বিশ্বকাপের নকআউটের রাজা জার্মানি । দরজায় কড়া নাড়ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের পর্দা উঠতে আর মাত্র ৪৯ দিন বাকি। এই উপলক্ষ্যে ফিফা প্রতিদিন একটি করে বিশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আজকের পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার অভিজ্ঞতায় ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে গেছে জার্মানি।
ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি নকআউট ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েছে জার্মানি। তারা খেলেছে মোট ৪৯টি ম্যাচ। এই তালিকায় দুই নম্বরে অবস্থান পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। ব্রাজিল তাদের চেয়ে দুটি আসর বেশি খেললেও তারা নকআউট ম্যাচ খেলেছে মোট ৪৪টি। বড় মঞ্চে স্নায়ুচাপ সামলে নকআউট পর্বে জার্মানির এই ধারাবাহিকতা তাদের নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়।
বিশ্বমঞ্চে পদক জয়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী জার্মানি
জার্মানি কেবল নকআউট ম্যাচই খেলেনি, পদক জয়ের ক্ষেত্রে তারা বিশ্বসেরা। বিশ্বমঞ্চে এখন পর্যন্ত মোট ১২টি মেডেল জিতেছে তারা। এর মধ্যে রয়েছে চারটি স্বর্ণ, চারটি রোপ্য এবং চারটি ব্রোঞ্জ। এখানেও তাদের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ব্রাজিল। তারা জিতেছে নয়টি। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং সাবেক চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স মিলিয়ে জিতেছে কেবল ১২টি পদক।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে জার্মানি একমাত্র দেশ হিসেবে টানা চারটি আসরে শীর্ষ তিনে থেকে শেষ করেছে। ২০০২ সালে রানার্স-আপ, ২০০৬ ও ২০১০ সালে তৃতীয় স্থান এবং ২০১৪ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের অদম্য শক্তির প্রমাণ দিয়েছিল।
প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় এই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। তাই এর আগে ৩২ দলের মেগা আসরের চেয়ে এবার প্রাইজমানি বেড়েছে। ২০২২ বিশ্বকাপের চেয়ে এবার প্রাইজমানি ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করতে সম্মত হয়েছে ফিফা। ফলে এবার ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা হবে ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা প্রায় ৭৯৯৯ কোটি টাকা।
আগের তুলনায় বেড়েছে ১৬টি দল, দলগুলো বিশ্বকাপে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে প্রাইজমানি পাবে। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫ কোটি ডলার (৬১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা)। রানার্সআপ দল পাবে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার (প্রায় ৪০৩ কোটি টাকা)। এর আগে সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপে শিরোপাজয়ী আর্জেন্টিনা ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার এবং রানার্সআপ ফ্রান্সকে ৩ কোটি ডলার দেওয়া হয়েছিল।
রেকর্ড প্রাইজমানির বিশ্বকাপ:
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের মোট প্রাইজমানি ছিল ৪৪ কোটি ডলার। ২০২৬ আসরে তা ২১ কোটি ৫০ লাখ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া চ্যাম্পিয়নদের জন্য ৮০ লাখ এবং রানার্সআপ দলের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে ৩০ লাখ ডলার। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার ১৬ ভেন্যুতে বিশ্বকাপের মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৬ আগামী ১১ জুন শুরু হয়ে টুর্নামেন্ট চলচে ১৯ জুলাই পর্যন্ত।
বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করার পরই ৪৮ দল নিজেদের অর্থপুরস্কার নিশ্চিত করেছে। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করা প্রতিটি দল কমপক্ষে এক কোটি ৫ লাখ ডলার পাওয়া নিশ্চিত। গ্রুপ পর্ব পেরোতে ব্যর্থ দলগুলোকে ৯০ লাখ ডলার করে দেওয়া হবে। অতিরিক্ত ১৫ লাখ ডলার করে পাবে প্রস্তুতিমূলক ব্যয় হিসেবে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩





















