ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচ স্থগিত – এমন পরিস্থিতিতে ফিফার নিয়ম কী?

ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচ স্থগিত - এমন পরিস্থিতিতে ফিফার নিয়ম কী?

ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচ স্থগিত - এমন পরিস্থিতিতে ফিফার নিয়ম কী?

২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো আবহাওয়ার কারণে একটি ম্যাচে বিঘ্ন ঘটেছে। ফিলাডেলফিয়ায় ফ্রান্স ও ইরাক এর মধ্যকার ম্যাচ বজ্র ঝড়ের শঙ্কায় বিরতির পর সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। প্রথমার্ধ শেষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ফ্রান্স, কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর আগে আয়োজকরা নিশ্চিত করেন, স্টেডিয়ামের আশপাশে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে খেলা নির্ধারিত সময়ে শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। এরপর দর্শকদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে এমন দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, বজ্রঝড় বা খারাপ আবহাওয়ার কারণে ম্যাচ বন্ধ হলে নিয়ম কী বলে? ম্যাচ কি বাতিলও হতে পারে?

কেন বন্ধ করা হলো ম্যাচ?

যুক্তরাষ্ট্রে খেলাধুলার ইভেন্টে বজ্রপাত ও ঝড়সংক্রান্ত নিরাপত্তা বিধি অত্যন্ত কঠোর। স্টেডিয়ামের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে বজ্রপাত শনাক্ত হলে খেলা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি থাকে না।

ফিলাডেলফিয়ায়ও সেই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। আবহাওয়ার ঝুঁকি দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্বিতীয়ার্ধ স্থগিত করা হয়। দর্শকদের গ্যালারি ছাড়তে বলা হয় এবং মাঠ খালি করে দেওয়া হয়।

মূল লক্ষ্য একটাই, খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বজ্রপাত হলে নিয়ম কী?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের প্রায় ৮ মাইল বা ১৩ কিলোমিটারের মধ্যে বজ্রপাত শনাক্ত হলে ম্যাচ স্থগিত রাখা বাধ্যতামূলক।

এমন পরিস্থিতিতে:

খেলা পুনরায় শুরু করার আগে অন্তত ৩০ মিনিট ধরে নতুন কোনো বজ্রপাত না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়। এই সময়ের মধ্যে আবার বজ্রপাত হলে অপেক্ষার সময় নতুন করে গণনা শুরু হয়। অর্থাৎ ঝড় দীর্ঘস্থায়ী হলে ম্যাচও দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকতে পারে।

ম্যাচ কি বাতিল হতে পারে?

ফিফার নিয়মে খেলা স্থগিত রাখার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। এর অর্থ হলো, পরিস্থিতি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত ম্যাচ ঘণ্টার পর ঘণ্টা পিছিয়ে যেতে পারে। তবে কখন ম্যাচ সম্পূর্ণ বাতিল করা হবে, সে বিষয়ে প্রতিটি ঘটনার ভিত্তিতে আলাদা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ম্যাচ বাতিল করা আয়োজকদের জন্য শেষ বিকল্প। কারণ একটি ম্যাচ পিছিয়ে গেলে পুরো সূচিতে প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত একই গ্রুপের শেষ ম্যাচগুলো একসঙ্গে শুরু হয়, যাতে কোনো দল আগে থেকে অন্য ম্যাচের ফল জেনে সুবিধা নিতে না পারে। আবহাওয়ার কারণে কোনো ম্যাচ বিলম্বিত হলে সেই ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে এমন ঘটনা নতুন নয়

গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপেও একাধিক ম্যাচ আবহাওয়ার কারণে বিঘ্নিত হয়েছিল। চেলসি ও বেনফিকার মধ্যকার একটি ম্যাচ ভয়াবহ আবহাওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি সম্পন্ন হতে চার ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছিল।

এ ছাড়া অকল্যান্ড সিটি ও বেনফিকার ম্যাচ দুই ঘণ্টা পিছিয়ে যায়। বোকা জুনিয়র্সের বিপক্ষে অকল্যান্ড সিটির আরেকটি ম্যাচও নির্ধারিত সময়ের ৪০ মিনিট পরে শুরু হয়েছিল। বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ড ও কোস্টারিকার একটি প্রস্তুতি ম্যাচও বজ্রঝড়ের শঙ্কায় এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমন ঘটনা কি আগে ঘটেছে?

বিশ্বকাপে আবহাওয়ার প্রভাব নতুন নয়, যদিও এমন ঘটনা খুবই বিরল। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানি ও পোল্যান্ডের সেমিফাইনালের আগে টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে মাঠ প্রায় জলমগ্ন হয়ে গিয়েছিল। সেই ম্যাচ নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায়।

তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফ্রান্স–ইরাক ম্যাচটি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ এবারই প্রথম টুর্নামেন্ট চলাকালে বজ্রঝড়ের কারণে সরাসরি ম্যাচ স্থগিত করতে হয়েছে।

ফিফার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

৪৮ দলের সম্প্রসারিত বিশ্বকাপে ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে, সূচিও আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যস্ত। ফলে আবহাওয়াজনিত যেকোনো বিঘ্ন আয়োজকদের জন্য বাড়তি মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।

ফ্রান্স, ইরাক ম্যাচ সাময়িকভাবে থেমে গেলেও ঘটনাটি মনে করিয়ে দিয়েছে, আধুনিক ফুটবলে প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা যতই উন্নত হোক, প্রকৃতির ওপর এখনো কারও নিয়ন্ত্রণ নেই।

Exit mobile version