সংখ্যায় বিশ্বকাপ ২০২৬ – ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজন

ফুটবলের রোমাঞ্চ, রেকর্ড দর্শক আর ঐতিহাসিক মুহূর্তে শেষ হয়েছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। তবে মাঠের ১০৪টি ম্যাচের পেছনে ছিল ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ লজিস্টিক ও অপারেশনাল কর্মযজ্ঞ।

৩৯ দিনব্যাপী এই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি আয়োজক শহরে। টুর্নামেন্টের জন্য নির্ধারিত ছিল ৪৮টি টিম বেস ক্যাম্প ও ৬৪৫টি অফিসিয়াল সাইট। প্রায় ৩ লাখ স্বীকৃত কর্মী মিলে আয়োজনটি পরিচালনায় সহায়তা করেছেন। ১,২৪৮ জন খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে স্টেডিয়ামে মোট দর্শক উপস্থিতি ছাড়িয়েছে ৬৮ লাখ।

টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজন করতে ৪৩ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক, ৭৩ হাজার ৭০০ স্বীকৃত নিরাপত্তাকর্মী এবং ১০৪টি দেশের নাগরিকদের নিয়ে গঠিত ফিফার কর্মীবাহিনী কাজ করেছে। শুধু নিরাপত্তা কার্যক্রমেই সম্পন্ন হয়েছে ১০ লাখের বেশি শিফট। বিভিন্ন ভেন্যুতে অ্যাক্রেডিটেশন ব্যবস্থায় স্ক্যান করা হয়েছে ৫০ লাখের বেশি বার।

বিশ্বকাপের সম্প্রচার ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনাতেও ছিল বিশাল আয়োজন। ডালাসের ইন্টারন্যাশনাল ব্রডকাস্ট সেন্টার কার্যত একটি মিডিয়া সিটির মতো কাজ করেছে। পুরো টুর্নামেন্টে ৫ হাজার ক্যামেরা ব্যবহার করে ২৪ হাজারের বেশি কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে।

দর্শকদের খাবার ও পানীয়ের চাহিদাও ছিল নজিরবিহীন। স্টেডিয়ামগুলোতে বিক্রি হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার হট ডগ, ৪৬ লাখের বেশি কোমল পানীয় ও বোতলজাত পানি এবং ৫৫ লাখের বেশি বিয়ার।

স্টেডিয়ামের বাইরেও ছিল ফুটবল উৎসবের ব্যাপক আয়োজন। উত্তর আমেরিকাজুড়ে ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যালে অংশ নিয়েছেন ৯০ লাখের বেশি দর্শক। টুর্নামেন্টের বিভিন্ন তথ্য ও নির্দেশনা জানাতে ‘নো বিফোর ইউ গো’ কর্মসূচির মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে ২ হাজার ৩০০টির বেশি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা এবং ৭৭ লাখ ইমেইল।

সব মিলিয়ে, মাঠের ফুটবল ছাড়িয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ ছিল এক বিশাল বৈশ্বিক আয়োজন—যার সফল বাস্তবায়নের পেছনে কাজ করেছে প্রায় ৩ লাখ কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও নিরাপত্তাকর্মীর নজিরবিহীন সমন্বিত প্রচেষ্টা।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles