ইংল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারিয়ে উয়েফা নেশন্স লিগের শীর্ষ স্তরের নতুন মৌসুম শুরু করেছে স্পেন। শনিবার ওয়েম্বলিতে নাটকীয় ও গোলবহুল ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। পেনাল্টি মিস করে হ্যারি কেইন। এই জয়ে স্পেনের টানা অপরাজিত থাকার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ ম্যাচে।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় স্পেন। দ্বিতীয় মিনিটেই ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করেন লামিনে ইয়ামাল। মার্ক গুয়েহির ভুলে বল পেয়ে দূরের পোস্টের ভেতরের দিক ঘেঁষে নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন বার্সেলোনার এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
গোল হজমের পর ইংল্যান্ড কিছুটা ছন্দ হারিয়ে ফেললেও ম্যাচের প্রথমার্ধে একাধিকবার বিপদে পড়ে স্পেন। ফেরান তোরেসের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। পরে রদ্রির পাস থেকে পাওয়া সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি তোরেস। গোলরক্ষক জেমস ট্রাফোর্ডও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলকে রক্ষা করেন।
তবে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ইংল্যান্ড। ৩৬ মিনিটে সমতা ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন। স্পেনের নিকো উইলিয়ামসের ভুল থেকে বল পেয়ে গর্ডন জুড বেলিংহামের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নিচু শটে গোল করেন তিনি।
সমতায় ফেরার পর বদলে যায় ওয়েম্বলির পরিবেশ। ইংল্যান্ড আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে এগিয়েও যায় স্বাগতিকরা। নিকো ও’রাইলির ক্রস থেকে হেড করেন হ্যারি কেইন। বলটি মার্ক কুকুরেয়া হয়ে জালে জড়ায়। ফলে বিরতিতে ২-১ গোলে এগিয়ে থাকে ইংল্যান্ড।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আক্রমণাত্মক ছিল ইংল্যান্ড। ৫৪ মিনিটে বড় সুযোগ আসে তাদের সামনে। বেলিংহাম স্পেনের বক্সে ফাউলের শিকার হলে ভিডিও সহকারী রেফারির পরামর্শে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। কিন্তু দূর্ভাগ্য তাদের। কেইন পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। তার শট ক্রসবারে আঘাত করে।

এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় স্পেন। বদলি হিসেবে নামা আলেক্স বায়েনা মাঠে নেমেই প্রভাব ফেলেন। ৬০ মিনিটের পর ইংল্যান্ডের জালে বল পাঠিয়ে ২-২ করেন বায়েনা।
শেষ পর্যন্ত ৭৪ মিনিটে ২০২৪ ফাইনালের নায়ক ওইয়ারসাবাল গোল করে স্পেনকে ৩-২ গোলে এগিয়ে নেন।
শেষ দিকে সমতা ফেরানোর চেষ্টা চালায় ইংল্যান্ড। বদলি খেলোয়াড় নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ানোর চেষ্টা করেন কোচ টমাস টুখেল। যোগ করা সময়ে বেলিংহামের শক্তিশালী শটও ঠেকিয়ে দেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন।
শেষ পর্যন্ত আর গোল না হওয়ায় ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন।


