আটলান্টায় ইংল্যান্ডের সামনে কঙ্গোর রূপকথা থামানোর চ্যালেঞ্জ । বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এসে আগের সব হিসাব প্রায় অর্থহীন হয়ে যায়। গ্রুপ পর্বে কত পয়েন্ট পাওয়া হলো, কত গোল করা হলো কিংবা কে কতটা ফেভারিট, এসবের গুরুত্ব অনেকটাই কমে যায় এক ম্যাচের লড়াইয়ে। কারণ এখানে একটিমাত্র ভুল, এক মুহূর্তের অসতর্কতা কিংবা একটি সিদ্ধান্তই বদলে দিতে পারে পুরো টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ। এমনই এক চাপের ম্যাচে বুধবার আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো।
গ্রুপ ‘এল’ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে উঠেছে ইংল্যান্ড। কাগজে-কলমে তারা এখনও শিরোপার অন্যতম বড় দাবিদার। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের দারুণ জয় দিয়ে শুরু করেছিল থ্রি লায়ন্সরা। এরপর ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র কিছুটা হতাশা তৈরি করলেও শেষ ম্যাচে পানামাকে ২-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়েই নকআউটে এসেছে টমাস টুখেলের দল। তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট, ছয় গোল এবং মাত্র দুই গোল হজম, সংখ্যার হিসাবে সব ঠিকঠাক। তবে ইংল্যান্ডের খেলায় এখনও সেই ধারাবাহিক নির্মমতা পুরোপুরি দেখা যায়নি, যেটা বড় দল গুলোকে আলাদা করে দেয়।
স্বাভাবিকভাবেই নজর থাকবে হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের দিকে। কেইনের কাজ গোল করা, আর বেলিংহাম মাঝমাঠে পুরো খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করেন। এর সঙ্গে ডেকলান রাইসের ফেরার সম্ভাবনা ইংল্যান্ডকে আরও ভারসাম্য এনে দিতে পারে, যদিও ডান প্রান্তে চোটজনিত কিছু দুশ্চিন্তা এখনো রয়েছে।
অন্যদিকে কঙ্গোর যাত্রাটা এই বিশ্বকাপের অন্যতম অনুপ্রেরণার গল্প। ১৯৭৪ সালে জায়ারের নাম নিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ৫২ বছর। বদলেছে দেশের নাম, বদলেছে প্রজন্ম, কিন্তু বিশ্বকাপে ফেরার অপেক্ষা শেষ হয়নি। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে এবার, আর ফিরে এসেই প্রথমবারের মতো নকআউট নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার দলটি।
ধৈর্য আর পরিকল্পনায় এগিয়ে ডিআর কঙ্গো
গ্রুপ পর্বে পর্তুগালের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে ড্র করেছে তারা, কলম্বিয়ার বিপক্ষে লড়াই করেও হেরেছে অল্প ব্যবধানে। শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে জায়গা করে নিয়েছে শেষ ৩২-এ। এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের সংগঠিত রক্ষণভাগ এবং ধৈর্য। কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাব্রে এমন একটি দল গড়ে তুলেছেন যারা প্রতিপক্ষকে সহজে জায়গা দেয় না এবং সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে আঘাত হানে।
ম্যাচটিতে আবেগের গল্পও আছে। অ্যারন ওয়ান-বিসাকা একসময় ইংল্যান্ডের বয়স ভিত্তিক দলের অংশ ছিলেন, কিন্তু পরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বেছে নিয়েছেন কঙ্গোকে। এবার সেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই মাঠে নামবেন তিনি।
একদিকে ইতিহাস ফিরিয়ে আনার স্বপ্নে ইংল্যান্ড, অন্যদিকে নতুন ইতিহাস লেখার ক্ষুধায় কঙ্গো। নকআউট ফুটবলে ফেভারিট শব্দটা অনেক সময় টিকে থাকে না। আটলান্টার এই রাত তাই শুধু একটি ম্যাচ নয়, হতে পারে বিশ্বকাপের আরেকটি বড় গল্পের জন্ম।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩














