নাইট ক্লাব কাণ্ডে বাতিল হচ্ছে দুই ফুটবলারের ক্রীড়া ভাতা

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ফুটবল দলের বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর এবার নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে দুই ফুটবলার সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানা জুনিয়র। ম্যাচের পর তারা নাইট ক্লাবে গিয়েছিলেন, এমন অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিষয়টি নিয়ে এবার আনুষ্ঠানিক তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দুই ফুটবলারের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে তারা যদি সরকারি ক্রীড়া ভাতার আওতায় থাকেন, তাহলে সেই ভাতাও বাতিল করার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। রোববার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারের সভাকক্ষে এশিয়ান গেমসে পদকজয়ী উশু খেলোয়াড় জিন্নাত আক্তারকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

ফিফা আসিয়ান কাপে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিকদের কাছে ৯-২ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ। বড় ব্যবধানে এই পরাজয়ের পর থেকেই জাতীয় ফুটবল দলকে ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়।

এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই ফুটবলারের নাইট ক্লাবে অবস্থানের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পরের বলে দাবি করা হলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। সমর্থকদের একটি অংশ এমন ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে জাতীয় দলের হয়ে বড় ব্যবধানে হারের পর খেলোয়াড়দের দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

তবে অভিযোগের মুখে থাকা দুই ফুটবলারের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি সাম্প্রতিক নয়। অর্থাৎ ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর তারা নাইট ক্লাবে যাননি বলেই দাবি করেছেন তারা।

ফলে ছবিটি আসলে কখন তোলা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া ম্যাচের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিযোগকে হালকাভাবে দেখা হচ্ছে না। বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত করা হবে। তিনি বলেন, জাতীয় দলের এমন হতাশাজনক ফলাফলের পর এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় তিনি হতাশ। একই সঙ্গে দলের সঙ্গে সে সময় কারা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন, তাদের ভূমিকা নিয়েও খতিয়ে দেখা হবে।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ফুটবলারদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু খেলোয়াড়দের আচরণ নয়, পুরো ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় থাকবে।

বাতিল হতে পারে ক্রীড়া ভাতা

অভিযোগ প্রমাণিত হলে সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে ক্রীড়া ভাতা বাতিলের বিষয়টিও উঠে এসেছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত খেলোয়াড়রা যদি সরকারি ক্রীড়া ভাতার আওতায় থাকেন, তাহলে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর সেই সুবিধা বাতিল করা হতে পারে।

তবে ভাতা বাতিলের আগে তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করার ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবির ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক কোনো শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না।

ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতির সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বাফুফে সভাপতি বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি দেশে ফেরার পর বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা করা হবে।

ইতোমধ্যে এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়েছে। কমিটি অভিযোগের পাশাপাশি দলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা পর্যালোচনা করবে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে, শুধু দুই খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করাই নয়, এত বড় পরাজয়ের পর এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পেছনে কোনো ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা ছিল কি না, সেটিও দেখা হবে।

পুরো বিতর্কের মূল প্রশ্ন এখন ছবিটির সময়কাল নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে দাবি করেন, ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর দুই ফুটবলার নাইট ক্লাবে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে খেলোয়াড়দের দাবি, ছবিটি পুরোনো এবং ম্যাচ-পরবর্তী সময়ের নয়। ফলে ছবি ছড়িয়ে পড়া এবং অভিযোগ ওঠার মধ্য দিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটির প্রকৃত সত্যতা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত যাচাই করলে এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে। অভিযোগ সত্য হলে এক ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর অভিযোগের প্রমাণ না মিললে দুই ফুটবলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নও থাকবে না।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles