বিশ্বকাপের পর সবচেয়ে দামি ৫ ফুটবলার, শীর্ষে হালান্ড-ইয়ামাল

২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর বদলে গেছে বিশ্ব ফুটবলের তারকাদের বাজারমূল্যের হিসাব। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে একাধিক খেলোয়াড় নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কেড়েছেন। টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে দারুণ পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়েছে তাদের বাজারমূল্যেও।

ট্রান্সফারমার্কটের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপের পর সবচেয়ে বেশি বাজারমূল্যের খেলোয়াড়দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। একই তালিকায় তার সঙ্গে শীর্ষস্থান ভাগাভাগি করছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। তালিকার শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের জুড বেলিংহাম ও কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল অলিসে।

৫. জুড বেলিংহাম, ২২৮ কোটি টাকা

তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। ২৩ বছর বয়সী এই তারকা পুরো টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের মাঝমাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত ফাইনালে জায়গা করে নিতে না পারলেও বেলিংহামের পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। গোল করার দিক থেকেও তিনি ছিলেন টুর্নামেন্টের অন্যতম সফল খেলোয়াড়। তাঁর চেয়ে বেশি গোল করেছেন শুধু লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।

বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের পর বেলিংহামের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ২২৮ কোটি টাকার সমপরিমাণ।

৪. মাইকেল অলিসে, ২৪২ কোটি টাকা

চতুর্থ স্থানে রয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের ফরাসি তারকা মাইকেল অলিসে। ২৪ বছর বয়সী এই উইঙ্গার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের অন্যতম সেরা আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় হিসেবে আলোচনায় আসেন।

সরাসরি আক্রমণ, দ্রুতগতির দৌড় এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে দেওয়ার দক্ষতার কারণে অলিসে ইউরোপের অন্যতম আকর্ষণীয় তরুণ ফরোয়ার্ড হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন।

বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ডে পেলের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যাওয়ার দাবি করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। টুর্নামেন্টের পর তাঁর বাজারমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪২ কোটি টাকা।

৩. কিলিয়ান এমবাপ্পে, ২৮৫ কোটি টাকা

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২৭ বছর বয়সে ফ্রান্সের অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেন তিনি।

গতি, ড্রিবলিং এবং গোল করার অসাধারণ দক্ষতার কারণে পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য বড় হুমকি ছিলেন এমবাপ্পে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো গোল্ডেন বুট জিতেছেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার রেকর্ডও গড়েছেন ফরাসি তারকা।

বিশ্বকাপের পর তাঁর বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮৫ কোটি টাকা।

২. লামিনে ইয়ামাল, ৩১৪ কোটি টাকা

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। টুর্নামেন্ট চলাকালীন ১৯ বছরে পা দেওয়া এই উইঙ্গার স্পেনের ডান প্রান্তে খেলেছেন।

পুরো টুর্নামেন্টে নিজের সেরা ছন্দে না থাকলেও স্পেনের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ইয়ামাল। তাঁর অসাধারণ প্রতিভা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কারণে বিশ্ব ফুটবলে ইতোমধ্যেই অন্যতম মূল্যবান খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপের পর ইয়ামালের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১৪ কোটি টাকা।

১. আর্লিং হালান্ড, ৩১৪ কোটি টাকা

তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। লামিনে ইয়ামালের সঙ্গে সমান বাজারমূল্য নিয়ে শীর্ষস্থান ভাগাভাগি করছেন ২৬ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার।

প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে হালান্ড নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শারীরিক শক্তি, গতি এবং গোল করার সহজাত দক্ষতার কারণে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য বড় আতঙ্ক ছিলেন তিনি।

বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের পর তাঁর বাজারমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১৪ কোটি টাকা।

বিশ্বকাপের পর বদলে গেল তারকাদের বাজারমূল্য

২০২৬ বিশ্বকাপের পর প্রকাশিত এই তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক হলো হালান্ড ও ইয়ামালের যৌথভাবে শীর্ষে থাকা। তাদের পেছনে রয়েছেন এমবাপ্পে, অলিসে ও বেলিংহামের মতো তারকারা।

বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স সাধারণত তাদের বাজারমূল্যে বড় প্রভাব ফেলে। ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে একজন খেলোয়াড়ের প্রতি ক্লাবগুলোর আগ্রহ যেমন বাড়ে, তেমনি তার সম্ভাব্য ট্রান্সফার মূল্যও বৃদ্ধি পেতে পারে।

ট্রান্সফারমার্কটের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর সবচেয়ে মূল্যবান পাঁচ ফুটবলারের তালিকায় ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন, নরওয়ে ও জার্মানির ক্লাব ফুটবলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

তবে এই বাজারমূল্য সরাসরি কোনো খেলোয়াড়ের সম্ভাব্য ট্রান্সফার ফি নয়। খেলোয়াড়ের বয়স, পারফরম্যান্স, চুক্তির মেয়াদ, ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বাজারের চাহিদাসহ বিভিন্ন বিষয় এর ওপর প্রভাব ফেলে।

এদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপ ছিল ইতিহাসের প্রথম ৪৮ দলের বিশ্বকাপ। ফলে আগের আসরগুলোর তুলনায় টুর্নামেন্টের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বিশ্বজুড়ে ফুটবলের বাজার ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও নতুন মাত্রা পেয়েছে।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles