের এমন করুণ পরিণতি হলো? ক্রিকেট বিশ্লেষক স্টিফেন শেমিল্টের মতে, পর্দার আড়ালে অনেক ছোট-বড় ঘটনা থাকলেও, মূলত একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তেই সবকিছু তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল।
পার্থের সেই অভিশপ্ত শনিবার: পতনের শুরু
অ্যাশেজের সঠিক পরিকল্পনার অভাব, হ্যারি ব্রুকের নাইটক্লাবের বাউন্সারের সাথে ঝামেলা, কিংবা অতি সম্প্রতি সাবেক অধিনায়ক বেন স্টোকসের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রাতের ঘটনা, সবকিছুই ফিকে হয়ে যায় সাত মাস আগের পার্থ টেস্টের একটি সেশনের কাছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টটি তখন পুরোপুরি ইংল্যান্ডের হাতের মুঠোয়। মাত্র একটি শান্ত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং সেশন পার করতে পারলেই ম্যাচটি জিতে যেত ইংলিশরা। কিন্তু ম্যাককালামের ডিকশনারিতে তো ‘শান্ত’ বা ‘ধৈর্য’ বলে কোনো শব্দ ছিল না! ‘বিপদের দিকে তেড়ে যাও’ এই অতি-আগ্রাসী নীতি বজায় রাখতে গিয়ে মাত্র ৯৯ রানে ৯টি উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম লজ্জাজনক এই ব্যাটিং ধস পুরো দলের আত্মবিশ্বাস গুঁড়িয়ে দেয়, যার আফটারশক বা ধাক্কা দলটিকে আজও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
“ইংলিশ ক্রিকেট একসময় রোববারের দিনগুলোকে বড় বড় জয়ের জন্য মনে রাখত, যেমন ২০১৭ সালে অ্যানিয়া শ্রাবসোল কিংবা ২০১৯ সালে বেন স্টোকসের মহাকাব্যিক পারফরম্যান্স। কিন্তু সাম্প্রতিক দুটি রোববার এসেছে চরম আঘাত হয়ে। দুই সপ্তাহ আগে বেন স্টোকস নিজে থেকে অধিনায়কের পদ ছেড়েছেন, আর আজ ম্যাককালামকে বিদায় করে দেওয়া হলো।”
যেখানে শুরু, সেখানেই শেষ
ম্যাককালামের বিদায় এবং বেন স্টোকসের অবসরের পর ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেট আজ ঠিক ৪ বছর আগের জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে—যেখানে তাদের কোনো স্থায়ী অধিনায়ক নেই এবং কোনো প্রধান কোচও নেই।
তবে টেস্ট ক্রিকেট থেকে বরখাস্ত হলেও হোয়াইট বল বা সীমিত ওভারের (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের কোচের দায়িত্বে বহাল থাকছেন ৪৪ বছর বয়সী এই নিউজিল্যান্ডার। এখন দেখার বিষয়, টেস্ট ক্রিকেটের এই ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন কোন ত্রাতা এসে ইংল্যান্ড ক্রিকেটকে টেনে তোলেন।


