ফ্রান্সের দেশোঁর অধ্যায় শেষ!

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেছিল ফ্রান্স। কিন্তু সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। এখন শিরোপা নয়, তৃতীয় স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে দিদিয়ে দেশোঁর দলকে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচ দিয়েই ফ্রান্সের ডাগআউটে শেষবারের মতো দেখা যাবে সফল এই কোচকে।

মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় শনিবার (১৯ জুলাই) ভোর ৩টায় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। অনেকের কাছেই ম্যাচটি গুরুত্বহীন হলেও, ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের সামনে থাকছে ব্যক্তিগত এক বড় অর্জনের সুযোগ। বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা এখন আট, যা লিওনেল মেসির সমান। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও তাই শেষ সুযোগটি কাজে লাগাতে চাইবেন ফরাসি তারকা।

চলতি বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার ছিল দুই দলই। কিন্তু সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হার মানে ফ্রান্স, আর আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। ফলে দুই দলেরই শেষ লড়াই এখন তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করার।

এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই শেষ হবে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে দিদিয়ে দেশোঁর ১৪ বছরের অধ্যায়। তাঁর অধীনেই ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালেও উঠেছিল দলটি, যদিও টাইব্রেকারে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়। দেশোঁর কোচিংয়ে টানা তিনটি বিশ্বকাপেই অন্তত সেমিফাইনালে খেলেছে ফ্রান্স।

৫৭ বছর বয়সী দেশোঁর আশা ছিল, আরেকটি বিশ্বকাপ জিতেই দায়িত্ব ছাড়বেন। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তবে এমবাপে, চুয়ামেনি ও সতীর্থদের সামনে সুযোগ আছে দীর্ঘদিন ফ্রান্সকে বিশ্বের অন্যতম সেরা দলে পরিণত করা কোচকে অন্তত জয় দিয়ে বিদায় জানানোর।

অন্যদিকে, ম্যাচটি নিয়ে খুব বেশি আগ্রহ নেই ইংল্যান্ড শিবিরেও। কোচ টমাস টুখেল স্পষ্টই বলেছেন, সেমিফাইনালে হারের পর কোনো খেলোয়াড়ই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে চায় না।

`এই খেলোয়াড়দের কেউই, ফরাসি খেলোয়াড়দের কেউই এই ম্যাচটি খেলতে চায় না। সবাই ফাইনালে খেলতে চেয়েছিল। সেখানে ওঠার জন্য আমরা সবকিছু দিয়েছি।’

দুই দলই সেরা একাদশে একাধিক পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যাঁরা টুর্নামেন্টে কম সুযোগ পেয়েছেন, তাঁদের সুযোগ দিতে পারেন দেশোঁ ও টুখেল। তবে এমবাপের শুরু থেকেই মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, গোল্ডেন বুটের পাশাপাশি বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত গোলসংখ্যা আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইবেন না তিনি।

কাগজে-কলমে ম্যাচটির গুরুত্ব কম হলেও, ফ্রান্সের জন্য এর তাৎপর্য ভিন্ন। একদিকে এমবাপের সামনে থাকছে ইতিহাস গড়ার সুযোগ, অন্যদিকে দীর্ঘ ১৪ বছরের সফল অধ্যায়ের পর দেশোঁকে জয় দিয়ে বিদায় জানানোর শেষ মঞ্চও এটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles