মেসির মতো আবেগঘন বিদায় হচ্ছে না রোনালদর!

জাতীয় দল থেকে এখনও বিদায় নেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বরং পর্তুগাল কোচ জর্জে জেসুসের সঙ্গে কয়েক দিনের টানাপোড়েনের পর দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে দেশের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার বার্তাই দিয়েছেন তিনি। তবে বয়স ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অনেকেই ধরে নিচ্ছেন, আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনালদোর শেষটা হয়তো খুব দূরে নয়। আর এমন তিক্ততায় ভরা বিদায় মানতে পারছেন না ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক গ্যারি লিনেকার।

মঙ্গলবার প্রায় দুই হাজার শব্দের বিবৃতিতে জেসুসের বিরুদ্ধে ‘ওয়াদা ভঙ্গের’ অভিযোগ তোলেন রোনালদো। কোচের প্রতি তাঁর ক্ষোভও প্রকাশ পেয়েছে সেখানে। এর কয়েক ঘণ্টা পরই আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আইরেসে বসে লিওনেল মেসির বিদায়ী আয়োজন।

দেশের মাঠে জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবারের মতো খেলতে নেমে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে একটি গোল করেন মেসি, করান আরও দুটি। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত মেসির চোখে ছিল জল। তাঁকে বিদায় জানাতে কান্নায় ভেঙে পড়েন হাজারো সমর্থকও।

গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মেসি-রোনালদোর দ্বৈরথ। ব্যক্তিগত ও দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁরা ফুটবলকে দিয়েছেন নতুন মাত্রা। তাই ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে দুজনের এমন ভিন্ন বিদায় লিনেকারের কাছে দুঃখজনক।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে রেকর্ড ১৪৬ গোল করা রোনালদোরও এমন বিদায় প্রাপ্য ছিল বলে মনে করেন সাবেক এই ইংলিশ তারকা। তাঁর ভাষায়, ‘এটা দুঃখজনক। অসাধারণ একটি ক্যারিয়ার তাঁর। পাঁচ-দশ বছর পর কেউ এই ঘটনা মনে রাখবে না। আমরা শুধু মনে রাখব, সে কতটা দুর্দান্ত খেলোয়াড় ছিল। মেসির বিদায়ী আয়োজনের দিকে তাকালে দেখবেন, সবকিছু কত সুন্দর ছিল। আমার মতে, ক্রিশ্চিয়ানোরও একইরকম প্রাপ্য।’

রোনালদোর সঙ্গে জেসুসের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয় সাম্প্রতিক কয়েকটি ম্যাচ ঘিরে। ওয়েলসের বিপক্ষে একাধিক সুযোগ নষ্ট করার পর নরওয়ের বিপক্ষে তাঁকে শুরুতে বেঞ্চে রাখা হয়। পরে তাঁকে ৩০ মিনিট খেলানোর কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামানো হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হন রোনালদো।

পরে কোচের সঙ্গে আলোচনায় কিছু শর্ত দেন তিনি। রোনালদোর দাবি, জেসুস কথা দিয়েও সেসব শর্ত পূরণ করেননি। এরপর ডেনমার্ক ম্যাচের আগের দিন জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান তিনি।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে ৪২ বছরে পা দেবেন রোনালদো। ফলে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষটা কতটা দূরে, সেই প্রশ্ন উঠছেই। পর্তুগালের জার্সিতে তাঁর শেষ অধ্যায়টা তাই মেসির মতো আবেগঘন হবে কি না, সেটিই এখন দেখার।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles