এশিয়ান প্যারা গেমসের ১০০ দিনের কাউন্টডাউন, প্রস্তুত জাপানের আইচি-নাগোয়া

জাপানে বসতে যাচ্ছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় প্যারা ক্রীড়ার আসর। আইচি-নাগোয়া ২০২৬ এশিয়ান প্যারা গেমসের আর মাত্র ১০০ দিন বাকি। এই মাইলফলক উদযাপন উপলক্ষে চলতি সপ্তাহে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে আসরটির আয়োজক কমিটি।

আগামী ১৮ থেকে ২৪ অক্টোবর জাপানের আইচি প্রিফেকচার ও নাগোয়া শহরে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান প্যারা গেমসের এই আসর। এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন এশিয়ার ৪৫টি জাতীয় প্যারালিম্পিক কমিটির প্রায় ৩ হাজার অ্যাথলেট। মোট ১৮টি প্যারা স্পোর্টসে হবে পদকের লড়াই।

১০০ দিনের কাউন্টডাউন অনুষ্ঠানে আইচি-নাগোয়া আয়োজক কমিটির পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন আইচি প্রিফেকচার, নাগোয়া শহর এবং বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। এশিয়ান প্যারালিম্পিক কমিটির একটি প্রতিনিধিদলও অংশ নেয় অনুষ্ঠানে।

অনুষ্ঠানে উন্মোচন করা হয়েছে এবারের আসরের পদক। একই সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে গেমসের মশাল এবং মশাল রিলে অনুষ্ঠানের পোশাকের নকশাও।

এবারের এশিয়ান প্যারা গেমসের মূলমন্ত্র ‘Imagine One Heart’। অর্থাৎ, ‘এক হৃদয় কল্পনা করো’। এই ভাবনাকেই সামনে রেখে তৈরি করা হয়েছে পদকের নকশা। আয়োজকদের মতে, ভিন্ন সংস্কৃতি ও পরিচয়ের মানুষকে খেলাধুলার মাধ্যমে একত্রিত হওয়ার প্রতীক হিসেবে পদকটি সাজানো হয়েছে।

পদকের নকশায় তুলে ধরা হয়েছে অ্যাথলেটদের কঠোর পরিশ্রম, দৃঢ়তা ও সাফল্যের পথে তাদের অবিচল যাত্রা। অন্যদিকে মশাল রিলে অনুষ্ঠানের পোশাকেও রাখা হয়েছে ঐক্য, সংযোগ ও আশার বার্তা। অ্যাথলেট, স্বেচ্ছাসেবক, কর্মকর্তা ও দর্শকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের প্রতীক হিসেবেই পোশাকটির নকশা করা হয়েছে।

পদকজয়ীদের জন্য থাকছে বিশেষ স্মারক উপহারও। গেমসের মাসকট উজুমিনকে কেন্দ্র করে তৈরি এই উপহার দেওয়া হবে সোনা, রুপা ও ব্রোঞ্জজয়ীদের।

১০০ দিনের কাউন্টডাউন অনুষ্ঠানে এশিয়ান প্যারালিম্পিক কমিটির সভাপতি মাজিদ রাশেদ বলেন, এশিয়ার সবচেয়ে বড় প্যারা ক্রীড়া আয়োজনের আর মাত্র ১০০ দিন বাকি। তার মতে, এখন শুরু হয়েছে চূড়ান্ত প্রস্তুতির সময় এবং খুব শিগগিরই বিশ্বের নজর থাকবে জাপানের আইচি-নাগোয়ার দিকে।

এই আসরের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, গেমসের সাফল্য শুধু পদক বা রেকর্ড দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। বরং সমাজে প্রতিবন্ধী ও অপ্রতিবন্ধী মানুষের মধ্যে সমান মর্যাদা, সম্মান এবং সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই আয়োজনের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ।

মাজিদ রাশেদের আশা, আইচি-নাগোয়া এশিয়ান প্যারা গেমস জাপানসহ পুরো এশিয়ায় আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের একটি শক্তিশালী উদাহরণ হয়ে থাকবে।

এশিয়ান প্যারালিম্পিক কমিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক সোয়েইও আয়োজকদের প্রস্তুতির প্রশংসা করেছেন। তার মতে, এশিয়ান প্যারা গেমস শুধু প্রতিযোগিতা নয়; এটি সাহস, মানসিক শক্তি ও অন্তর্ভুক্তির উদযাপন।

আয়োজন সফল করতে আইচি প্রিফেকচার ও নাগোয়া শহরের কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় মানুষের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। আগামী ১০০ দিনে আয়োজক কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিটি প্রস্তুতি আরও নিখুঁত করার প্রত্যয়ও জানিয়েছে এশিয়ান প্যারালিম্পিক কমিটি।

২০২০ টোকিও অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকের পর জাপানে এটি হতে যাচ্ছে অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক বহু-ক্রীড়া আয়োজন। ফলে দেশটির জন্যও আইচি-নাগোয়া ২০২৬ এশিয়ান প্যারা গেমসের গুরুত্ব অনেক।

আগামী ১৮ অক্টোবর উদ্বোধনের পর ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে প্রতিযোগিতা। ১৮টি প্যারা স্পোর্টসে লড়াই করবেন প্রায় ৩ হাজার অ্যাথলেট। ৪৫টি জাতীয় প্যারালিম্পিক কমিটির অংশগ্রহণে এই আসর হয়ে উঠবে এশিয়ার প্যারা ক্রীড়াবিদদের সবচেয়ে বড় মিলনমেলা।

১০০ দিনের কাউন্টডাউন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আয়োজকরা। লক্ষ্য একটাই, অ্যাথলেটদের জন্য নিরাপদ, সহজলভ্য, টেকসই এবং ক্রীড়াবান্ধব একটি আসর উপহার দেওয়া।

১৮ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর, আইচি-নাগোয়া এশিয়ান প্যারা গেমস ২০২৬। ১৮টি ডিসিপ্লিন, প্রায় ৩ হাজার অ্যাথলেট আর ৪৫টি দেশের অংশগ্রহণে জাপানে বসতে যাচ্ছে এশিয়ার প্যারা ক্রীড়ার সবচেয়ে বড় মঞ্চ।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles